বিক্ষোভে গুলি : কালিহাতীর ৭ পুলিশ প্রত্যাহার


366 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিক্ষোভে গুলি : কালিহাতীর ৭ পুলিশ প্রত্যাহার
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছোড়ার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে সাত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান সমকালকে এ তথ্য জানান।

এর আগে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি কালিহাতী থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

নুরুজ্জামান জানান, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর সঙ্গে জড়িত অভিযোগে কালিহাতী থানার সাত পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন এসআই ও চারজন কনস্টেবল।

এছাড়া শুক্রবারের ওই ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিকে প্রধান করে পুলিশের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান নুরুজ্জামান।

তিনি জানান, পুলিশের তদন্ত কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর থেকেও তিন সদস্যের পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে- উল্লেখ বলে নুরুজ্জামান জানান, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (শৃঙ্খলা) আলমগীর আলমকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকতারুজ্জামান ও টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান।

এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই উল্লেখ করে পুলিশ কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতি থানায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লার রহমান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ঘটনা কারো কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে তার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত তিনজনের প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

এসময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়। এছাড়া গুলি, লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসে আহত হন অন্তত ২৫ জন। আহতদের মধ্যে আরও ৫ জন গুলিবিদ্ধ রয়েছেন।