বাবার প্রতি ভালোবাসা


148 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাবার প্রতি ভালোবাসা
জুন ২০, ২০২১ ফটো গ্যালারি বিনোদন
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ববিতা

আমার জীবনজুড়ে জড়িয়ে আছেন বাবা। আমি বাবার আদর্শে বেড়ে উঠেছি। আমার জীবনের সাফল্যের মূলমন্ত্র বাবার কাছ থেকেই পাওয়া। এই যে আমি এত পরিপাটি আর গুছিয়ে থাকার চেষ্টা করি, এটা বাবার কাছ থেকেই শিখেছি। বাবা খুব সিনেমা দেখতেন। সিনেমা দেখে আমাদের মজার মজার গল্প বলতেন এবং সেই গল্পে আমাদের অভিনয় করতে বলতেন। সেখান থেকেই কিন্তু অভিনয়ে আমার অনুপ্রেরণা। পরবর্তীতে যখন সিনেমার নায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করি, তখনো বাবা আমাকে ভীষণ অনুপ্রেরণা দিতেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের আগে বাবাই সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে চিঠি আদান-প্রদান করতেন ইংরেজিতে। শুটিংয়ের সময় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে বাবার চমৎকার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তিনি আমার কোনো স্বপ্নই অপূর্ণ রাখেননি। আমার ইচ্ছে আমার মৃত্যুর পর যেন বনানী কবরস্থানে বাবার কবরেই আমাকে দাফন করা হয়। বাবার কবরেই যেন শেষ ঘুম হয় আমার।

ঈশিতা

বাবাই পৃথিবীতে একমাত্র মানুষ, যিনি আমাকে আদরের মেয়ে হিসেবে সারা জীবন ভালোবেসে গেছেন। বাবাকে খুশি করতে স্কুলে আমাকে ভালো রেজাল্ট করতে হয়নি। নতুন কুঁড়িতে চ্যাম্পিয়ন হতে হয়নি। নাটকে ভালো অভিনয় করতে হয়নি। তারপরও তিনি আমাকে সারা জীবন শুধু ভালোবেসেই গেছেন। বাবা আমার নিয়মভাঙার সঙ্গী। আমারই কোনো অন্যায় আবদারের প্রশ্রয়দাতা এবং আবার আনন্দেরও কারণ আব্বা। তিনি একজন সর্বশ্রেষ্ঠ বাবা। আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া আমার অনেক বড় নিয়ামত আমার বাবা।

মেহজাবিন

প্রত্যেক সন্তানের চোখেই বাবা সুপার হিরো, আমার চোখেও আমার বাবা একজন সুপার হিরো। কারণ এমন কিছু নেই যা বাবা আমাদের জন্য করেননি। সবচেয়ে বড় কথা আমার বাবা তাঁর প্রত্যেক সন্তানের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমার বাবা সবসময়ই এটা বলেন, আমরা যে কাজই করি না কেন, সেটাতে যেন আমরা শীর্ষে যেতে পারি। পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি স্বাধীনতা দিয়েছেন। তবে ভালো ফলাফলটা চেয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে এই মুহুর্তে বাবা এবং মায়ের কাছে একটিই চাওয়া- তা হলো তাঁরা দুজনই যেন নিজেদের যত্ন নেন, ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন।

আঁখি আলমগীর

আমার বাবা একজন পরিপূর্ণ মানুষ। বিপদে-আপদে সাহসিকতার আরেক নাম বাবা। আমি বড় আর স্বাবলম্বী হয়েছি ঠিকই, তারপরও বাবার কাছে জবাবদিহির জায়গাটা এখনো রয়ে গেছে। মেয়ে হিসেবে ভীষণ গর্বিত। করোনা দুর্যোগের এমন সময়ে আব্বু আম্মুর জন্য একটাই কামনা, আল্লাহ যেন তাঁদের সুস্থ রাখেন, দীর্ঘায়ু দেন। আবার যদি সিনেমায় অভিনয় করি আব্বুর সঙ্গেই একই ফ্রেমে অভিনয় করব, নতুবা নয়।

