‘বাংলার বাঘিনী’ হিটে প্রথম


542 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘বাংলার বাঘিনী’ হিটে প্রথম
আগস্ট ২০, ২০১৬ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
গলফে ৫৮তম হয়ে শেষ করেছেন সিদ্দিকুর রহমান। আর ১৪ আগস্ট তার ইভেন্ট দিয়েই এবারের অলিম্পিক–যাত্রা শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। তাই বলে, ভাববেন না অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো বাংলাদেশের আর কেউ নেই! শুক্রবার অলিম্পিক অ্যারেনায় রিদমিক জিমন্যাস্টিকসেই অংশ নিয়েছেন এক ‘বাংলাদেশি’ কন্যা। নাম মার্গারিটা মামুন রিটা। আর নিজের হিটে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের এরই নাম্বার ওয়ান জিমন্যাস্টিক। একটু অবাক হলেন নিশ্চই! কেননা সিদ্দিকুর রহমানের ইভেন্ট দিয়েই তো বাংলাদেশের অলিম্পিকের মিশন শেষ হয়েছে। তাহলে এই মার্গারিটা আবার কে?

মার্গারিটা মামুন রিটা মানুষ আসলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাশিয়ান। ‘বাংলার বাঘিনী’ খ্যাত রিটার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুন রাজশাহীর সন্তান। তিনি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার ডিগ্রিধারী। মা আন্না রাশিয়ান। তারা এখন সপরিবারে রাশিয়াতেই থাকেন। তার মা সাবেক রিদমিক জিমন্যাস্ট, তার হাত ধরেই এই খেলায় হাতেখড়ি রিটার। পরে সেখান থেকে এ বছর প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন তিনি। অথচ একটু এদিক-ওদিক হলেই বাংলাদেশের হয়েও অলিম্পিকে অংশ নিতে পারতেন এই জিমন্যাস্ট। এমনকি জুনিয়র লেভেলে কিছুদিন তিনি খেলেছেন বাংলাদেশের হয়েও। তবে সিনিয়র লেভেলে ফিরে যান রাশিয়ায়।

২০১৫ মস্কো গ্রাঁ প্রিঁ-তে অল-রাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণ জয় করা রিটা অলিম্পিকের এবারের আসরে নিজের চার ইভেন্ট হুপে ১৮.৮৩৩, বলে ১৯.০০০, ক্লাবে ১৭.৫০০ ও রিবনে ১৯.০৫০ একক অলরাউন্ডে মোট ৭৪.৩৮৩ পয়েন্ট পেয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আরেক রাশিয়ান আনা কুদ্রায়াতেভা। তার মোট পয়েন্ট ৭৩.৯৩২।

গত কয়েক বছরে এই অঙ্গনে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন রিটা। এর মধ্যে জিতেছেন রাশিয়ার রিদমিক জিমন্যাস্ট দলের প্রধান কোচের মনও। আর তাই তো সে কোচ রিটার নাম দিয়েছেন ‘দ্য বেঙ্গল টাইগ্রেস’ বা ‘বাংলার বাঘিনী’। তার এই বিশেষ নামটি আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায়, সঙ্গে উইকিপিডিয়াতেও।

রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন রিটা। ২০১৬ বাকু বিশ্বকাপে চারটি ইভেন্টে মোট ৭৭.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। বাংলাদেশের হয়েই গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ মাতানোর কথা ছিল তার। কিন্তু নানা জটিলতায় সেটি আর সম্ভব হয়নি, তবে অদম্য এই নারী ঠিকই অলিম্পিক মাতাচ্ছেন।