বাগেরহাট সংবাদ ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় ১৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি কিশোরমেহেদী হাসান


503 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাগেরহাট সংবাদ ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় ১৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি কিশোরমেহেদী হাসান
আগস্ট ১২, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এসএসম সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট :
বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে নিখোঁজ হওয়া কিশোরের সন্ধান ১৭ দিনেও কোন কুল কিনারা করতে পারেনি থানা পুলিশ।
জিডি ও পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, গত ২৬শে জুলাই মেহেদী হাসান (১৫) নামের এক কিশোর স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওয়ানা হয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। নিখোঁজ কিশোর উপজেলার গোলবুনিয়া গ্রামের স্বপন মোললার ছেলে। এবং রায়েন্দা মডেল হাইস্কুলের নবম শ্রেনীর একজন নিয়মিত ছাত্র বলে জানা গেছে। কিশোরের পিতা স্বপন জানান, প্রতিদিনের মত সেদিনও বাড়ি থেকে বই নিয়ে স্কুলে যায়। পরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে মেহেদী বাড়ি না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। চারিদিকে শুরু হয় খোঁজা খুঁজি স্বজনের বাড়ি সহ তার ছেলের যাওয়ার মত সব জায়গায় খূজেও কোন হদিস পায়নি। তিনি আরও জানান, অত্যন্ত আদরের এই ছেলে। কোন দিনও আমার অবাধ্য হয়নি। সে হয়তোবা কোন পাচারকারী চক্রের কবলে পড়েছে। আজ ১৭ দিনেও পুলিশ তার ছেলের উদ্ধারের কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনতি বিলম্বে তিনি তার ছেলেকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে আন্তরিক হওয়ার দাবী জানান। এ ব্যাপারে তার বাবা শরণখোলা থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। যার নং-২৫ তারিখ-০১-০৮-২০১৫ ইং। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, উদ্ধারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।
উললেখ্য যে, এলাকায় অপহরন ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটলেও থানা পুলিশের কাছে এর সঠিক কোন তথ্য নেই।

মোড়েলগঞ্জে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাট প্রতিনিধি :
প্রধান শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য ও নানাবিধ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সুহাসিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবীর রঞ্জন হালদারের বিরুদ্ধে বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরবন্ধু সরকার এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
অভিযোগে তিনি জানান, ২০০৯ সালে উপজেলার সুহাসিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরবন্ধু সরকার প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১০ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাাচিত হন। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এ পর্যšত ৬ জন শিক্ষক তিনি নিয়োগ প্রদান করেন। এসব নিয়োগকৃত শিক্ষকদের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম স্থান অধিকার না করা সত্ত্বেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ২০১৪ সালে সর্বশেষ সহকারী শিক্ষিকা (ইংরেজি)পদে সুবর্না চক্রবর্তীকে নিয়োগ দেয়া হয়। আর এ নিয়োগে প্রধান শিক্ষক আপত্তি ও ঘোর বিরোধিতা করলে সভাপতি তার প্রতি বিরাগ ভাজন হন এবং তাকে চাকুরী থেকে ই¯তফা দেয়ার জন্য হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করে। তার কাছ থেকে অলিখিত একাধিক রেজুলেশনে জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের জাল পেতে হয়রানির চেষ্টা চালায়। এতে অত্র বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ভাইপো হিসেবে খ্যাত অনুজ হালদার ও তার বাহিনী সভাপতির সহযোগী হিসেবে এাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। অনুজ হালদার দীর্ঘ ১৮-২০ বছর ধরে বিদ্যালয়ে না এসে তার খেয়াল খুশি মত ৩/৪ মাস পর পর বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে এবং যথারীতি বেতন ভাতা উত্তোলন করেন বলে প্রধান শিক্ষক জানান।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে  আরো জানান, সভাপতি প্রবীর রঞ্জন হালদার বিদ্যালয়ের সম্মুখের প্রায় ১৮-২০ টি মেহগনি গাছ জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন ছাড়াই কর্তন করে ২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন। এছাড়াও তিনি অত্র বিদ্যালয়ের সাইক্লোন সেল্টার কাম বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষ দখল করে রাখায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচেছ। এসব বিষয় প্রধান শিক্ষক বাদ পতিবাদ করায় ঘটনার দিন ২৭ জুলাই বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে কতিপয় দুস্কৃতকারী তার কক্ষে হুমকি ধামকি দেয়ায় তিনি তাদের ভয়ে পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়। এসময় সভাপতির ভাইপো অনুজ হালদার ও তার বাহিনী প্রধান শিক্ষক পরবন্ধু সরকারের উপর হামলা চালালে স্থানীয় মহিষপুরা ফাঁড়ি পুলিশের সহায়তায় জীবনে রক্ষা পায়। বর্তমানে তিনি এসব সন্ত্রাসীদের ভয়ে অসুস্থতা নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এসব দুর্বৃত্তদের ভয়ে তিনি বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন বরে জানান।   এ ব্যাপারে তিনি মোড়েলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রী করেন এবং সভাপতির অন্যায় ও অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আইনী সহায়তা পাবার জন্য জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের হ¯তক্ষেপ  কামনা পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।