তারিন

‘আমার দেখা প্রথম নায়ক, আমার কাছে সেরা, বাবা তোমার হৃদয়টা যে আদর দিয়ে ঘেরা, সারা জীবন দিয়েই গেছ, আরও কত দেবে, সামান্য এই ভালোবাসা, বলো বাবা নেবে?’ বাবাকে নিয়ে আমার গাওয়া একটি গান এটি। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানিয়েই গানটি গেয়েছিলাম। বাবা একজন সৎ মানুষ, তাঁর এই সততাকেই আদর্শ হিসেবে মেনে নিয়ে পথ চলার চেষ্টা করি। বাবা সারা জীবন মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে গেছেন। বাবাই আমার স্বর্গ, এমন বাবার সন্তান হিসেবে আমি অবশ্যই গর্বিত।

অপূর্ব

ছোটবেলা থেকেই বাবার আদর্শে বেড়ে উঠেছি। বাবার যে আদর্শ নিজের মধ্যে লালন করি তা হলো, বাবা সবসময়ই সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে একই সুতোয় গেঁথে থাকতে ভালোবাসতেন। বাবার আদর্শকে নিজের মধ্যে লালন করি। বাবা আমাকে ছোট্ট বেলায় অপু বলে ডাকতেন, এখনো তা-ই ডাকেন।

দিঠি আনোয়ার

ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি আমার আব্বু দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য নিবেদিত একজন মানুষ। আব্বুর এ বিষয়টি আমাকে দারুণভাবে উৎসাহিত করে। যে কারণে আমারও মাঝে মাঝে মনে হয় দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করা উচিত। আমার আব্বু গাজী মাজহারুল আনোয়ার এটাই আমার অনেক অনেক গর্বের বিষয়। তাঁর সন্তান হিসেবে অনেক স্থানেই সম্মানিত হই। আব্বুর সুনাম শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও আছে। জীবনে চলার পথে আব্বুর কর্মক্ষেত্রে সফলতার বিষয়টি বেশি ফলো করার চেষ্টা করি। তিনি তাঁর বাবা-মাকে ভীষণ শ্রদ্ধা ও সেবা করতেন। একজন সন্তান হিসেবে তিনি যেমন শ্রেষ্ঠ, একজন স্বামী হিসেবেও তিনি শ্রেষ্ঠ, একজন বাবা হিসেবেও তিনি পৃথিবীর অন্যকম শ্রেষ্ঠ বাবা। আবার দাদা, নানা হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।

ঐন্দ্রিলা

‘মহানায়ক বুলবুল আহমেদের মেয়ে হতে পারাটা অন্য যে কোনো পরিচয়ের চেয়ে আমার কাছে অনেক বেশি তৃপ্তির ও গর্বের।’ বাবার কথা বলতে গেলেই ক্ষোভে-বেদনায় মনটা খারাপ হয়ে যায়। কারণ বাবার মতো একজন গুণী মানুষের এখন পর্যন্ত এ দেশে কোনো মূল্যায়ন হলো না।

সম্রাট

নায়ক রাজের সন্তান হতে পারাটা সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। আমি তাঁর পুত্র বলে গর্ববোধ করি। বাবা যেমন ছিলেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার, ঠিক তেমনি একজন আদর্শ পিতা। তাঁর সন্তান হয়ে পৃথিবীতে এসেছি বলেই আজ আমার এ পরিচিতি, মানুষের ভালোবাসা প্রাপ্তি। বাবা শত ব্যস্ততার মাঝেও সংসার আর সন্তানদের যেভাবে টেককেয়ার করতেন তার ফলাফল আজ আমাদের এ আদর্শ পরিবার। বাবা আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ জড়িয়ে আছে আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে-বিশ্বাসে আর প্রাত্যহিক কর্মে।

হাবিব ওয়াহিদ

সংগীতের প্রতি অনুরাগ বাবার কাছ থেকেই। বাবা সব সময় আমার জীবনের আইডল; তাঁকে যত দেখি ততই যেন মুগ্ধ হই। আমার ইচ্ছের দাম দিয়েছেন বাবা সবসময়। যেখানে কঠোর হওয়া দরকার, সেখানে কঠোর হয়েছেন, শাসন আর আদর করেছেন সমানভাবে। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। বাবার সঙ্গে প্রথম গান গাওয়ার মুহুর্তটি ছিল খুব রোমাঞ্চকর। বাবা প্রায়ই ইন্টারভিউতে বলেন, হাবিব ওয়াহিদের জন্যই ফেরদৌস ওয়াহিদের পুনর্জন্ম হয়েছে। কথাটা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।