বিলুপ্তির পথে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সন্ধ্যা বাতি হারিকেন


112 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিলুপ্তির পথে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সন্ধ্যা বাতি হারিকেন
নভেম্বর ১৬, ২০২১ ইতিহাস ঐতিহ্য ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

গ্রামীণ জীবনে অন্ধকার দূর করার একমাত্র অবলম্বন হারিকেন। হারিকেন জ্বালিয়েই বাড়ি উঠানে কিংবা বারান্দায় পড়াশোনা করছে শিক্ষার্থীরা। হারিকেনের জ্বালানি আনার জন্য প্রতি বাড়িতেই রয়েছে রশিতে ঝুলানো এক ধরনের বিশেষ কাঁচের বোতল। হাটবারে সেই রশিতে ঝুলানো বোতল হাতে নিয়ে গেরস্থ রওনা হয় হাটে। প্রাচীন বাংলার এই দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি। কালের বির্বতনে কুপি বাতি ও হারিকেন এখন যেন রূপকথার গল্প। “তেল ছাড়া বাতি জ্বলে আজব এ শহরে, মাটি ফাইটা বৃষ্টির পানি ঝরঝরিয়ে পড়ে” আশির দশকে চলচিত্রের এ গানটিতে বোঝা যায় সে সময়ে বেশি ভাগ গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। সিনেমার কাহিনীতে দেখা যায় গ্রামের লোক ঢাকা শহরে বেড়াতে এসে বৈদ্যুতিক বাতি ও ফুয়ারার পানি দেখে আশ্চর্য হয়ে এ গানটি গায়। একসময় বাড়িতে কেরোসিন তেল দিয়ে হারিকেন, কুপি বাতি জ্বালানো হতো। হ্যাজাক জ্বালিয়ে গ্রামাঞ্চলে বিয়ে-সাদীসহ রাতে নানা ধরনের বড় অনুষ্ঠান করা হতো। সে সময় ডাকপিয়নরা চিঠির বোঝা পিঠে করে হাতে হারিকেন নিয়ে গ্রামের পর গ্রাম ছুঁটতেন। ক্রমেই বিলীন হয়ে যাওয়া আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় এই নির্দশনটি এক দশক আগেও রাতের আধারে রাস্তা পারাপার থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজে অপরিহার্য্য ছিল। তখন গ্রামে গঞ্জে হারিকেন মেরামত করা মিস্ত্রীদের হাক শোনা যেত। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হারিকেন মেরামত করতেন। পল−ী বিদ্যুতায়নের যুগে এখন আর এমন দৃশ্য দেখা যায় না বললেই চলে। যার দরুণ গ্রাম বাংলার প্রতি গৃহের অতি প্রয়োজনীয় হারিকেন আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এই কুপি ও হারিকেনগুলো ছিল বাহারি ডিজাইনের। এর মধ্যে মাটি, লোহা, কাঁচের বোতল আবার পিতলের তৈরি কুপিও ছিল। নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ী লোকজন কুপি ও হারিকেন কিনে সেগুলো ব্যবহার করতেন। গ্রাম বাংলার আপামর লোকের কাছে কুপি ও হারিকেনের কদর হারিয়ে গেলেও এখনও অনেকে আকড়ে ধরে আছেন কুপি ও হারিকেনের স্মৃতি। কিন্তু আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফলে গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী হারিকেন বিলুপ্তির পথে। বৈদ্যুতিক বাতি, চাজার্র ও সৌর বিদ্যুতের নানা ব্যবহারের ফলে সেই হারিকেনের ব্যবহার আজ আর দেখা যায় না। বর্তমানে হারিকেন খুঁজে পাওয়া হয়তো দুষ্কর হয়ে পড়বে। বিদ্যুৎ নেই এমন গ্রামেও হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে হারিকেনের জায়গা দখল করে নিয়েছে সৌর বিদ্যুতের আলো বা চার্জার লাইট। গ্রামাঞ্চলে এখনও হয়তোবা দু’এক বাড়িতে হারিকেন পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু দেখা যাবে সেগুলোতে ময়লা ও মরিচা পড়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির আধুনিকতা আর উন্নত জীবন-যাপন প্রণালীর কারণে দিনদিনই মানুষের মাঝে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একসময় কুপি বাতি ও হারিকেন দেখতে যেতে হবে যাদুঘরে বলে ধারণা করছেন অনেকে। তবে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন টিকিয়ে রাখার দাবি জানাচ্ছেন অনেকে। নয়ত এক সময় চিরতরে বিলুপ্ত হবে এই সন্ধ্যা বাতি হারিকেন।