বিমান বাহিনীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


321 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিমান বাহিনীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অক্টোবর ২৫, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

জাতির পিতার অপরিসীম প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টিকে ধারণ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে একত্রে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার যশোরে বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স (বিএএফ) একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর বাসসের

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে সর্বাধুনিক ও অগ্রসর বাহিনীতে পরিণত করতে চাই। ভবিষ্যতে এই বাহিনীর উন্নয়নে আমাদের আরো অনেক পরিকল্পনা আছে। আগামী নির্বাচনে যদি আমরা বিজয়ী হই তাহলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো।’

বিএএফ প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ব্রোঞ্জ নির্মিত আবক্ষমূর্তি উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএএফ একাডেমি প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছলে বিমান বাহিনী প্রধান চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিএএফ বেস-এর এয়ার অফিসার কমান্ডিং এয়ার ভাইস মার্শাল ফজলুল হক এবং বিএএফ একাডেমির কমাড্যান্ট এয়ার কমোডোর যাবেদ তানভীর খান তাকে অভ্যর্থনা জানান।

মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, তিনবাহিনী প্রধানগণ, কূটনীতিকবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সকলে মিলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও পেশাদার বিমান বাহিনী গঠনের। তার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পরপরই বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয় সে সময়কার অত্যাধুনিক মিগ-২১, সুপারসনিক ফাইটার বিমানসহ পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স রাডার।

 

যশোরে বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স একাডেমিতে বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—

তিনি বলেন, ‘আমরা বিমান বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অব্যাহত রেখেছি। আমাদের সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয় চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান, সুপরিসর সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০০৯ সাল থেকে বিগত বছরগুলোতে বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও অপারেশনাল সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক স্যালুন হেলিকপ্টার, মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ হেলিকপ্টার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র।’

তিনি বলেন, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন ধরনের বিমান, রাডার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণ এবং ওভারহলিংয়ের লক্ষ্যে নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রথমবারের মত ফাইটার বিমানের ওভারহলিংয়ে সক্ষম হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ কৃতিত্বের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিমান বাহিনীকে লালমনিরহাট বিমানবন্দরে বিমান তৈরি, মেরামত এবং এ সম্পর্কিত প্ল্যান্ট বা ইন্ডাস্ট্রি তৈরির জন্য নির্দেশনা দেয় হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাদের নিজেদের তৈরি বিমান উড্ডয়নে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য তার সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ণ করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অত্যাধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সামরিক ও অসামরিক স্থাপনাসমূহ, বিশেষ করে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ‘এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের’ আকাশসীমা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার লক্ষ্যে কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমান ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আকাশসীমা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় কক্সবাজারে নতুন এয়ার ডিফেন্স রাডার স্থাপন করা হয়েছে। সমুদ্রসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানসহ যে কোনো প্রয়োজনে বিমান বাহিনী সহায়তা প্রদান করে আসছে।

তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের আকাশসীমার ওপর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্তকরণ এলাকা নির্ধারণে সক্ষম হয়েছি। এই শনাক্তকরণ অঞ্চল বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।’

বাংলাদেশের অব্যবহৃত এয়ারফিল্ডসমূহকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনাও সরকারের আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিমান বাহিনীর সদস্যদের সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধা উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ক্যাডেটদের মৌলিক প্রশিক্ষণ ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের মেয়াদকাল বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিমানসেনাদের প্রশিক্ষণ কোর্সও যুগোপযোগী করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নততর এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ সুনিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক জেট ও পরিবহন প্রশিক্ষণ বিমান, হেলিকপ্টার ট্রেইনার এবং এমআই সিরিজ হেলিকপ্টার সিম্যুলেটর সংযোজন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিমান বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বরিশাল ও সিলেটে বিমান ঘাঁটি স্থাপনসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলমান আছে। এভিয়েশন সেক্টরকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স উদ্বোধনের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হল। এই প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল বাংলাদেশের যথার্থতা প্রমাণ করে তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের সামরিক বাহিনীর জন্য আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ একাডেমি হবে, যেখানে সারা পৃথিবী থেকে প্রশিক্ষণার্থী আসবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি আজ এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা উন্নত দেশের যেকোন বিমান বাহিনী একাডেমির সমকক্ষ।’

তিনি বলেন, ‘আজ বিমান সেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দক্ষ ও চৌকষ জনশক্তির যোগান দিতে নির্মিতব্য বিমানসেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সক্ষম হবে। এ অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত ও তত্ত্বীয় জ্ঞান নির্ভর বিমানসেনা গড়ে তুলবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাল্টিরোল যুদ্ধবিমানের জন্য দক্ষ ও পেশাদার বৈমানিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে গত বছরের ২ জুলাই স্থাপিত হয় ১০৫ অ্যাডভান্স জেট ট্রেনিং ইউনিট। এ ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ক্রয় করা হয়েছে অত্যাধুনিক ফ্রাই-বাই-ওয়্যার এবং ডিজিটাল ককপিট সংবলিত ওয়াইএকে-১৩০ কমব্যাট প্রশিক্ষণ বিমান, যা এ পর্যন্ত তৈরিকৃত ৪র্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোর অন্যতম। আজ থেকে এ ইউনিট তাদের কার্যক্রম শুরু করল।’

তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিমান বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ সুবিধাদির উন্নয়ন এবং বিমান বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় উল্লেখ করেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও সিলেট থেকে প্যারা কমান্ডো দলকে ঢাকায় পরিবহন করে, যে কমান্ডো দলটি জঙ্গি নির্মূলে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ সফলতার সাথে পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, সুদীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন উত্তোরণ-এর আওতায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। বিমান বাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য নিয়মিত খাদ্য, রসদ ও জনবল পরিবহন এবং মেডিকেল ইভ্যাকুয়েশনের কাজ পরিচালনাসহ সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের পরিদর্শন কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছে।

শেখ বলেন, চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধসজনিত উদ্ধার কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য নিহত হয়। বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুতর আহত ও নিহতদের হেলিকপ্টারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

তিনি বলেন, নেপালে সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ জন বাংলাদেশির মরদেহ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন বিমানে দেশে আনা হয়। মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের জন্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কাজ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে বিমান বাহিনী সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বয়ে আনছে সম্মান ও মর্যাদা, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত উজ্জ্বল করেছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মহিলা কর্মকর্তাগণ ২০০৮ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতার সাথে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরকারই প্রথম বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে নারী পাইলট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দু’জন মহিলা পাইলট প্রথমবারের মত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কঙ্গোতে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।’ তিনি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। আজ বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার বরাবরই শাসক নয় বরং জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায়। আমাদের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। বিগত প্রায় এক দশকে আমরা সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি।’

বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বিগত প্রায় এক দশক ধরে গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশ হারে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালের ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ হতে কমে ২০১৮ সালে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয় ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭৫১ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং জাতিসংঘ ২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সনদ দিয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বলেছিলেন— আমাদের কেউ দাবায় রাখতে পারবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভকারী বিজয়ী জাতি। আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচবো।’

অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই মিলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আমি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করি।’

এরপরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স, বিমান সেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ১০৫ জেট ট্রেনিং ইউনিটের কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।