বিশ্ববিখ্যাত রসায়নবিদ পিসি রায়ের জন্মবার্ষিকী আজ


827 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিশ্ববিখ্যাত রসায়নবিদ পিসি রায়ের জন্মবার্ষিকী আজ
আগস্ট ২, ২০১৬ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ আসাদুজ্জামান মুকুল,দরগাপুর :
বৃটিশ রাজত্বকাল। কলকাতা বিজ্ঞান কলেজ তাঁর প্রানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। কলেজের দোতালার দক্ষিণ-পশ্চিমের কক্ষ যেখানে, একটি নড়বড়ে খাটিয়া, দু খানি চেয়ার, একখানা ছোট্ট খাবার টেবিল, একখানা পড়ার টেবিল ও একখানা সস্তা আলনা জামাকাপড় রাখার জন্য। পরতেন কমদামের মোটা ধুতি, চাদর, গেঞ্জি বা একটি কোট। অবহেলিত চুল, দাড়ি ও গোফ দেখলে বোঝাই যেত যে যতœ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি, নয়তো খেয়াল করার সময় পাননি। প্রতিদিন সকালে মাত্র এক পয়সারই নাস্তা। বেশি হলে আর রক্ষা নেই।

শারিরিক অবস্থা দেখলেই বোঝা যেত যে অনান্য খাবারদাবারে কতটাই সাদামাটা ছিলেন। মসিক আয় ছিল হাজার টাকার উপরে হলেও নিজের জন্য মাসিক খরচের জন্য মাত্র ৪০ টাকাই ছিল নির্ধারিত! প্রিয় পাঠক আপনাদের যে সাদামাটা ব্যাক্তির বর্ণনা দিচ্ছিলাম তিনি আর কেউ না, ভারতীয় উপমাহাদেশের রসায়নের জনক স্যার আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। আজ বিশ্ববরেণ্য এই বিজ্ঞানীর ১৫৫ তম জন্মদিন। ১৮৬১ সালের আজকের এই দিনে (২ আগস্ট) সাবেক যশোর এবং বর্তমান খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপোতাক্ষ তীরের ঐতিহ্যবাহী রাড়–লী গ্রামে মা ভুবন মোহিনী দেবীর কোল আলোকিত করে পি.সি চন্দ্র রায়ের এ পৃথিবীতে আগমন ঘটে। পিতা হরিষচন্দ্র রায় ছিলেন জমিদার। আপনারা হয়ত ভাবছেন জমিদার পুত্র পি.সি রায় তাহলে কঞ্জুস প্রকৃতির ছিলেন? কখনো না। তিনি তাঁর মসিক আয় থেকে ৪০ টাকা রেখে বাকি টাকা মানবতার সেবায় দানকরে দিতেন।

তবে তিনি বেশিরভাগ দান করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বি.এল কলেজ, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর হাসপাতাল, চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতাল সহ প্রয় অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন বাগের হাট পি.সি কলেজ, পাইকগাছার রাড়–লী হরিষচন্দ্র ইনিষ্টিটিউশন, ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯২৬ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত এক লক্ষ ছত্রিশ হাজার টাকা দান করেছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তিও দান করে গিয়েছেন আর্ত মানবতার সেবায়। কপোতাক্ষ অববাহিকা যে কতো মহামানবের জন্ম দিয়েছে তার একটি উদাহরণ বিজ্ঞানী স্যার আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। মারাকিউরাস নাইট্রাইট (ঐমঘ০২) সহ ১১টি মিশ্র ধাতুর আবিষ্কারক এই মহান বিজ্ঞানী শুধু বিজ্ঞান নয় তিনি চিকিৎসা, সমাজ সংস্কার, দেশপ্রেম, সাহিত্যে তার অবদান অনুস্বীকার্য। জনগনকে কম মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টির লক্ষে তিনি কলকাতার মানিকতলায় বেঙ্গল ল্যাবরেটরি স্থাপন করেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় এক লক্ষ কর্মচারি কর্মরত।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটস অধ্যপক স্যার আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়কে ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞান এবং মানব কল্যানে নিজেকে ঊৎসর্গ করেছিলেন। চীরকুমার এই ব্যাক্তি তাঁর প্রিয় কলকাতা বিজ্ঞান কলেজের ছোট কামরায় ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন ৮৩ বছর বয়সে তাঁরই এক ছাত্রের কোলে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি মরেও অমর। তাঁর কৃতি তাকে বাচিয়ে রাখবে হাজার বছর। আমরা তাকে আজীবন স্মরণ করব বিনম্র শদ্ধায়, ভক্তিতে ও ভালবাসায়।