বাবার সঙ্গে আদালতে মিন্নি


149 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাবার সঙ্গে আদালতে মিন্নি
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণা হবে আজ বুধবার। বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করবেন। রায় ঘিরে বরগুনার আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

রায়ের দিন ধার্য থাকায় বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বুধবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান নিহত রিফাতের স্ত্রী ও ৭ নম্বর আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এই মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও ছিলেন তিনি। আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছেন মিন্নির কয়েকজন স্বজনও।

আদালতে ঢোকার আগে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, কিছুক্ষণ পরই রিফাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে। এ মামলায় মিন্নি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বেকসুর খালাস পাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

মামলার বিচারক ইতিমধ্যে আদালতে এসেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবীও হাজির হয়েছেন আদালতে। আদালত প্রাঙ্গণ, প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় কড়া পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। আদালতের ভেতরে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক আছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে ৭৬ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এক আসামির সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এরপর সব আসামির পক্ষে-বিপক্ষে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সংশ্নিষ্ট আইনজীবীরা। গত ১৬ সেপ্টেম্বর নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য আদালতে উপস্থাপিত যুক্তি খণ্ডন শেষে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই বছর ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক এবং আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বর্তমানে তার আইনজীবীর জিম্মায় জামিনে আছেন।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলো- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সাইমুন।