বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষ মুখোমুখি, তীব্র যানজট


269 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষ মুখোমুখি, তীব্র যানজট
ডিসেম্বর ১, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

টঙ্গীর তুরাগ নদের পাড়ে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে তাবলিগ জামাতের কর্তৃত্ব নিয়ে বিবদমান দুটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। সেখানে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা মাঠের সব কটি ফটকে কড়া পাহারা বসিয়েছে তাবলিগ জামাতের এক পক্ষ। অন্য দিকে আরেক পক্ষ কামালপাড়া এলাকায় রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে।

তাবলিগ–সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনের জোড় (সম্মিলন) এবং ১১-১৩ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত তিন দিনের ইজতেমা করার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। অপরদিকে তাবলিগের হেফাজতপন্থী মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা ডিসেম্বরের ৭ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত জোড় এবং আগামী বছরের জানুয়ারির ১৮ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত তিন দিন ইজতেমার ঘোষণা দিয়েছেন। দুই পক্ষের বিবদমান বিরোধের জেরে হেফাজতপন্থীরা মাঠ দখল করে সতর্ক পাহার ব্যবস্থা করেছেন।

শনিবার সকালে সাদ গ্রুপের লোকজন মাঠে প্রবেশ করতে গেলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। জোবায়ের গ্রুপের লোকজন লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। অন্যদিকে সাদ গ্রুপের লোকজন কামালপাড়া এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।

বিমানবন্দর এলাকা থেকে সমকাল প্রতিবেদক শহীদুল আলম জানান, তাবলিগ জামাতের দুটি গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই যানজট ঠেকছে বিমানবন্দর সড়ক সংলগ্ন মিরপুর, কুড়িলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতেও। তাবলিগ জামাতের একটি পক্ষ বিমানবন্দরের মূল গেইট ও এর আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে বিদেশগামী ও বিদেশ ফেরত যাত্রীরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিমানবন্দর এলাকায় শনিবার ফজরের নামাজের পর মাওলানা সাদ গ্রুপ ও জোবায়ের গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিমানবন্দর থানার ওসি নূরে আজম মিয়া জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পুলিশ পরিস্থতি তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

সকাল থেকে মাওলানা সাদের হাজার হাজার অনুসারী বিমানবন্দর সড়ক হয়ে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেখানে জোবায়ের গ্রুপের লোকজনের অবস্থানের কারণে তারা যেতে পারেননি।

কেরানীগঞ্জ থেকে আসা মাওলানা সাদের অনুসারী নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি শনিবার সকালে জোড় ইজতেমায় অংশ নিতে এসেছেন। কিন্তু তিনি ইজতেমা মাঠে প্রবেশ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, জোবায়ের গ্রুপ কোমলমতি মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে লাঠিসোঁটা দিয়ে ইজতেমা মাঠ পাহারায় বসিয়ে দিয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা সর্বস্তরের মানুষের জন্য। কিন্তু ইজতেমা নষ্ট করার জন্য নানা ধরনে চক্রান্ত হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে তাবলিগ জামাতের মারকাজ হিসেবে পরিচিত দিল্লির নিজামুদ্দিন। ওই মারকাজের প্রধান মুরুব্বিদের একজন মওলানা সা’দ। তার কিছু বক্তব্যে বছরজুড়েই কওমিপন্থিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তাবলিগে ফয়সালের মধ্যে মওলানা মুহম্মদ জুবায়ের, মওলানা রবিউল হক, মওলানা ওমর ফারুক মওলানা সা’দের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

তাবলিগের মাঠ দখলমুক্ত করার দাবিতে ২৭ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাদপন্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তাবলিগের অপর পক্ষটি উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী। তারা কোমলমতি মাদ্রাসাছাত্রদের হাতে লাঠিসোঁটা দিয়ে ইজতেমা মাঠ পাহারায় বসিয়ে দিয়েছে। এর আগেও মাদ্রাসার এসব শিশুকে মারকাজ মসজিদে হামলা, দখল, হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহার করা হয়েছে। এ অবস্থায় তারা (সাদপন্থী) যেন ৩০ নভেম্বর শুরু হওয়া পাঁচ দিনের জোড় ও ১১ জানুয়ারি থেকে তিন দিনের ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে করতে পারেন, সে জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।