বিদ্রোহীতে দিশেহারা আশাশুনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা


299 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিদ্রোহীতে দিশেহারা আশাশুনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা
জানুয়ারি ১, ২০২২ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

॥ আব্দুস সামাদ ॥

আগামী ৫ জানুয়ারি আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত একাধিক প্রার্থীও। তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়ছে নৌকার প্রার্থীরা। প্রায় সকল ইউনিয়নেই রয়েছে একাধিক আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। দলের প্রার্থীরা এখন একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ভোটেরদিন সকালে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার সরবরাহের দাবি জানান এগারো ইউনিয়নের ভোটাররা।

দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় পূর্বের চার দফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। এ উপজেলায়ও কয়েকটি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর চেয়ে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীর অবস্থান ভালো। তাদের কাছে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হলে কেন্দ্রে জবাবদিহিতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। এ কারণে অনেকটা মাঠে নেমেই ভোট করছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। একই সাথে বিদ্রোহীদের প্রচারণা বন্ধ করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানাচ্ছেন নেতারা।

তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে সবার মধ্যে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা, কেন্দ্রে নাম পাঠানোর সময় তৃণমূলের মূল্যায়ন না করা, স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপিং, বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনের মাঠে না থাকা এবং দলের চেইন অব কমান্ডের অভাবের কারণেই বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেকটা স্থানীয় দলীয় নেতাদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার এবং অনেকটা বাধ্য হয়েই নির্বাচন করছেন তারা।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাচন অফিসে থেকে জানা যায়, আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫৫ জন প্রার্থী রয়েছে। এরমধ্যে শোভনালীতে ছয়জন, বুধহাটায় ছয়জন, কুল্যায় চারজন, দরগাহপুরে ছয়জন, বড়দলে সাতজন, আশাশুনি সদরে তিনজন, শ্রীউলায় তিনজন, খাজরায় সাতজন, আনুলিয়ায় তিনজন, প্রতাপনগরে ছয়জন ও কাদাকাটিতে চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে। এসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ছাড়াও জাতীয় পার্টি দুইটি ইউনিয়নে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চারটি ইউনিয়নে ও জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল (জাসদ) একটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
১নং শোভনালীনে ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শম্ভু চরন মন্ডল। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো: নজরুল ইসলাম। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকে লড়ছেন এসএম মনিরুজ্জামান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে লড়ছেন লুৎফর রহমান। জামায়াত সমর্থিত স্বতস্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে লড়ছেন মো: আব্দুল মজিদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চশমা প্রতীকে লড়ছেন মো: আবু বকর ছিদ্দিক। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াত সমর্থিক প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
২নং বুধহাটায় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন মো. মাহবুবুল হক। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা মো: ফিরোজ। বিএনপি সমির্থত প্রার্থী মো: আব্দুল হান্নান ঘোড়া এবং মো: আবুল হাসেম লড়ছেন চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকে নিয়ে লড়ছেন মো: রেজবিদান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে নিয়ে লড়ছেন মো: মোবারক হোসেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং বিএনপি সমর্থিক প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
৩নং কুল্যায় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন মো. আব্দুল বাছেত। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ছাকি ফেরদৌস। তিনি আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: রফিকুল ইসলামের ভাইপো। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে লড়ছেন মো: ইয়াকুব আলী। এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে লড়ছেন মো: মাছুম আলী। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে।
৪নং দরগাহপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন মিরাজ আলী। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান এসএএম জমির উদ্দীন, চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আ.লীগ নেতা মো: জাকির হোসেন এবং আনারস প্রতীন নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ গোলাম কুদ্দুস। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে নিয়ে লড়ছেন মো: ওজিয়ার রহমান। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সরদার আব্দুর রাজ্জাক। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
৫নং বড়দল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আব্দুল আলিম মোল্যা। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এসএম নাসির উদ্দীন, আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান মন্টু সরদার, ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জগদীস সানা, রজনীগন্ধা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামলী নেতা মো: আব্দুল গফুর এবং মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ ঢালী। এ ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে টেলিফোন প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আজহারুল ইসলাম। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
৬নং আশাশুনি সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতিক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন এস. এম. হোসেনুজ্জামান। তিনি উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন চশমা ও আনারস প্রতীন নিয়ে নিয়ে লড়ছেন উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি মো: সামছুল আলম। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
৭নং শ্রীউলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আবু হেনা সাকিলুর রহমান। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন কৃষকলীগ নেতা প্রভাষক দিপংকর বাছাড়। এ ইউনিয়নে অপর প্রাথী সাবেক বিএনপি নেতা মো: রফিকুজ্জামান চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে।
৮নং খাজরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান মো: শাহনেওয়াজ। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বির্তকীত কমিটির সভাপতি অহিদুল ইসলাম মোল্ল্যা, রজনীগন্ধা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের নৃপেন্দ্র নাথ মন্ডল এবং চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রবিউল ইসলাম। জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল (জাসদ) মশাল প্রতীর নিয়ে লড়ছেন মো: ফজলুল হক। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বোরহান উদ্দীন বুলু। এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড় প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মো: ফজলুর রহমান। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হলেও নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
৯নং আনুলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন মো. শাহাবুদ্দীন সানা। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান মেম্বার। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মো: জাবেদুল মাওলা। এ ইউনিয়নের অপর প্রার্থী হলেন আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: রুহুল কুদ্দুস আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হলেও বিএনপি সমর্থিক প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভোটাররা জানান।
১০নং প্রতাপনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন শেখ জাকির হোসেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে টেবিলফ্যান প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ইউনিয়ন কৃষক লীগের সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ ও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ রিয়াদ মাহমুদ। জামায়াত সমর্থিক প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মো: আবু দাউদ ঢালী এবং চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন শিবির নেতা মোহাম্মদ নুরে আলম। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ছেন নুরুল ইসলাম। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হতে পারে। তবে জামায়াত সমর্থিক প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ভোটাররা।
১১নং কাদাকাটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দিপংকর কুমার সরকার। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অমৃত কৃমার সানা। সাবেক বিএনপি নেতা বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চশমা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মো: মফিজুল হক। এছাড়া এ ইউনিয়নে আশাশুনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হলেও নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ভোটাররা।
আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিম বলেন, দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে এক সাথে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নৌকাকে বিজয়ী করতে সকলে এক সাথে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা বা কেন্দ্র থেকে এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে সাতক্ষীর জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশিদ ভিন্ন মতো পোষণ করে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠি আমি নিজ হাতে উপজেলা কমিটির নিকট পৌছে দিয়েছি। কিন্তু এ বিষয়ে উপজেলা কমিটি এখনো কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে তিনি জানান।