বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন শাহ্ আব্দুল সাদী


313 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন শাহ্ আব্দুল সাদী
জানুয়ারি ১৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
বাল্য বিবাহ রোধে সদর উপজেলায় যখন শিক্ষাই প্রথম। বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড দেখানো হচ্ছে ঠিক তখনই সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নে নবম শ্রেণিতে পড়–য়া এক মেধাবী ছাত্রীকে জোর করে বাল্য বিবাহ দেয়ার পায়তারা করছে তার পরিবার। এছাড়া ঐ শিক্ষার্থীর পাঠ্যপুস্তক তালা দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে তার বাবা।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টায় আলিপুর ইউনিয়নের ঢালীপাড়া গ্রামে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আব্দুল সাদী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ঢালীপাড়া গ্রামের মোঃ আবুল কালাম পাড়ের কন্যা আলীপুরের একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। গত বছর জেএসসি পরীক্ষায় সে অংশ নিয়ে এ প্লাস পেয়েছে। তার ইচ্ছা পড়াশুনা করে ভালো চাকরি করা। কিন্তু বাবা মা জোর করে তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খুজছেন। শুধু তাই নয়, পড়াশুনা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তার পাঠ্যপুস্তকসমূহ তালা দিয়ে আটকে রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসন স্কুল ছাত্রীর বাড়ী যেয়ে তা দেখেছেন।

এসময় ঐ স্কুলছাত্রী বলে, “আমার মা-বাবা আমাকে স্কুলে যেতে দেয়না। তার পাঠ্যপুস্তক বের করতে বললে সে বলে, আমি এসব জানি না। আমার বই খাতা মা বাবার কাছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার আমার পড়া লেখা চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন। আমি আবার স্কুলে যাবো।” পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আব্দুল সাদী তার মা রওশন খাতুনকে মেয়ের বই খাতা বের করতে বললে তিনি বলেন, ‘ওর বাবা বই খাতা তালা দিয়ে রেখেছে। বাবা আসলে বের করে দেব এবং মেয়েকে আবার স্কুলে পাঠানোর অঙ্গীকার করেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আব্দুল সাদী বলেন, ‘সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নে নবম শ্রেণির এ মেধাবী ছাত্রীর বই খাতা তালা দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে তার বাবা মা। এছাড়া স্কুলে যেতে না দেওয়া এবং জোর পূর্বক বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং ঘটনার সত্যতা পেয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর জরুরী ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র পাঠানো হয়েছে।’ ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, আলিপুর ইউনিয়ন সচিব কামরুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুর রহমান, উদ্যোক্তা মাসুম বিল্লাহ ও শামীমা খাতুন প্রমুখ।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ বলেন, এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।