বাগেরহাট সংবাদ ॥ সন্ত্রাসী হামলায় যুবলীগ নেতা নিহত


363 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাগেরহাট সংবাদ ॥ সন্ত্রাসী হামলায় যুবলীগ নেতা নিহত
সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস এম সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট :
বাগেরহাট শহরে সন্ত্রাসী হামলায় সোহাগ শেখ (২০) নামের এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছে। নিহত সোহাগ শেখ বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকার হাকিম শেখের ছেলে। সে বাগেরহাট পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলো বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার সোহাগকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মরা যায়।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোঃ তোজাম্মেল হক জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সন্ত্রাসীরা বাস ষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে সোহাগকে একটি অটো রিক্সায় তুলে নেয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও দুই পায়ের রগ কেটে বাসাবাটি এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এ সময়ে সোহাগের ডাক-চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সোহাগ মারা যায়।
ঘটনার পর বাগেরহাট শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
##

শরণখোলায় অপরিচিত লোকের আনাগোনা । অপহরন আতঙ্কে সাধারন মানুষ

বাগেরহাট প্রতিনিধি :
শরণখোলায় আবারো বিভিন্ন স্থানে অপরিচিত লোকদের আনাগোনা বেড়ে চলছে।
দনিাঞ্চলের সুন্দরবন ঘেষা সর্বশেষ উপজেলা শরণখোলার বিভিন্ন পল্লীতে হটাৎ করে অপরিচিত লোকদের ভিন্ন ভিন্ন পেশায় লক্ষ করা যাচ্ছে।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গ্রামে গঞ্জে ব্যাপক ভাবে অপরিচিত লোকদের বিচরন সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে।
কাউকে রাতের বেলায় ফেরি করে ভাজি, পুরি, বিক্রি করতে দেখা যায়। আবার কাউকে বিভিন্ন আড্ডায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
সম্প্রতি পুলিশের দেয়া তথ্যে এলাকা থেকে মেহেদী হাসান (১৫), ইবনে তাইব (১৪), সহ বেশ কয়েক জনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা জানা যায়। ইতিপূর্বে উপজেলার টি টি এ্যান্ড ডিসি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর দুজন ছাত্রীকে স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে অপহরন করে ইজিবাইক যোগে নিয়ে যাওয়ার পথে পল্লীমঙ্গল এলাকায় জনতার হাতে ধাওয়া খেয়ে অপহরনকারীরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে পৌছে দেয়। উদ্ধারকারী শিশু দুটি গোলবুনিয়া গ্রামের ইব্রাহিম ও নুরেসলাম হাওলাদারের কন্যা।

