বিষমুক্ত সবজি চাষে এনজিএফ এর মাঠ দিবস


449 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বিষমুক্ত সবজি চাষে এনজিএফ এর মাঠ দিবস
এপ্রিল ১৮, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ ::
নওয়াবেঁকী গণমুখী ফাউন্ডেশন (এনজিএফ) এর কৃষি ইউনিটের আয়োজনে গতকাল ১৭ই এপ্রিল ২০১৭, শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারী ইউনিয়নের শংকরকাটি গ্রামের নমিতা রানীর ফলাফল প্রদর্শনী ক্ষেতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সেক্স ফেরোমোন ফাঁদের ব্যবহার ও ফলাফল এর উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪টা থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন অত্র এলাকার সবজি চাষী, কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষির সাথে সম্পৃক্ত প্রযুক্তি গ্রহনে আগ্রহী কৃষক, কৃষি ব্যবসায়ী এবং এনজিএফ এর সংশ্লিষ্ট শাখা, কৃষি ইউনিট ও প্রধান কার্য়লয়ের কর্মকর্তা বৃন্দ।

মাঠ দিবসে বিষমুক্ত বেগুন চাষে “সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ” নতুন এ কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বিধি, নিয়মকানন, উপকারীতা, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, সহজলভ্যতা/প্রাপ্তীস্থান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন মোঃ আব্দুল হামিদ, সমন্বয়কারী-কৃষি ইউনিট, এনজিএফ। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে প্রাকৃতকি শত্রুগুলোর মধ্যে পোকামাকড় অন্যতম। বগেুনরে ডগা ও ফল ছদ্রিকারী পোকার আক্রমণে বগেুনরে ফলন মারাত্বকভাবে হ্রাস পায়। অন্যদকিে কুমড়া জাতীয় সবজরি মাছি পোকাও অত্যন্ত ক্ষতকির পোকা। যার আক্রমনে ফসলরে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। ফলে কৃষকরা দশিহোরা হয়ে অযাচতি উপায়ে কীটনাশক ব্যবহার করে। এতে কৃষি পরবিশে দূষতি হয়। তাছাড়া বষিযুক্ত সবজি খয়েে মানুষ নানাবধি রোগ আক্রান্ত হয়। বষিমুক্ত সবজি উৎপাদনে সক্সেফরেোমোন ফাঁদ নামে পরিচিত এ জৈবিক প্রযুক্তরি দ্বারা বগেুনরে ডগা ও ফল ছদ্রিকারী পোকা এবং কুমড়া জাতীয় ফসলরে ফলরে মাছি পোকা র্কাযকরভাবে দমন করা সম্ভব। সুতরাং প্রযুক্তিটির ব্যবহারে একটু যতœশীল হলে ১টি ফেরোম্যান ফাঁদ কমপক্ষে ২-৩ মৌসুম পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন, সেক্ষেত্রে ২৫ শতাংশের ১টি সবজি ক্ষেত থেকে বছরে কমপক্ষে ৮-১০হাজার টাকা শুধুমাত্র কীটনাশক বাবদ ব্যয় কমানো সম্ভব। দশেে একমাত্র ইস্পাহানী কোম্পানী বভিন্নি ধরনরে সবজি ও ফলরে সক্সে ফরেোম্যান ফাঁদ কৃষক র্পযায়ে বাজারজাত করছে। সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ ব্যহারকারী সবজি চাষীরা বলেন- এটি ব্যবহার করা সহজ এবং খরচও বহুলাংশে কমায়। এ প্রসংগে ফলাফল প্রর্দশনী ক্ষেতের চাষী বলেন, কীটনাশক বাবদ ১টি টাকাও এখন পর্যন্ত আমাকে ব্যয় করতে হয়নি, বরং সম্পূর্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় সবজি উৎপাদন করায় সবজি বিক্রি করতে আমাকে বেগ পেতে হচ্ছে না, ক্রেতারা ক্ষেত থেকেই সবজি নিয়ে যায়।

মাঠ দিবসের সমাপনী সেশনে সরদার জিয়াউদ্দীন (মনিটরিং ও মূল্যায়ন সেল, প্রধান কার্যালয়) বলেন, কৃষি প্রযুক্তির অন্যতম আবিস্কার সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ, আমাদের উত্তরবঙ্গে যাঁদুর বাক্স নামে পরিচিত, যা ব্যয় সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব, ব্যবহার উপযোগী এবং সম্পূর্ণ জৈবিক পদ্ধতির প্রয়োগে পোকা/মাকর দমন করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের একটি টেকসই কার্যকরী পদ্ধতি। তিনি প্রযুক্তিটির সম্প্রসারণে চাষীদের মতামত জানতে চান, প্রায় সবাই বলেন, কম খরচে, কম সময়ে, সবজি ক্ষেতের ক্ষতকির পোকা নয়িন্ত্রণ করা যায়।এছাড়া বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করায় ফলন তুলনামূলকভাবে একটু কম হলেও ভাল দাম পাওয়া যায়। উপস্থিত চাষীদের মধ্যে ৪জন জানায় ইতিমধ্যেই নিজ খরচে তারা সবজি চাষে ব্যবহার করছেন। পরিশেষে সকল চাষীদের নিয়ে মাঠ পরিদর্শন, ফাঁদ পর্যবেক্ষণ, উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম বিশ্লেষন করা হয়। আমরা আশা করছি, নতুন এ কৃষি প্রযুক্তিটির টেকসই সম্প্রসারণ ঘটবে এবং বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের পায়োনিয়ার গ্রাম হিসেবে শংকরকাটি গ্রামের নাম এনজিএফ আর্কাইব এ লিপিবদ্ধ থাকবে।