বাবুলিয়া হাইস্কুলে স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট নির্বাচন : ‘পজিশন ভালো, ভোট দিস পাশে থাকবো’


500 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাবুলিয়া হাইস্কুলে স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট নির্বাচন : ‘পজিশন ভালো, ভোট দিস পাশে থাকবো’
মার্চ ৩১, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
ভোট কেন্দ্রের প্রবেশ পথে দুই সারিতে দাঁড়ানো আছে প্রার্থীরা। দুই সারি বেঞ্চ সাজানো। বাঁশের খুটির সাথে দড়ি টাঙ্গানো আছে। ভোটাররা ভোট দিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। চারটি বুথে আছে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট। খাকি পোষাকে ছিলো শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিতরা। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই ঘিরে ধরছে প্রার্থীরা। তাদের প্রার্থনা, ‘আমার পজিশন ভালো, ভোট দিস পাশে থাকবো’। এটি কোন জাতীয় নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রের গল্প না। এই ভোট কেন্দ্রে আরো আছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, রিটানিং কর্মকর্তা যারা সকলে শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার মেধা ও মনন বিকাশে, গণতান্ত্রিক মনোভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে এভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে সদর উপজেলা বাবুলিয়া জে এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট নির্বাচন। নির্বাচনে ৬ষ্ঠ শ্রেণির সাদিয়া সুলতানা (১৪৩) , ৭ম শ্রেণির সামিয়া সুলতানা (৭৭), ৮ম শ্রেণির তানিয়া সুলতানা (১৫৩), ৯ম শ্রেণির সানজিয়া ইসলাম (১৬২), ১০ শ্রেণির প্রান্ত বিশ্বাস (২১৭), ১০ শ্রেণির তৌফিক আহমেদ (১৫১), ৮ম শ্রেণির সাকিল আহমেদ (১৪৪) এবং ৯ম শ্রেণির মাসুম হোসেন (১১৯) ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। জাতীয় নির্বাচনের আদলে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল গফুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ৯ম শ্রেণির ছাত্রী লতিফা খাতুন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, আর সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন মোনালেছা মুন্নি, সুমাইয়া সুলতানা, সোহেল রানা ও মেহেদী হাসান।

তাছাড়া নিয়মঅনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রণয়ন, তফশীল ঘোষণা, প্রার্থীদের মনোয়নপত্র জমা ও প্রত্যাহারসহ যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা হয় সম্পূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের আদলে। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৮জন কাউন্সিলর নির্বাচনের লক্ষ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ জন তাদের নির্বাচনী প্রচারনা চালান বিদ্যালয়েই। এর এর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলো ৮ জন।
বিদ্যলয়ের ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গেলে বুথ কক্ষে প্রথমেই বাধা আসে খাকী পোষাকের ক্ষুদে আনসার ও পুলিশের কাছ থেকে। তারা পরিচয় জানার পরে বললেন ভালো করে ছবি তুলেন। আমাদের প্রচার করতে হবে।

চারটি বুথে অত্যন্ত সুনিপুনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন পোলিং এজেন্ট, পোলিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার। খাকী পোষাকে দায়িত্বেরতরা বার বার বাশি দিয়ে ভোটারদের লাইন সোজা করছে। ভোটার বুথে যাওয়া মাত্র তাদের পোলিং অফিসার ব্যালট পেপার দিচ্ছে। ভোটাররা গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীর ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্সে ফেলছে। সকাল থেকেই ভোটের বুথ পরিদর্শন করেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান, সদস্য ডা. আফতাবুজ্জামান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কুদ্দুস, সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম সিদ্দিক, সহকারী শিক্ষক প্রসাদ কুমার বিশ্বাস, চৌধুরী নাজনীন আক্তার, রমেশ চন্দ্র ঘোষ, কাজী জাহিদুর রহমান, পলাশ চন্দ্র মন্ডল, মাও. রায়হান, গোপাল চন্দ্র সেন, রফিকুল ইসলাম, মর্জিনা খাতুন, কামাল উদ্দীন, নাজমা খাতুন, মতিউর রহমান, আব্দুল জলিল, সারাবান তহুরা, জুলফিকার আলী প্রমুখ। নির্বাচনে স্কুলের ৬৭০ জন ভোটার তাদের ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনকে নির্বাচিত করে। নির্বাচনে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৬, ৭ম শ্রেণি থেকে ১৩, ৮ম শ্রেণি থেকে ৪, ৯ম শ্রেণি থেকে ৪ এবং দশম শ্রেণি থেকে ৩ জন অংশ গ্রহণ করেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান জানান, নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দিনের নেতৃত্বের বিকাশ হবে।