এলাকা ঘুরে এ ছাড়াও অনেক শিশু-কিশোরের নিখোঁজের ঘটনা জানা গেছে। কিন্তু এর সঠিক হিসাব থানা পুলিশের জানা নেই। এতে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী জানান, অতীতে একাধিক অপরিচিত সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন পরিচয়ে ভিন্ন ভিন্ন পেশা নিয়ে এলাকায় ঢুকে পড়ত। কেউ ভাঙ্গারী ব্যাবসা, ফেরি ওয়ালা, মাছ ব্যাবসায়ী, মটর সাইকেল ড্রাইভার, কেউবা বৈদ্ধ, ওঝা ও পাগল বেশে যার যেমন প্রয়োজন তারা তেমন রুপ ধারন করত। এলাকার লোকজনের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলত। একেকটি চক্র ভিন্ন ভিন্ন ভয়াবহ উদ্দেশ্য নিয়ে একেক জায়গায় অবস্থান করত। নজর দারীতে রাখত প্রশাসন সহ এলাকাবাসীকেও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অতীতে অপরিচিত চক্রের দ্বারা উপজেলার রাজৈর গ্রামে কথিত পিলার নামক বস্তুু নিয়ে ৪ ব্যাক্তিকে হত্যার ঘটনা ঘটে। একই উপজেলায় টাকা ছিনতাইকে কেন্দ্র করে  লাকুড়তলা গ্রামে ৪ ব্যাক্তি ও উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামে ২ ব্যাক্তিকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও এলাকায় তৎকালীন সময় ব্যাপক চুরি-ডাকাতি ছিনতাই সহ নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা ঘটত বলে এলাকাবাসী জানায়।
এলাকাবাসী অপরিচিতদের দেখলে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে একেক সময় একেক পরিচয় দিয়ে বলে আমরা অন্য জেলার লোক এখানে ব্যাবসা করার জন্য এসেছি। এতে এলাকার লোকজন আরও শঙ্কিত হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে এলাকার সচেতন মহল এদেরকে মুখোশধারী ব্যাবসায়ী মনে করছেন। সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার কারনে দূঃস্কৃতকারী চক্রের সদস্যরা সুন্দরবন ঘেষা এ উপজেলায় ছদ্দবেশ ধারন করে ব্যাবসা করছেন। এবং এই এলাকার কোন অপরাধী চক্রের নিমন্ত্রনেও তারা আসতে পারে। এদের নেপথ্যে অনেক ভয়াবহ খারাপ উদ্দেশ্য আছে বলেও তারা মনে করেন।
বেশ কয়েকদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে বনদস্যু ও জলদস্যুদের বেপরোয়া গনডাকাতি ও মুক্তিপনের দাবি ও অপহরনের ঘটনায় সর্বশান্ত হয়ে ফিরে এসে নাম প্রকশে অনিচ্ছুক জেলেরা জানিয়েছে। জেলেদের বরাত দিয়ে উপজেলা জেলে সমিতির সভাপতি দুলাল ফরাজী ও জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আঃ রহিম হাওলাদার জানান, অনেক জেলেরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে সাগরে মাছ স্বীকার করছে। তাদের কেউ কেউ জেলে ছদ্দবেশ ধারন করে এ অপরাধ কর্মকান্ড ঘটাতে পারে। এ ধরনের দূর্ঘটনা এড়াতে সাগরে টহল বৃদ্ধি করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোষ্টগার্ডের শরণখোলা কন্টিনজেন্ট কমান্ডার সামসুল হক জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে মুখোশধারী জেলেদের সনাক্ত করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য বাদল জোমাদ্দার জানান, কয়েক বছর আগে এই অপরিচিত লোকেরাই আমার ওয়ার্ডে স্বপরিবারে ৪ জনকে হত্য করেছিল। ইদানিং আবার অপরিচিত লোকের আনাগোনা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে জনগনকে সচেতন করার পাশাপাশি অপরিচিতদের নজরদারীতে রাখা হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান দুলাল জানান, আমড়াগাছিয়া, রাজাপুর, বান্ধাঘাট এলাকায় ব্যাপক ভাবে অপরিচিত লোকের আনাগোনা বেড়েছে। আমার ইউনিয়নে গত দু’মাসে চুরি, ওঝা সেঝে প্রতারনা, অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা ল্য করা গেছে। অপরিচিতদের জিজ্ঞাসা করলে তারা এলাকার প্রভাবশালী লোকের আতœীয় বলে পরিচয় দেয়। চেয়ারম্যান প্রভাবশালীদের নাম বলতে রাজী হননি। এলাকার কিছু অসাধু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের অপরাধ মুলক কর্মকান্ড চলছে বলে তিনি জানান। ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, অপরিচিতদের সনাক্ত করে তাদের কর্মকান্ডের উপর প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিৎ। শরণখোলা উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, বাগেরহাট পি সি কলেজের সাবেক অধ্য জনাব, আব্দুস সাত্তার জানান, বিষয়টি খুবই উদ্বেগ জনক, প্রশাসন এদেরকে ঠেকাতে না পারলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি প্রশাসনকে বহিরাগত লোকদের উপর নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। জানতে চাইলে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রশাসন সজাগ রয়েছে। পাশাপাশি জনগনকেও সজাগ থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
##