বিচারিক ইতিহাসে প্রথম ফৌজদারি মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়


419 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিচারিক ইতিহাসে প্রথম ফৌজদারি মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়
এপ্রিল ২৫, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে গতকাল আপিল বিভাগের দেওয়া রায়টি বোধহয় ফৌজদারি মামলায় প্রথম কোনো আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় হিসেবে বিবেচিত হতে যাচ্ছে। আপিল বিভাগ গতকাল ওই রায়ে বলেছেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ আমৃত্যু কারাবাস। কোনো মামলায় যদি আপিল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ডের সাজা পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন তবে সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাভোগ করতে হবে। আদালতের এ রায়ের কপি পাওয়ার পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অপরাপর আসামির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব ও কারা মহাপরিদর্শককে বলা হয়েছে।

১৫ বছর আগে সাভারে সংঘটিত জামান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলা হয়েছে। সোমবার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। চার বিচারপতির স্বাক্ষরের পর অবকাশকালীন সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে (www.supremecourt.gov.bd) ৯২ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

আপিল বিভাগ থেকে প্রকাশ করা পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী দোষী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে এটাই বিধান। এক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডটা হচ্ছে ব্যতিক্রম। যখন এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাউকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়, তখন অবশ্যই এর কারণ উল্লেখ করতে হয়। দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অর্থ ৪৫ ধারার সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে দেখা যায়- যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদণ্ড।

এদিকে এই রায়ে আইনবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এটিই বোধহয় ফৌজদারি মামলায় প্রথম কোনো আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়। এর আগে কোনো ফৌজদারি বা হত্যা মামলায় কোনো আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়নি।