বিজয়ের মাস শুরু


360 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিজয়ের মাস শুরু
ডিসেম্বর ১, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজের মধ্যে শুরু হলো বাঙালির কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও গণমুক্তির সংগ্রামে বিজয় অর্জনের মাস ডিসেম্বর। যে প্রত্যাশা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে- এবারের বিজয়ের মাসে এটিই আকাঙ্ক্ষা সবার।

আজ ১ ডিসেম্বর। ৪৭ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের জনগণের নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। এ বিজয় অর্জনের জন্য শহীদ হতে হয়েছে ৩০ লাখ মানুষকে। ধর্ষণের শিকার হতে হয় চার লাখ নারীকে। রক্তদান ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, পৃথিবীর মানচিত্রে ওড়ায় লাল-সবুজের পতাকা। তাই ডিসেম্বর বাঙালি জাতিসত্তা ও তার নিজস্ব ভূমির গৌরবদৃপ্ত বিজয় ও অহঙ্কারের মাস।

একাত্তরের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই জনগণ বুঝতে পারে জয় তাদের ঘরের দুয়ারে। মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলা ও প্রবল আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এ সময় পিছু হটতে থাকে। ১ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী সিলেটের শমসেরনগরে আক্রমণ চালিয়ে টেংরাটিলা ও দুয়ারাবাজার শত্রুমুক্ত করে। তাদের অপারেশনের মুখে পাকিস্তানিরা সিলেটের গ্যরা, আলীরগাঁও ও পিরিজপুর থেকে ব্যারাক গুটিয়ে নেয়। রাওয়ালপিন্ডিতে এক মুখপাত্র ‘শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার শেষ হয়নি’ বলে বিবৃতি দেয় এ দিন।

একই দিনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সংসদে বক্তৃতা দিতে গিয়ে উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সেনা সরানোর জন্য ইয়াহিয়া খানের প্রতি আহ্বান জানান। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা গোলাম আযম এ সময় ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠক করে পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের দাবি তোলেন এবং ‘কমিউনিস্টদের অপতৎপরতা’ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন। মিত্রপক্ষের হামলার মুখে বিপর্যস্ত ও ভীত শান্তি কমিটির সদস্যরা হরতাল পালন করে খুলনায়।

গত কয়েক বছরের মতো এবারের বিজয়ের মাসও শুরু হয়েছে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুদৃঢ় দাবির মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন দুই মেয়াদের ঐক্যবদ্ধ সরকারের সময়ে জনগণের বহু আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম অনেকটাই চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। এরই মধ্যে ৫৯ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় হয়েছে। যাদের অধিকাংশের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায় হয়েছে। পাঁচজনের ফাঁসির রায় কার্যকরও হয়েছে।

পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী একটি অশুভ গোষ্ঠী নানাভাবে দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারাও চালাচ্ছে। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলার ঘটনা দেশ ও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর জঙ্গিবিরোধী অবস্থান ও সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে এই অশুভ গোষ্ঠীর অপতৎপরতা অনেকটাই স্তিমিত। তারপরও এ নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে জনমনে। এ অবস্থায় একাত্তরের মতো ইস্পাতকঠিন ঐক্যই বড় বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে- যা সব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জাল ছিন্নভিন্ন করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারে। এবার বিজয়ের মাসজুড়ে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীর পাশাপাশি সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদীদের বিরুদ্ধে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ঐক্যের আহ্বানও থাকবে সারাদেশে।

প্রতি বছরের মতো এবারও বিজয়ের মাসে দেশবাসী বিজয়ের আনন্দে উচ্ছ্বসিত। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শোকে আপ্লুত মানুষ মাথা নোয়াবে এই বিজয়ের নায়ক অগণিত মুক্তিযোদ্ধার প্রতি। নানা আয়োজনে সবার চেতনায় ধ্বনিত হবে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাঁথার স্মৃতিচারণ আর বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাবনত ভালোবাসা।

বিজয়ের স্মারক ডিসেম্বরের প্রথম দিনটিতে আজ দেশজুড়ে প্রতি বছরের মতো পালিত হবে মুক্তিযোদ্ধা দিবস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় পুনর্জাগরণ, মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়-সামাজিক-আর্থিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মানবোধ জাগানোর লক্ষ্যে এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এর আগে বিজয়ের মাসের প্রথম প্রহর রোববার রাত ১২টা ১ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘শিখা চিরন্তন’-এ আলোক প্রজ্বালনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছে মাসব্যাপী কর্মসূচির।

মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি বাস্তবায়ন ও মুক্তিযোদ্ধা দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি আজ সকাল সাড়ে ৮টায় মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়ও মুক্তিযোদ্ধা দিবস উদযাপন কমিটি আলোচনা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করবে।