বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেতে তালতলা স্কুলের মেধাবী ছাত্রীর ফোন


391 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেতে তালতলা স্কুলের মেধাবী ছাত্রীর ফোন
মার্চ ৪, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
সাতক্ষীরায় বাল্যবিয়ের হিড়িক পড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে স্কুলছাত্রীরা। তাদের মধ্যে কারও কারও জীবনে ঘটেছে বিবাহ বিচ্ছেদের মত ঘটনা। আবার অনেকেই শিকার হয়েছে একাধিক বিয়ের। শারীরিক গঠনের পরিবর্তন ঘটলেই, বয়সের হিসাব না করেই বিয়ে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। এতে বাড়ছে মাতৃমৃত্যুর হার। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রী বাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেতে রাত ১১টায় ফোন করেছে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ হেল্পলাইন ০১৯৭২-১৮১৮২১ নাম্বারে।গভীর রাতে ফোন পাওয়ার সাথে সাথে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আব্দুল সাদী নিজে চলে গেলেন বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে।
এসময় ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করে বাল্য বিবাহের চেষ্টা করায় মেয়ের মা জাহানারা বেগমকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা করা হয়। এব্যাপারে সচেতন মহলের দাবী, সাতক্ষীরায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে স্কুলের ছাত্রীরা। তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই বিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে। পিতা-মাতার কথা মত বাল্যবিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছে তারা।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, আমরা খবর পেয়ে মেয়েটির বাল্য বিয়ের চেষ্টা বন্ধ করেছি। এখন দেখার বিষয় মেয়েটির শিক্ষা জীবন রক্ষা পায় বি-না। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আমরা এটাও চেষ্টা করছি তাকে যেন অন্যত্র নিয়ে গোপনে বিয়ে দিয়ে দেয়া না হয়। তাকে বাল্যবিয়ের ঝুকিতে থাকা মেয়ে হিসেবে চিন্হিত করা হয়েছে। আসুন আমরা আমাদের মেয়ে শিশুদের শিক্ষা প্রাপ্তি নিশ্চিত করি। তাদের অপরিণত বয়সে বিয়ের দেয়ার চেষ্টা না করি। শিক্ষার মাধ্যমে আমরা যেন তাদের জীবন গড়তে সহায়তা করতে পারি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, বাল্যবিয়ে নির্মূল করতে সদর উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড তার উল্লেখযোগ্য। যার ফলে বাল্যবিয়ে দেওয়া এখন অনেকটা কমে গেছে। আগামীতে প্রতিটি উপজেলায় আমরা এ ধরনের পদক্ষেপ মডেল হিসেবে নেব। তাহলে বাল্যবিয়ে রোধে দ্রুত উল্ল্যেখযোগ্য ফলাফল পাওয়া যাবে।