বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে হাইকোর্টের সতর্কতা


210 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে হাইকোর্টের সতর্কতা
জুলাই ৪, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

বরগুনার শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এ সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে।

হাইকোর্ট বলেন, ‘আমরা (বিচার বিভাগ) কখনই নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এটা তাদের রুটিন ওয়ার্ক। যদি সেখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটে তখনই শুধুমাত্র বিচার বিভাগ নির্দেশনা বা হস্তক্ষেপ করে থাকে। তবে আমরা এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং (বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড) পছন্দ করি না। হয়তো প্রয়োজনের খাতিরে অনেক সময় জীবন বাঁচানোর তাগিদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা করে থাকে। তবে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। আইন যে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে সেটা যেন নিশ্চিত হয়।’

আসামি নয়ন বন্ডর বিষয়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘একদিনে এই নয়ন বন্ডরা তৈরি হয় না। কেউ না কেউ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। কেউ না কেউ লালন-পালন করে ক্রিমিনাল বানায়।’

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেন।

এর আগে এদিন সকালে রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে আদালতে অগ্রগতি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার একেএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাসার। তিনি আদালতকে বলেন, এ মামলার কোনো আসামি দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে পারেনি। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ১২ জন এবং সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

এ পর্যায়ে নয়ন বন্ড কীভাবে মারা গেল তা জানতে চান হাইকোর্ট। জবাবে ডেপুটি অ্যটার্নি জেনারেল বলেন, পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ ছিল– মামলার আসামিরা সেখানে অবস্থান করছেন। পুলিশ সেখানে যায় এবং পুলিশের ওপরে প্রথমে অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। তখন পুলিশ নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য পাল্টা গুলি চালালে সেখানে একজন মারা যান। ইতিমধ্যে এলাকাবাসীও সেখানে ছুটে আসে। এলাকাবাসীই প্রথম নয়ন বন্ডকে শনাক্ত করে। তারপর তারা জানতে পারেন নিহত ব্যক্তিই নয়ন বন্ড ছিল। সেখানে তার গ্রুপ ০০৭ এর অন্য সদস্যরাও ছিল।

এ পর্যায়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে উল্লেখিত মন্তব্য করে হাইকোর্ট বলেন, ‘তদন্ত হচ্ছে। আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করছি না। কিন্ত পরবর্তী সময়ে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে জানতে চাইবো। এই মামলা হাইকোর্টের সব সময় তদারকিতে থাকবে।’

গত ২৬ জুন বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ২৭ জুন বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তখন হাইকোর্ট রিফাত হত্যা মামলার আসামিরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সেজন্য সীমান্তে সতর্কতা জারির নির্দেশ দেন। এ ছাড়া আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়েও আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ সময় ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলও উপস্থিত ছিলেন।