বিশ্ব মা দিবস আজ


414 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিশ্ব মা দিবস আজ
মে ১৩, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
কাজী নজরুল ইসলাম ‘মা’ কবিতায় লিখেছেন- ‘যেখানেতে দেখি যাহা/ মা- এর মতন আহা/ একটি কথা এত সুধা মেশা নাই।’ মা আসলেই এমন একজন, সব হারিয়েও যিনি সন্তানের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে চলেন আমৃত্যু। যেখানে একজন মানুষ সর্বোচ্চ ৪৫ ডেল ব্যথা সহ্য করতে পারেন, সেখানে মা সন্তান জন্মের সময় সহ্য করেন ৫৭ ডেল ব্যথা! কিন্তু যে আবেগ, যে মমতা সন্তানের প্রতি মায়ের, তা পরিমাপের সাধ্য নেই কোনো পরিমাপক যন্ত্রে। আজকের দিনটি সেই শতকষ্ট সহ্য করে যাওয়া মায়েদের। আজ রোববার বিশ্ব মা দিবস।

সন্তানের জন্য গর্ভধারিণীকে বিশেষভাবে ভালোবাসার কোনো বিশেষ দিন থাকে না। তার পরও নানা সূত্রে মায়ের অপার মহিমা তুলে ধরারও একটি দিন এসে গেছে। বিশ্বজুড়ে সন্তানরা আজও মাকে ভালোবাসবে প্রতিদিনের মতোই।

পৃথিবীর আর কিছুই মায়ের সঙ্গে তুল্য নয়। মাকে মা, আম্মা, আম্মু যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এর চেয়ে মধুর কোনো শব্দ শব্দকোষে নেই।

১৮৬১ থেকে ১৮৬৪ সাল পর্যন্ত মার্কিন গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারায় লাখো তরুণ-যুবক। তাই সন্তানহারা মায়েরা কেঁদে ফেরেন টেক্সাসের পথে পথে। যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে তারাই রাজপথে নামেন। ১৮৭০ সালে জুলিয়া ওয়ার্ড হোই নামের এক মা ঘোষণা করেন, মা দিবসের ঘোষণাপত্র। এরও ৩৮ বছর পর মার্কিন নারী আনা জার্ভিস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে পালন করেন মা দিবস হিসেবে। একসময় বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পায় দিনটি।

তবে, যতই দিন গড়িয়েছে, মা দিবস ততই বাণিজ্যিক হয়ে পড়েছে। তাই একসময় একে ‘হলমার্ক ডে’ বলতেও দ্বিধা করেননি আনা জার্ভিস। মাকে কার্ড পাঠিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ পায় না- এ সত্যি তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তাই আনা জার্ভিস উপহার নয়, মাকে প্রতিটি ক্ষণ মনে রাখার কথা বলেছিলেন।

বাংলাদেশে মা দিবস পালনের চল খুব বেশি দিনের নয়। তার পরও ফেসবুকের কল্যাণে এখন সবারই জানা আজ মা দিবস। কয়েক দিন ধরেই ফেসবুকের পাতায় পাতায় মা দিবসের ডাক। কিন্তু এভাবে কি মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায়? বোধহয় পায় না। মাকে ভালোবাসার জন্য বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন নেই। মায়ের জন্য ভালোবাসা প্রতিদিনের। তার পরও দিবস বলে কথা! দিনটি যাদের মনে থাকবে, তাদের মধ্যে কাজ করবে মাকে আরও বেশি ভালোবাসার বাড়তি এক প্রেরণা।

মা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ নিবন্ধ। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠান। প্রতিবছরের মতো এবারও আজাদ প্রোডাক্টস ‘রত্নগর্ভা মা’দের সম্মাননা জানাবে।