বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কে সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ


133 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কে সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ
আগস্ট ১৫, ২০২২ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

নিম্ম চাপের প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে নদীতে প্রবল জোয়ার। নাজুক বেড়ি বাঁধ। সেই বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় উপকূলের মানুষ। প্রতিনিয়ত প্রকৃতিক দূর্যোগ ও নদী ভাঙনের সাথে লড়াই করে চলতে হয় তাদের। কিন্তু বিভিন্ন আন্দোলন করে কোন ফল পায়নি তারা। নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে প্রতি বছর নষ্ট হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এ সম্পদ পুষিয়ে উঠার আগে আবারও পড়ে নদী ভাঙনের কবলে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূল এলাকার মানুষ সব সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাদের সহায় সম্বল হারিয়ে নি:স্ব হয়ে যায়। প্রতিবছর একেক সময় একেক রকম দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয় উপকূলের মানুষদের। কখনো ঝড় আবার কখনো নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিতে প্লাবিত হয়ে। কখনো বন্যায় প্লাবিত হয়ে থাকে। সম্প্রতি সব চেয়ে বড় দুর্যোগ বলে মনে করেন নদী ভাঙন। এ নদী ভাঙন যেন উপকূলের মানুষের পিছু ছাড়ছে না। তবে নদী ভাঙনকে সরকারি অবস্থাপনাকে দায়ি করেন উপকূলের মানুষ। গত আম্পান ঝড়ের পরে উপকূলের মানুষের যে পরিমান ক্ষয়-ক্ষতি হয়ে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। তারপর আবার বড় ধারণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসার পূর্বাভাস শোনা যাচ্ছে। যদি এ জোয়ারে সময় নাজুক বেড়িবাঁধের দিকে নজর না রাখলে বাঁধ ভেঙে উপকূলের মানুষের চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে। উপকূলের মানুষের এ ধরনের দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় হলেঅ টেকসই বেড়িবাঁধ নিমাণ করা। ইয়াসের পরে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে কাজ করলেও শুভংকরের ফাঁকি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারা। কিন্তু ইয়াসের পরে উপকূলের ১৪৯ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধের ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে। ইয়াসের আগে বুলবুল ঝড়ের পরে ৪৩টা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ছিলো। ইয়াসের পরে ১৪টি পয়েন্টের কাজ হলেও এখনো ভালোভাবে কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। খুব দ্রুত যদি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো কাজ না করা যায়, তাহলে অতিরিক্ত নদীর জোয়ারের পানিতে উপকূলের মানুষ তাদের সর্বস্ব হারাবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের মধ্যে মুন্সীগঞ্জে ৩টি, বুড়িগোয়ালীনিতে ৫টি, গাবুরায় ৭টি, পদ্মপকুরে ৮টি, কাশিমাড়ীতে ১টি, আটুলিয়ায় ১টি পয়েন্টগুলো খুব ঝুঁকিপূর্ণ। মুন্সীগঞ্জ বড় ভেটখালী গ্রামের সাইফুল ও রবি সরদার বলেন, আম্পানের সময় বড় ভেটখালির গোড়া ভাঙন দেখা দেয়। তারপরে সেটা ঠিক করা হয়নি। সামনে যে ঝড় আসছে সে ঝড়ের আগে যদি এ ভাঙনে কাজ করা না হয়, তাহলে বাঁধ ভেঙে যাবে। ক্ষতি হবে এলাকার হাজার হাজার বিঘার জমির মৎস্য সম্পদ। হরিনগর সিংহড়তলী গ্রামের বিশ্বজিত রায় বলেন, ইয়াসের পরে সিংহড়তলীর ভাঙন দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোডের্র লোকদের বলার পরও কাজ করেনি। সামনে যে অশনি ঝড় আসছে সে ভয়ে আতঙ্কে আছি। যদি ভেঙে যায় তাহলে আমারদের সব ধ্বংস হয়ে যাবে। বুড়িগোয়ালীনির দূর্গাবাটি গ্রামের দিনেশ মন্ডল ও রতি রাণী বলেন, ইয়াসের সময় বাঁধ ভেঙে ঘর বাড়ি সব পানি উঠে গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো লাগাতে পারেনি। আবার শুনছি নতুন করে অশনি নামের ঝড় আসবে। আমাদের ওবদার রাস্তাগুলো ঠিক করে দিলে আর পানিতে ভাসতাম না।

এবার যদি পানি ঢোকে তাহলে কথায় যাব? মুন্সীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান অসীম মৃধা বলেন, মুন্সীগঞ্জে ৩টি পয়েন্ট খুব ঝুঁকিপূর্ণ। আমি বারবার পান্নি উন্নয়ন বোডের্র লোকদের বলার পরও তারা কাজ করছে না। অতিরিক্ত জোয়ার আর বৃষ্টির কারণে নাজুক বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা আছ। জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ডালিম ঘরামী বলেন, উপকূলীয় এলাকা নদী বেষ্ঠিত এলাকা। এখানে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্যোগের সম্মূখিন হতে হয়। সরকারি মহল থেকে বারবার আশ্বাস প্রদান করলেও তা বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় না। যে কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে আতঙ্কিত থাকে। বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট আছে। পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আমজাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের ইউনিয়নটা দ্বীপ ইউনিয়ন। এখানে ২৮ কিলোমিটারের মধ্যে ৮টি পয়েন্ট খুব ঝুঁকিপূর্ণ। তাড়াতাড়ি কাজ না করলে আবার ভেঙে প্লাবিত হবে। এছাড়া আমাদের বড় সমস্যা হলো বেড়িবাঁধের অংশ আশাশুনির মধ্যে। যে কারণে আমাদের দাবি সঠিকভাবে পূরুণ হয় না। এ বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, আমরা অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে সে জন্যে সম্পর্ণ প্রস্তুত রয়েছি পর্যপ্ত জিআইও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র রেডি আছে। অনেক জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কাজ চলমান রয়েছে এবং অনেক কাজ হয়ে গেছে।