বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমান বন্দর ২০১৮ সালের মধ্যে পূর্নাঙ্গ নির্মানে অনিশ্চিত


1938 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমান বন্দর  ২০১৮ সালের মধ্যে পূর্নাঙ্গ নির্মানে অনিশ্চিত
মে ১৬, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট :
জাতীয় অর্থনৈতিক  পরিষদ একনেক এ বাগেরহাটের দক্ষিণাঞ্চল বাসীর স্বপ্নের খানজাহান আলী বিমান বন্দর  নির্মান প্রকল্প অনুমোদনের  পর এক বছর পার হলেও কার্যত শুরু হয়নি দৃশ্যমান কোন কাজ। ২০১৫ সালে জুলাই মাসে কাজ শুরু হবার কথা থাকলেও, স্থানীয় সংসদ সদস্যের আন্তরিক সহযোগির অভাবে পূর্নাঙ্গ বিমান বন্দর নির্মান কাজটি শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ২০১৫ সালের ৫মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই বিমান বন্দর প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে ৮০ ভাগ টাকা ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তহবিল থেকে ব্যয় হবে বাকি ২০ ভাগ টাকা।

তবে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের এক বছর পার হলেও নিয়োগ করা হয়নি প্রকল্পটির পিডি। বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলমের কাছে খানজাহান বিমান বন্দর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুরুতেই ৯৭ একর জমি নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) শুরু করলেও পরবর্তীতে বিমান কর্তৃপক্ষ ৫শ ৩৬ একর জমি অধিগ্রহনের একটি প্রস্তাবনা দিলে সরেজমিন পরিদর্শন  ও ভূমি জরিপ করে কর্তৃপক্ষ খুলনা-মংলা মহাসড়ক ও প্রস্তাবিত খুলনা-মংলা রেল লাইনটি ঐ জমির মধ্যে  বিদ্যমান থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায় । পরবর্তিতে বিমান কর্তৃপক্ষ সংশোধীত খসড়া প্রস্তাবে ১ হাজার ৩৭ একর জমি অধিগ্রহনের প্রস্তাবনা দিলে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সরেজমিনে মাঠ পর্যায়ে জরিপ কাজ করতে গেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক বর্তমান অধিগ্রহনকৃত জমির উত্তর-পূর্ব দিকে সরে জমি অধিগ্রহনের নির্দেশ দেন। অন্যথায়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনকে তিনি কোন সহযোগীতা করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। বিষয়টি ঢাকাতে আন্তঃ মন্ত্রনালয়ের সভায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জেলা প্রশাসক জানান।
ইতিপূর্বে বিমান বন্দরের সম্ভাবতা যাচাইয়ে ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঘটনা স্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এই বিমান বন্দরটির নির্মান কাজ শেষ হলে ওয়ার্ল্ড হ্যরিটেজ সুন্দরবনের ইকো ট্যুরিজম, হযরত খানজাহানের মাজার, ও ষাটগুম্বজ মসজিদের পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশ ও দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা আরও গতিশীলসহ নির্মানাধীন পদ্মা সেতুর পাশাপাশি অবহেলিত দক্ষিঞ্চালের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখবে বলে পরিকল্পপনা মন্ত্রনালয় ও বেবিচক সূত্র দাবী করেছে।

স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে তৎকালিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএসএম মোস্তাফিজুর রহমানের একক প্রচেষ্টায় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লায় মংলা-মাওয়া-ঢাকা মহাসড়কের পাশে হযরত খানজাহান আলীর (র:) নামে  বিমান বন্দর নির্মানের সিদ্ধান্ত  গ্রহন করে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে অধিগ্রহন করা হয় ৯৪ একর জমি। বাগেরহাট খানজাহান বিমান বন্দরের অধিগ্রহণকৃত ৯৪ একর জমি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে হন্তান্তর করা হয়। ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাগেরহাট খানজাহান আলী বিমান বন্দরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। বিগত ১৯৯৭ সালে শুরু হয় বিমান বন্দরের মাটি ভরাটের কাজ। প্রায় ২৪ কোটি টাকায় আংশিক মাটি ভরাট করা ছাড়া তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খানজাহান বিমান বন্দর নির্মানে আর কিছুই তখন করা হয়নি।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্পে আবার শুরু হয় মাটি ভরাটের কাজ। এক পর্যায়ে অর্থ বরাদ্দের অভাবে কয়েক মাসের মধ্যে তাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর খানজাহান বিমান বন্দর প্রকল্পের আর কোন কাজ হয়নি। এ অবস্থার ২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বাগেরহাটের ফয়লায় বিমান বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। তখন তিনি খানজাহান বিমান বন্দর নির্মাণের প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। এরপর বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রনালয় ২০১৩ সালের এপ্রিলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের  সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দেয়। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে কুয়েট বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে বিমান বন্দর নির্মাণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে দ্রুত এই বিমান বন্দর নির্মানে প্রথম ধাপে ছোট বিমান ওঠা-নামার জন্য  ২৫০ কোটি টাকা ও  দ্বিতীয় ধাপে পূর্ণাঙ্গ বিমান বন্দর নির্মাণের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রন্তাব করা হয়। কুয়েট বিশেষজ্ঞদের এ’দুটি প্রস্তাবনার বিষয়টি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রনালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়কে অবহিত করে। পরে এ দু’টি প্রন্তাবনা একিভূত করে পূর্নাঙ্গ বিমান বন্দর নির্মান প্রকল্প তৈরী করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই বিমান বন্দরটি নির্মানে ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প তৈরী করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয় এর পর ২০১৫ সালের ৫মে একনেকের সভায় অনুমোদিত হয়। সে সময়  খানজাহান বিমান বন্দর প্রকল্পটি বান্তবায়ন করতে আরও ১৫০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে তিন বছরের মধ্যে  অর্থাৎ ২০১৮ সালের মধ্যে এই বিমান বন্দরটি নির্মাণ কাজ বান্তবায়ন করার কথা রয়েছে । পরবর্তীতে  বিমান কর্তৃপক্ষ  ১হাজার ৩৭ একর  জমি অধিগ্রহনের প্রস্তাবনা দিয়েছে  যা এখনো চুড়ান্ত ভাবে নিষ্পত্তি হযনি । এ অবস্থায়  প্রকল্পটি যথা সময়ে শেষ হবে কিনা  সে বিষয় রয়েছে  নানা সংশয় ।অপরদিকে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বিষয়ে আন্তরিক। এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য তিনি মাওয়া সেতু নির্মাণ, মংলা বন্দরের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ প¬ান্ট স্থাপন, সুন্দরবন বিদেশী পর্যটক আকৃষ্ট করতে নিয়েছেন নানান পরিকল্পনা। সাথে খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণের বিষয়েও আন্তরিক। তবে খানজাহান আলী বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তা নির্মাণ করলে এ অঞ্চলের উন্নয়নে যুগান্তকারী ঘটনা ঘটবে। জেলা আ’লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মকান্ডের প্রমাণিত হয় তিনি দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়নে আন্তরিক। খুব দ্রুত থোক বরাদ্দ দিয়ে খানজাহান আলী বিমান বন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তবে এই সাথে বিমান বন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ঘোষণা দিলে এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি তার ভালবাসা চির জাগ্রত হিসেবে থাকবে।###