বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান খালেদার


364 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান খালেদার
জুলাই ৭, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডেস্ক :
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিভেদ-বিভাজন ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সত্যিকারভাবে সকলের অংশগ্রহণে দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। সেখানে যারাই জিতবে, তারাই সরকার গঠন করবে। এখানে বিভেদ-বিভাজন নয়, সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করলেই আমরা দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারব। তখনই মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদদের প্রতি আমরা সম্মান দেখাতে পারব, মুক্তিযুদ্ধে চেতনা বাস্তবায়ন করতে পারব।’

রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে সোমবার সন্ধ্যায় ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’ আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার ‘অনির্বাচিত’। এ অগণতান্ত্রিক ও অনির্বাচিত সরকারের আমলে মহিলারা প্রতিনিয়ত নির্যাতিত ও অত্যাচারিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদে মহিলারা অপমানিত হচ্ছে।

‘সংসদে মহিলারা শো-পিস’ জাপার চেয়ারম্যান এরশাদের এ বক্তব্যের সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, ‘স্বঘোষিত বিরোধী দল ও তাদের নেতা। যার বউ হয়েছেন লিডার অব দ্য অপজিশন। বিনা নির্বাচনে লিডার অব দ্য হাউস কিংবা বিরোধীদলীয় নেতা দু’জনই মহিলা। সেই সংসদে বলা হয়, মহিলা সব শো-পিস। যেখানে জনসংখ্যার ৫০ ভাগ মহিলা রয়েছেন।’

খালেদা বলেন, ‘যে সংসদে আমাদের মা-বোনদের এভাবে অসম্মান করা হয়, যে লোক মহিলাদের সম্মান দিতে জানে না, তাদের নিয়ে যারা দল করে, তারা কোনো দিনও মানুষকে সম্মান দিতে পারবে না, গণতন্ত্রও আনতে পারবে না। তারা কোনোদিন গণতন্ত্র আনেনি বরং হরণ করেছে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আজ সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। আমরা বলি না, মারামারি, খুনাখুনি, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে ক্ষমতায় যাব, জিতব। আমরা অমুক হব, তমুক হব সেটা নয়।’

বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, ‘ক্ষুদ্র-তুচ্ছ, ভুলভ্রান্তি ও ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, শ্রদ্ধা করে কেউ কখনো ছোট হয় না। আর হিংসা করে কেউ কখনও বড় হয় না।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া বলতেন, রাজনীতি করতে হলে হৃদয়টাকে বড় করতে হবে। তার এই বক্তব্য হোক রাজনীতির সংকট থেকে উত্তরণে মহামন্ত্র। আসুন আমরা আল্লাহ কাছে সাহায্য চাই। এই রোজায় একটি ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মের রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জনগণের মুক্তির পথে আহ্বান করি।’

অধ্যাপক বি চৌধুরী তার বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার দেশ গঠনে যুগান্তকারী কর্মযজ্ঞের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে এক টেবিলে বিকল্পধারার সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছাড়াও জাতীয় পার্টির কাজী জাফর আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির আ স ম আবদুর রব, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী।

মুসলিম লীগের নুরুল হক মজুমদার, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি ফয়েজুল্লাহ, কল্যাণ পার্টির এম এম আমিনুর রহমান প্রমুখ নেতারা ছিলেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে নরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, শিরিন সুলতানা, রাবেয়া সিরাজ, শামা ওবায়েদ, তাবিথ আউয়াল ইফতারে অংশ নেন।

এ ছাড়াও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, ব্যারিস্টার রুহিন ফারহানা ছাড়াও একজন ব্রিটিশ কূটনীতিকও ছিলেন বিকল্পধারার ইফতারে।