বাড়ছে নদী ভাঙ্গন, অসহায় শ্যামনগর উপকূলবাসী


174 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বাড়ছে নদী ভাঙ্গন, অসহায় শ্যামনগর উপকূলবাসী
জুন ৬, ২০২০ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

॥ মিঠু বরকন্দাজ ॥

দিন দিন বেড়েই চলেছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ। হচ্ছে মহামারী- বিশ্ব মহামারী। আধুনিক বিজ্ঞানও আজ হতবাক……. স্তব্ধ গোটা বিশ্ববাসী। এক ফোটা ভ্যাকসিনের আশানিয়ে প্রত্যাহ ঘুম ভাঙছে সকলের। অন্যদিকে উপকূল বাসীর রুদ্ধ প্রায় শ্বাস-প্রশ্বাস। প্রতিকূলতার চরম সীমায় আজ উপকূলবাসী। নেই কোন উচ্চ আকাংখা, নেই কোন স্বপ্ন। আছে শুধুই বেঁচে থাকার প্রয়াস। স্বেচ্ছাশ্রম, সরকারি, বেসরকারি, প্রচেষ্টা যতই বাড়ুক না কেন শান্ত হচ্ছে না সমুদ্র।

জীবাশ্ম জালানী পোড়ানোর কারনে গ্রীনহাউস গ্যাস বায়ুমন্ডলে আটকা পড়ে বিশ্বে উষ্ণতা বাড়ছে। এর ফলে খরা, দাবদাহ হিমবাহ গোলে যাওয়া সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বর্ন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটছে। বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও গ্রীন হাউজ গ্যাসের উপস্থিতির কারনে ভয়াবহ পরিনতির মুখে রয়েছে বিশ্ব। এই কারনে বরফ গলে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বাড়তে শুরু করেছে। বায়ুমন্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে নজির বিহীন ভাবে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। আরও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারন গ্রীনহাউজ গ্যাসের প্রতিক্রিয়া। সাধারণ অবস্তায় সুর্য্য থেকে যে তাপ শক্তি আসে তার কিছু অংশ ভু পৃষ্ট কে উত্তপ্ত করে আর বেশির ভাগই প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় বায়ু মন্ডলে চলে যায়। বর্তমানে বায়ু মন্ডলে যে কার্বন ডাই অক্সাইড মিথেন ও গ্যাস জমে আছে তা ভূ পৃষ্টের প্রতিফলিত তাপ শোষন করে এবং ভূ মন্ডলে তাপ বিকিরনে বাধা দেয়। ফলে ক্রমান্বয়ে পৃথিবীর উপরিভাগ উত্তপ্ত হচ্ছে। ভূ মন্ডলের এই তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিনতি হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি। ফলে হাজার হাজার বছর ধরে উপকূলীয় এলাকায় ভাঙ্গা গড়া চলছে। কখনও কোন অংশ ভাঙ্গনের সম্মূখীন হচ্ছে আবার অন্য অংশে চলছে ভূমি গঠন প্রকৃয়া। সমুদ্র সঙ্গমের ব দ্বীপ ও সমুদ্র তটরেখা বরাবর ভু খন্ড প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল তবে এ নিয়ত পরিবর্তনের মধ্যে ও তার ভারষম্য অবস্থা বিদ্যামান। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভাঙ্গা গড়ার ভারষাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে সামুদিক লোনা পানির দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে উপকূলীয় নদ নদীর লবনাক্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষত নদ নদীর মোহনায় অবস্থিত দীপ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অধীক পরিমাণ লোনা পানি প্রবেশ করে। সামদ্রিক লোনা পানি উযান অঞ্চলে প্রবেশ করায় কৃষিতে সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানির অভাব দেখা দিচ্ছে। এছাড়া মৎস্য সম্পদ সমূহের ও ক্ষতি হচ্ছে। আবার শুকনা মৌসুমে দেশের প্রধান নদ নদীর প্রবাহ কমে যায়। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে অধিক হারে লবনাক্ততা বাড়ছে এতে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। ফলে কৃষক দিশা হারা হয়ে পড়ছে ও জীবিকার তাগিদে চলে যাছে অন্যত্র। এমনকি কেউ কেউ দেশ ত্যাগ করতেও দেখা যাচ্ছে।

#