বিলুপ্তির পথে সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর


317 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিলুপ্তির পথে সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর
এপ্রিল ১৯, ২০১৯ কৃষি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

বিলুপ্তির পথে সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর। জেলার গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ধানের গোলাঘর। গ্রামীন ঐতিহ্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর এখন আর দেখা যায় না। ধন-ধান্যে পুষ্পে ভরা সাগর পাড়ের জেলা সাতক্ষীরার সুখ্যাতি দেশজুড়ে। ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ জেলার ৭৮টি ইউনিয়নের ১৪২১টি গ্রামের প্রত্যেকটিতে দেখা যেত ধানের গোলা। গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে দেখা যেত ছোট বড় ধানের গোলাঘর। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মেল্লেকপাড়া গ্রামের নজরউদ্দিন সরদার (৭০) বলেন, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সাতক্ষীরায় ইরি-বোরো চাষ শুরু হয়। এর আগে জেলার বিলগুলো ছিল এক ফসলি। আমন ধান ছাড়া আর কোন ধান হতো না। তবে উঁচু জমিতে আউশ ধান হতো। তখন মানুষের পুকুরভরা মাছ, গোলাভরা ধান আর গোয়ালভরা গরু ছিল। এখন সেই বিলগুলোতে তিন ফসল ফলে। আমনের পর ইরি-বোরো। বোরো ধান কাটার পর আমন রোপনের আগে আরও একবার ফসল ফলায় অনেকে। কিন্তু সেই গোলাঘর আর নেই। ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বড়খামার গ্রামের ৯৩ বছর বয়সী গিয়াসউদ্দিন সানাও বলেন, একই কথা। তিনি বলেন, আগে গোলাঘরের সংখ্যা দেখে মানুষ ছেলে-মেয়ে বিয়ে দিতেন। যার বাড়ি যত বেশি গোলাঘর ছিল তিনি ততবেশি অভিজাত ছিলেন। গোলাঘর ছিল আভিজাত্য আর সমৃদ্ধির প্রতীক। একেকটি গোলায় ৬০ থেকে ১৫০ বস্তা (১বস্তায় ৬০ কেজি) ধান রাখা যেতো। তিনি আরও বলেন, গোলাঘরে শুধু ধান নয়, ডাল, গম, সুপারিসহ বিভিন্ন ফসল রাখা হতো। জমিদার বাড়িতে সারি সারি সাজানো ছিল গোলাঘর। সেই জমিদারিও নেই, সেই গোলাঘরও নেই। তবে কালের সাক্ষী হয়ে আজও আভিজাত্যের প্রতীক গোলাঘর দেখা যায় দু’একজনের বাড়িতে। বাঁশের চটা, বেত আর কাতা (নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি সূতা) দিয়ে তৈরি গোলাকৃতির এ ঘর গোলপাতা, নাড়া (ধানগাছ) ও টিন দিয়ে ছাওয়া হতো। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশরাফুজ্জামান বলেন, এখন মধ্যসত্ত্বভোগী ফড়িয়াদের কারণে মানুষ ধানের গোলায় ধান রাখে না। ইট পাথরের তৈরি গুদামে রাখে ধান-চালসহ অন্যান্য পণ্য। যে কারণে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক গোলাঘর। এগুলো সংরক্ষণ করা না গেলে আগামী প্রজন্ম গোলাঘর দেখতে জাদুঘরে ছুটবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।