বাগেরহাট সংবাদ ॥ বাগেরহাটে অন্তঃসত্তা গৃহবধুকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার !


314 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাগেরহাট সংবাদ ॥ বাগেরহাটে অন্তঃসত্তা গৃহবধুকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার !
নভেম্বর ১০, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এসএম সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট থেকে:
“আমি নিঁচু ঘরের মেয়ে, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে দাদা,  তুমি এসে আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাও। এই বলে ছোট ভাইয়ের কাছে শেষ আকুতি জানিয়েছিল মেধাবী কলেজ ছাত্রী নববধু সুষমা অধিকারী (২১) । কিন্তু মায়ের কাছে ফেরা হয় নি হতভাগী সুষমা’র।
নিঁচু বংশে জন্ম নেয়া, যেন আজন্মই পাপ হয়ে দেখা দেয় সুষমার জীবনে। যৌতুক লোভী স্বামীর পরিবারের লোকদের অমানুষিক নির্যাতনে বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে অন্তঃসত্তা অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। আর এই মৃত্যুকেই আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে সুষমার স্বামীর পরিবার। বাগেরহাট পুলিশ সুপার বরাবর নিহতের ভাই মৃদুল অধিকারীর দেয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ ও নিহতের ভাই সোমবার সন্ধ্যায় জানান, বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার বড়গাওলা গ্রামের মধুসুধন অধিকারীর মেয়ে মেধাবী কলেজ ছাত্রী সুষমা অধিকারীর (২১) সাথে ১৪ মে বাগেরহাট সদর উপজেলার লাউপালা এলাকার মূতঃ রনজিত দে’র ছেলে সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা মনোতোষ দে এর সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুষমা অধিকারী গোপালগঞ্জ সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজে ব্যবস্থাপনায় অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। অধিকারী বংশের ( সিডিউল কাষ্ট) মেয়ে এবং দে বংশের (কায়েস্থ পরিবার) ছেলে এ কারণে বিয়ের সময় যৌতুক হিসাবে মোটা অংকের নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র প্রদান করা হয়। বিয়ের কিছু দিন পর যৌতুকের দাবীতে স্বামী মনোতোষ দে, তার মা মায়া রানী দে ও ভাই মিঠুন দে সুষমা অধিকারীকে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করতে থাকে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেয়ে বিয়ে দিয়ে প্রায় সর্বস্বান্ত কৃষক মধুসুধন অধিকারী টাকা দিতে না পারায়, সুষমার উপর নির্যাতনের মাত্রা ক্রমে বাড়তে থাকে। নিরুপায় হয়ে একমাত্র মেয়ের হাসি মুখ দেখার জন্য বসত ভিটা থেকে ৩১ শতাংশ জমি বিক্রি করে দুই লক্ষ টাকা মটর সাইকেল কেনার জন্য জামাইয়ের হাতে তুলে দেন।  এতেও থেমে থাকেনি নির্যাতন। তারা আরো টাকা দাবী করতে থাকে। পাশাপাশি ছোট জাতের মেয়ে বলে প্রায়ই অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকে সুষমার স্বামীর পরিবারের লোকেরা।গত ৩ নভেম্বর দুপুরে ছোট ভাইয়ের কাছে ফোন করে নির্যাতনের কথা বলে কান্নাকাটি করে বলেছিল তাকে মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মায়ের কাছে ফেরা হয় নি হতভাগী সুষমা’র। এ দিনই বেলা আড়াইটায় তার পিতার বাড়িতে খবর দেয়া হয় সুষমা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।নিহতের ভাই মৃদুল অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, তারা বাগেরহাট সদর হাসপাতালে এসে শুধু তার বোনের লাশটি দেখেছেন। ঘটনার পর থেকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। এরপরও হত্যা মামলা না হয়ে, ব্যাংক কর্মকর্তা মনোতোষ দে প্রভাব খাটিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করান। বর্তমানে থানা পুলিশ বলছে ময়না তদন্ত রির্পোট পেলে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

এ হত্যা কন্ডের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রভাবশালীরা অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি  উল্লেখ করেন। তিনি প্রশাসনের উর্ধতন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
##

মংলায় ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ হতে কয়লা অপসারণের কাজ শুরু

এসএম সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট থেকে:
দীর্ঘ ১৪ দিন পর মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজ হতে কয়লা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। কয়লা উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই স্যালভেজ’র ম্যানেজার মাহাবুব হোসেন জানান, ডুবন্ত জাহাজটিতে থাকা প্রায় ৫শ ১০ মে: টন কয়লা তুলতে তাদের এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে। তবে কয়লা উত্তোলন হয়ে গেলেই জাহাজটি উদ্ধারে

কাজ শুরু করা হবে। পূর্ব সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর থেকে মালিক পক্ষের লোকজন কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে। তাদেরকে দ্রুত কয়লা ও জাহাজ উত্তোলনে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর বন্দর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া থেকে কয়লা বোঝাই করে এম,ভি জিয়ারাজ কার্গো জাহাজটি যশোরের নওয়াপাড়ায় যাওয়ার পথিমধ্যে পশুর নদীতে তলা ফেটে ডুবে যায়।