বাগেরহাট সংবাদ ॥ মোড়েলগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার পিতার ইন্তেকাল


369 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাগেরহাট সংবাদ ॥ মোড়েলগঞ্জে ছাত্রলীগ  নেতার পিতার ইন্তেকাল
সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস এম সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট :
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক একেএম রাসেল ইবনে মান্নান এর পিতা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা পুটিখালী ইউনিয়নের মঙ্গলেরহাট গ্রাম নিবাসী মাষ্টার আব্দুল মান্নান হাওলাদার (৬০) আজ সকাল ৭টায় ঢাকার আলরাজী হাসাপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালি¬লাহে ——-রাজিউন)। মৃত্যুকালে স্ত্রী , ১ ছেলে, ১ মেয়ে সহ বহু আত্মীয় স্বজন গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার জোহরবাদ জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন দেয়া হয়।
##
অস্তিত্ব সংকটে সুন্দরবন অঞ্চলের ২২টি নদী
বাগেরহাট প্রতিনিধি :
ফারাক্কার বাঁধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তিলে তিলে পলি পড়ে মরে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন অঞ্চলীয় ২২টি নদী। এগুলো হচ্ছে, মংলা, পুটিমারী, বিষনা, দাউদখালী,  ভোলা, ঘষিয়াখালী, কালিগঞ্চ-খোন্তাকাটা, রায়েন্দা, বলেশ্বর, ভৈরব, তালেশ্বরÑভাষা, বেমরতা-দোয়ানিয়া, কুচিবগা, ছবেকী, রাওতি, বেতিবুনিয়া, কলমী, দোয়ানিয়া, যুগীখালী, কুমারখালী, কালীগঙ্গা ও চিত্রানদী। এসব নদী এক সময়ে খরস্রতা নদী হিসাবে পরিচিত ছিল। নদীগুলোর প্রমত্তা যৌবন আজ পরিণত হয়েছে বিরাণ ভূমিতে। অনেক যায়গায় জেগে উঠেছে মাইলের পর মাইল চর। অনেক নদী আবার পরিণত হয়েছে ছোট্ট খালে।
জানা গেছে, সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় তিন শতাধিক ছোট-বড় নদী ও খাল রয়েছে। এগুলো হতে ইতোমধ্যে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে ২২টি নদী। ৯টি উপজেলার বুক চিরে বহমান এসব নদীতে এক সময়ে লঞ্চ-স্টিমার ও কার্গো ভ্যাসেল চলাচল করতো। এখন তা শুধু স্মৃতি হয়ে রয়েছে নতুন প্রজম্মের নিকট। এ নদীগুলোর অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে ভাটার সময় নদীতে হাটু পানিও থাকে না। শুকিয়ে যাওয়া এসব নদী দেখে এই জনপদের মানুষ এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন। আর স্মরণ করছে নিকট অতীতকে। এসব নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে একদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌ-বন্দর মংলার সাথে সারা দেশের সহজে কার্গো ভ্যাসেলসহ নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া ঢাকাÑখুলনা স্টিমার ও ঢাকাÑবাগেরহাট লঞ্চ সার্ভিসও বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য দিকে নদীÑখাল শুকিয়ে যাওয়ার ফলে কৃষকরা চাষাবাদ করতে শুস্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেনা। আর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় প্রতি বছরই কৃষকের ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে । এ এলাকার লাখ লাখ হেক্টর ফসলি জমি ও খালে ভেড়ী বাঁধ দিয়ে অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষের ফলে ফসলি জমিতে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি উঠতে পারছে না। অন্য দিকে ফারাক্কা বাঁধের কারণে এসব নদীগুলোতে উজানের পানি না আসার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে জোয়ারের পানি স্থির হয়ে থাকায় অতিরিক্ত পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে নদীÑখাল। এছাড়া সমুদ্রের লবনাক্ত পানি ভাটার সময় দ্রুত নেমে যেতে না পারায় ফসলি জমিতে মাত্রাতিক্ত লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। হ্রাস পাচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি। মরে শুকিয়ে যাচ্ছে সবুজ প্রকৃতি। সূত্রমতে মংলা বন্দর থেকে ঘষিয়াখালী নদী হয়ে বন্দরের সাথে সহজ যোগাযোগের এই রুটটি সচল রাখার জন্য মংলা-ঘসিয়াখালী চ্যানেলটিতে বর্তমানে খনন কাজ অব্যহত রয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে সাড়ে ৭শ’ নদী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রফেসর ড.মো.শহীদুল ইসলাম বলেন, বহু সংখ্যক নদী ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। এজন্য ফারক্কা অবশ্যই দায়ী, তবে দেশের জনগণও কমদায়ী নয়। প্রভাবশালীরা অনেক নদী ভরাট করে দিচ্ছে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানান,বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনার সমস্যা শুধু টেকনিক্যাল সমস্যা নয়। এটা একটা রাজনৈতিক সমস্যা এর সাথে জড়িত ভারত, চিন, নেপালসহ বেশ কিছু দেশ । এসব দেশের সাথে আমাদের রাজনৈকি সম্পর্কের উন্নয়ণ করে সুষ্ঠ পানি বন্টন নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে দেশের জনগণকেও নদীবান্ধব মানসিকতা সম্পন্ন হতে হবে।