বাগেরহাট সংবাদ ॥ খোলা আকাশের নীচে চলছে শিশুদের ক্লাস


335 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাগেরহাট সংবাদ ॥ খোলা আকাশের নীচে চলছে শিশুদের ক্লাস
জানুয়ারি ১৭, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট অফিস  : যে সময়ে শিক্ষাখাতে সরকারের উচ্চতর বাজেট, শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, বিদ্যালয়ের প্রতিটি অবকাঠামো নির্মানে অত্যন্ত আন্তরিক ঠিক সেই মুহুর্তে কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলাধীণ গরীবপুর চরবানিয়ারী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে খোলা আকাশের নীচে। এ বিষয়টি সকলকে অবাক করলেও বাস্তব ঘটনাটি সরেজমিনে জানা গেছে, বৃটিশ সরকারের আমলে নির্মিত এ ভবনটি স্থানীয় তহশীল অফিস হিসাবে ব্যবহার করা হতো। পরবর্তী ১৯৪৫ সালে এই ভবনে শুরু করা হয় গরীবপুর চরবানিয়ারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বর্তমানে মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। কয়েক যুগ পেরিয়ে আসা এবং বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া ভবনটি ২০১৫ সালে ঝঁকিপূর্ণ হিসাবে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন চিতলমারী উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি), ওই সাল থেকেই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নীচেই ক্লাস করে চলেছে। বিভিন্ন সময় প্রচন্ড রোদে ঘেমে ক্লান্ত হয়ে পড়ার কারনে পার্শ্ববর্তী একটি মন্দিরেও বিশ্রাম নিতে হয় তাদের। এরূপ কষ্টের মধ্যে দেড়শতাধিক শিক্ষার্থীকে শিক্ষাগ্রহন করতে হলেও এখানে শিক্ষার মান ভালো হবার কারনে অভিভাবক মহল তাদের ছেলে-মেয়েদের অন্য কোন স্কুলে দেননি। শিক্ষার মান ভালো হওয়ার কারনে উপজেলার একমাত্র মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে এ বিদ্যালয়টিকেই ঘোষণা করা হয়। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালো নয়। প্রত্যন্ত এলাকা পেরিয়ে ইটের সোলিং রাস্তায় পায়ে হেঁটে শিক্ষার্থীদের আসতে হয় বিদ্যালয়ে। এখানে পায়নি বিদ্যুতের ছোঁয়া। ১৯৯৫ সালে ওপেক নির্মিত বিদ্যালয় সংলগ্ন ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি সাইক্লোন সেন্টার ভবন নির্মাণ করা হয়। যে ভবনটিতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অফিস, গোডাউন ও অবশিষ্ট জায়গায় স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ক্লাস করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। অপর দিকে রয়েছে শিক্ষক সংকট। সূত্রমতে জানা গেছে, বিভিন্ন উপজেলায় মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য কমপক্ষে ৮ জন শিক্ষক আবশ্যক। সে তুলনায় অত্র বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ৫ জন। ছেলে-মেয়েদের বসবার জন্য বেঞ্চেরও ঘাটতি রয়েছে। উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীর জনপদে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন, শিক্ষানুরাগী ও সাধারণ জনসমাজের প্রাণের দাবী হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এতটুকু চাওয়া, তাহলো দ্রুততর মূল ভবনটি নির্মাণ করে কোমলমতি শিশুদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা গ্রহন করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া এবং তাদের ক্লান্তির অবসান ঘটানো। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও গরীবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধাণ শিক্ষক কিশোর কুমার বালা বলেন, মূল ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণার পর থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা খোলা আকাশের নীচে এভাবেই ক্লাস করছে। রোদের তাপে তারা ঘামিয়ে যায়, ক্লান্ত হয়ে পড়ে কিন্তু দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছু করার থাকেনা। তিনি আরো বলেন, ভবনটি নির্মাণের জন্য আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। তাদের সুপারিশ নিয়ে তা প্রধাণ প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর,এলজিইডি, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭ এ প্রেরণ করেছি। কিন্তু কোন সুফল বয়ে আসেনি। বিদ্যালয়ের প্রধাণ শিক্ষিকা বলেন, শিক্ষার্থীদের কষ্ট দেখে আমাদেরও কষ্ট লাগে কিন্তু কি করবো আমরা তো চাকুরী করি তাই অনেকটা চিন্তা-ভাবনা করে চলতে হয়। তবুও বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো দরকার আমরা নিয়মিত জানিয়ে যাচ্ছি।

বাগেরহাটে  ভূমি দস্যুর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট অফিস  : বাগেরহাটে মোল্লাহাটে উপজেলার সারুলিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর শরীফ গং দের পৈত্রিক একখন্ড জমি একই গ্রামের কুখ্যাত ভূমি দস্যু আজিম শেখ স্থানীয় রাঘব বোয়ালদের ম্যানেজ করে জবর দখলের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে প্রকাশ উপজেলার সারুলিয়া বারইগাতী মৌজার এস,এ ৬৯ নং খতিয়ানে ২৮৭, ২৮৮ দাগের ১.৫৭ একর জমি পৈত্রিক সূত্রে কয়েকযুগ ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী গং শান্তিপূর্ণ ভোগ দখল করে আসছেন। সম্প্রতি ভূমি দস্যু আজিম শেখ স্থানীয় রাঘব বোয়ালদের প্রভাবিত করে উক্ত জমি জবর দখলের পায়তারা করে চলেছেন। ঐ ঘটনায় স্থানীয় শান্তিপ্রিয় মানুষেরা হতবাক হয়েছেন। মামলা হামলা ও খুন জখমের ভয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার আতংকের ভিতর দিয়ে দিন যাপন করছেন। এলাকাবাসী জানায় ভূমি দস্যু আজিম শেখ ইতি পূর্বে এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। স্বচেতন মহলের মতে সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

বাগেরহাটে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ট্রলার ডুবি

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট অফিস  : বাগেরহাটে দড়াটানা নদীতে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার র াতে বাগেরহাট-মোড়েলগঞ্জ নৌরুটের দড়াটানা নদীর দোয়ানির খালএলাকায় এই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। তবে যাত্রীরা সবাই সাঁতরে নদীর পাড়ে উঠেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলার ও মালামাল হেফাজতে নেয়।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেলে  অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি বাগেরহাট দড়াটানা ব্রিজের নিচ থেকে ছেড়ে মোড়েলগঞ্জের ডেউয়াতলার উদ্দেশে যাচ্ছিল। ছেড়ে যাওয়া ট্রলারটি অতিরিক্ত বোঝাই থাকায় দোয়ানিখাল এলাকায় এসে ট্রলারটি একপাশে কাত হয়ে পানিতে তলিয়ে যাএ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের যাত্রীরা সাঁতরে নদীর দু’পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি নদীর চরে টেনে আনা হয়। তবে ট্রলারের মালিক খোকন হাওলাদার ও চালক পালিয়ে গেছেন।বাগেরহাটের বেমরতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ জহিরুল ইসলাম মিঠু জানান, ট্রলার ডুবির খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন নিয়ে অন্য দুই ট্রলারের সহায়তায় নারী পুরুষসহ প্রায় ৪০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ আছে কিনা তা নিশ্চিত করে কেউ জানাতে পারেনি।বাগেরহাট মডেল থানার এসআই কামরুল ইসলাম ট্রলার ডুবির ঘটনায় কোনো যাত্রী নিখোঁজ নেই বলে জানিয়েছেন।