বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ


731 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৬ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস কে হাসান :
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ শুরুর পাশাপাশি ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠ-ঘাট, অফিস-আদালত, দোকান-বাজার সর্বত্র চলছে এখন সমর্থন-মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে জোরালো ও রসালো আলোচনা।
বিশেষ করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা ইউপি নির্বাচন মার্চে হবে এমন চিন্তা মাথায় নিয়ে রাজনৈতিক দলের সমর্থন ও মনোনয়ন আদায়ে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে কোন কোন রাজনৈতিক দলের ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের প্রার্থী তালিকা কিংবা একাধিক গ্রুপের তালিকা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছানোর খবর রয়েছে। তবে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে বেশ রসালো গল্প। আগামী বৃহস্পতিবার ইউপি নির্বাচনে তফশীল ঘোষণা হতে পারে এমন খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশের পর এই গল্প ও মনোনয়ন পাওয়ার সর্বশেষ চেষ্টা-তদবীরের জোর তৎপরতার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে বুধহাটা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য ৬ প্রার্থীর কয়েকজন গণসংযোগ, মতবিনিময় ও ইউনিয়ন ব্যাপী ডিজিটাল ব্যানার ও পোষ্টারে ছেয়ে ফেলেছেন। প্রার্থীদের তৎপরতায় ভোটারদেরও নড়েচড়ে বসতে দেখা যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ, গণসংযোগ, সমর্থকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগসহ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বুধহাটা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান এখন মাঠে রয়েছেন সর্বক্ষন। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে আমি ইউনিয়ন পরিষদকে সর্বোত্তম সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছি। গরীব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কোন মানুষকে ক্ষতির মুখে ফেলায়নি। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নে অকৃপন ভাবে কাজ করেছি। ইউনিয়নটি এখন একটি আধুনিক ইউনিয়নে পরিণত হতে চলেছে। পুনরায় নির্বাচিত হলে কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করব ইনশাল্লাহ। পরীক্ষিত আওয়ামীলীগ নেতা, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিমের মেঝ ভ্রাতা, বুধহাটা ইউনিয়ন পুলিশিং ফোরামের সভাপতি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য, আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আ ম ব মোছাদ্দেক দীর্ঘদিন যাবৎ ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি জানান আমি বুধহাটা ইউনিয়নে বিগত ১০ বছর ধরে অনেক জায়গায় কাচা রাস্তা দেখেছি। আমি নির্বাচিত হতে পারলে বুধহাটা ইউনিয়নের কোথাও কাচা রাস্তা থাকবে না। বুধহাটা, গাজীর হাট, পাইথালী বাজারকে আধুনিকায়ন করব। মাদক, সন্ত্রাস ও দালালমুক্ত করে বুধহাটাকে মডেল ইউনিয়নে পরিণত করব। যে সমস্ত জায়গায় বিদ্যুৎ পৌছায়নি সেখানে বিদ্যুতায়ন করা হবে। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ সহ অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করব। সঠিকভাবে ভিজিডি কার্ড বিতরণ করা হবে। সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ ও বর্তমান আ’লীগ নেতা এবং উপজেলা স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের আহবায়ক, আশাশুনি মহিলা কলেজেন প্রভাষক আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রভাষক মাহবুবুল হক ডাবলু চেয়ারম্যান নির্বাচন করার চিন্তা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জানান আমি নির্বাচিত হতে পারলে ছাত্র/শিক্ষক বান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করব। পাড়া মহল্লায় বখাটে মাস্তান নিমূল করব। ইউনিয়ন পরিষদকে সর্বোত্তম সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করব। দুর্নীতিমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ইউনিয়ন গড়ে তুলব। জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানি ব্যবস্থা, মাদক, সন্ত্রাস ও দালাল নির্মূল করে গবীর অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বুধহাটা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে পরিণত করব। আমি চার বছর ধরে আ’লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে সুসংগঠিত করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাব। আশাশুনি থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন আ’লীগের বর্তমান ও বারবার নির্বাচিত সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা এটিএম আক্তারুজ্জামান মাঠে রয়েছের দীর্ঘদিন। ইউপি নির্বাচনে আ’লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আক্তারুজ্জামান জানান, আমি এজন পরীক্ষিত আ’লীগ নেতা। সব সময় মাঠে ও মানুষের পাশে থেকেছি। রাজনৈতিক বিভিষীকিময় সময়ে জামাত-বিএনপির সন্ত্রাসী ও নাশকতা সৃষ্টিকারীরা আমার বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছে। পুকুর লুট করেছে। ইতিপূর্বে  মিথ্যা মামলায় জেল জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। আ’লীগ পরিবারের সদস্য হিসাবে দক্ষ সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে এসেছি। দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে ৪ ইউনিয়নের ৩৬টি ওয়ার্ডে সর্ব সম্মত কমিটি দিতে পেরেছি। চেয়ারম্যান হতে পারলে আমি বুধহাটাকে আ’লীগের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য মাথায় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল মানুষকে সেবাদান করে আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদে পরিণত করবো। সাতক্ষীরা জেলা বাস্তুহারাদলের সভাপতি বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান পলাশ জানান, আমি বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে যাব। মনোনয়ন না দিলে দলীয় যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব। স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শরিফা খাতুন ফুটফুটি জানান, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। পরিষদের বেশিরভাগ কার্যক্রম নারীদের নিয়ে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের জন্য অধিক সুবিধা হবে। আমি ইউনিয়নের অবহেলিত বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকে ইউনিয়ন বাসীকে সেবা ও খেদমত করে যাব।