বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে মিথ্যে মামলায় হয়রানি করার অভিযোগ আশাশুনি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে


436 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে মিথ্যে মামলায় হয়রানি করার অভিযোগ আশাশুনি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে
আগস্ট ৫, ২০১৫ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার আশাশুনি থানা পুলিশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকের নাম জি.এম. তারিকুল ইসলাম। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহাকারী অধ্যাপক। তার বাড়ি আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের জামালনগর গ্রামে। শুধু ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নয়, ঢাকা প্রবাসি তার দুই নিটক আত্মীয় ও ছোট ভাইকে একই মামলায় আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানাগেছে। সাজানো এই মামলার বাদি জামালনগর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি (মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত) মামুন অর রশিদ। মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে এভাবে হরনানি করার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, গত ১৩ মার্চ জামালনগর গ্রামের মামুন অর রশিদ বাদি হয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক জি.এম তরিকুল ইসলাম, তার ছোট ভাই মনজুরুল ইসলাম ,ঢাকা প্রবাসী ভাগ্নে বাপ্পি সরদার ও ঢাকার ফল ব্যবসায়ি ওমর গাজীসহ ৫ জনের নামে নন জি আর মামলা করে। যার প্রসিকিউশন নং ০৬/১৫। মামলাটি তদন্তের জন্য আশাশুনি থানার তৎকালীন (নাশকতা মামলার আসামি ধরে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে বর্তমানে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন ক্লোজ) এ এস আই মো: আলী হোসেনের উপর দায়িত্ব দেন ওই থানার ওসি। মামলায় আসামি করা হয় জেনারুল ইসলামকে। শিক্ষক তারিকুল ইসলামের ডাক নামই জেনারুল ইসলাম। এই মামলার ৩ নং আসামি বাপ্পির পিতা জীবিত হলেও এই মামলায় তার পিতাকে মৃত দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষক জি .এম তারিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, চিংড়ি ঘের লীজ নেয়াকে কেন্দ্র করে মামুন অর রশিদের সাথে তার ছোট ভাই এর বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করেই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি, মাদক ব্যবসার কারণে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজাপ্রাপ্ত মামুন অর রশিদ তার ডাক নাম ব্যবহার করে তাকেসহ ৫ জনের নামে গত ১৩ মার্চ  আশাশুনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। জিডি তদন্তের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওই থানার এ এস আই আলী হোসেনকে দায়িত্ব দেন। তিনি জানান, জিডিতে ঘটনার যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে সেদিন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। আদৌ তিনি এ ঘটনার সাথে জড়ীত নন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের কাছে ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা না দেয়ায় এ এস আই আলী হোসেন জিডিটি নন জিআর মামলা হিসেবে দেখিয়ে গত ৩১ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই মামলার আদালতে হাজির হওয়ার ধার্যদিন নির্ধারন করা হয় ৫ আগষ্ট’১৫। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে গত ৪ আগষ্ট তিনিসহ ৫ জনই আদালতে হাজির হয়ে  জামিন নেন। ওই শিক্ষক ঘটনার দিন জগন্নাত বিশ্ববিদদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন এই মর্মে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ শংকর জোয়ার্দ্দার স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যায়নপত্র জামিন নেয়ার সময় আদালতে জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা তার ডাকনাম ব্যবহার করে এবং তার ভাগ্নের জীবিত পিতাকে মৃত দেখিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এতেই প্রমাণীত হয় আদৌ তিনি ঘটনাটি তদন্ত না করেই আদালতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষককে এভাবে পুলিশি হয়রানির করায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক জি.এম .তারিকুল ইসলাম এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্তপূর্বক এ এস আই আলী হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে এ এস আই আলী হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, যথাযথ তদন্ত করেই আসামিদের বিরুদ্ধে নন জিআর প্রসিকিউশন দেয়া হয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে মোচলেকা  দিলেই মামলা খারিজ হয়ে যাবে। প্রধান আসামির ডাক নাম এবং ৩ নং আসামির জীবিত পিতাকে মৃত দেখালেন কেন জানতে চাই তিনি তার কোন জবাব না দিয়েই বলেন, আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি, পরে কথা হবে।
এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার ওসি এ.কে.এম আজমল হুদা ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, ওই তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অন্য ঘটনায় সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে মিথ্যে মামলায় হয়রানি করার বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।