বাবার আনা জন্মদিনের কেক কাটার আগেই না ফেরার দেশে মুহিন


116 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাবার আনা জন্মদিনের কেক কাটার আগেই না ফেরার দেশে মুহিন
আগস্ট ৪, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

অষ্টম জন্মদিনের কেক প্রস্তুত। বাড়িভর্তি মানুষ। তবে যার জন্য এত আয়োজন সে শিশুটিই নেই। হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেন সবাই। কিছুক্ষণ পর বাড়ির সামনে একটি গর্তে মিলল তার নিথর দেহ। প্রিয় সন্তানকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করতে লাগলেন বাবা-মা। নিয়ে গেলেন হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকরা তাদের কোনো আশা দেখাতে পারলেন না। সবাইকে ফেলে না ফেরার দেশে চলে গেছে শিশুটি।

তার বাড়িতে আনন্দের রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশ হঠাৎই কালো মেঘে ছেয়ে গেল। নির্বাক-শোকার্ত হয়ে পড়ল পুরো পরিবার। এমনই হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রামাণিকপাড়ার কৃষক ময়নুল ইসলামের বড় ছেলে মুহিন ইসলাম জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। তার মা মণি বেগম গৃহিণী। ঘটা করে জন্মদিন পালনের জন্য বাবা-মায়ের কাছে আবদার করেছিল মুহিন। নতুন পোশাক ও বড় কেক কেনা, আত্মীয়-স্বজনকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা, বেলুন দিয়ে ঘর সাজানোসহ নানা বায়না ছিল মুহিনের। এ জন্য সপ্তাহ খানেক আগে থেকে বাড়িতে চলছিল তার জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি। গত শনিবার ছেলের অষ্টম জন্মদিনের জন্য ব্যাপক আয়োজনও করেছিলেন মুহিনের বাবা-মা। বিকেলেই বাড়িভর্তি হয়ে যায় আত্মীয়-স্বজনে। সন্ধ্যায় জন্মদিনের কেক নিয়ে আসেন মুহিনের বাবা। তবে কেক কাটার প্রস্তুতিকালে মুহিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে গুজব রটে তাকে ছেলেধরা নিয়ে গেছে। এরই মধ্যে এক প্রতিবেশী জানান, সন্ধ্যার দিকে তাকে বাড়ির পাশের গর্তের দিকে যেতে দেখেছেন। তা শুনে বাবা-মাসহ অন্যরা ছুটে যান গর্তের দিকে। গর্তের গলাপানিতে নেমে খোঁজার পর মেলে মুহিনের নিথর দেহ। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা জানান, মুহিন আগেই মারা গেছে।

রোববার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুহিনদের বাড়ি থেকে একশ’ গজের মধ্যে আবাদি জমির দুই শতক মাটি খুঁড়ে ইটভাটায় নেওয়া হয়েছে। এতে সেখানে একটি গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় সেখানে পানি জমা হয়েছে। এর পাশ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে পানিতে পড়ে থাকতে পারে মুহিন।

জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিপদ রায় বলেন, মুহিন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। তার আচারণ ও লেখাপড়ার কারণে স্কুলের সব শিক্ষকই তাকে ভালোবাসতেন। তার অকালে চলে যাওয়ায় আমরা হতবাক হয়েছি ও কষ্ট পাচ্ছি।