বোঝেন তো সাংবাদিক সাহেব, অনেক দিন ঢাকাতে—–


1027 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
বোঝেন তো সাংবাদিক সাহেব, অনেক দিন ঢাকাতে—–
জুন ২৪, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ এম. কামরুজ্জামান ॥
——————————-
বড় একটি রাজনৈতিক দলের সাতক্ষীরা জেলা সভাপতির কথা বলছি। কয়েক দিন আগে তার একটি স্বাক্ষাতকার আমার বড্ড প্রয়োজন । তিনি সাতক্ষীরার কোন আসন থেকে এমপি হতে চান বা মনোনয়ন প্রত্যাশি সে-টি জানার জন্য আমার কর্মস্থল দৈনিক সমকাল পত্রিকা অফিস থেকে আমাকে বলা হলো। ওই ভদ্র লোক ঢাকা প্রবাসী। সাতক্ষীরায় বছরে ৪ থেকে ৫ বার হয়তো আসেন। সাতক্ষীরাতে মাঝে মধ্যে আসলেও মিডিয়ার ধারে পাশে যেতে চান না। যে কারনে উনার সাথে আমার দেখা সাক্ষাত কম হয়। আমি তাকে চিনলেও তিনি আমাকে চেনেন বলে মনে হলো না। আমি প্রায় ২৪ বছর সাংবাদিকতা পেশায়। একাধিক মিডিয়াতে কাজ করি। আমার রয়েছে নিজের একটি নিউজ পোর্টাল ( অনলাইন সংবাদপত্র)। সাংবাদিকতায় একটিভ থাকার চেষ্টা করি। একাধিক বার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু মাঠে-ঘাটে কাজ করতে গিয়ে ওই মানুষটিকে কখনও রাজনৈতিক অঙ্গনে আমি দেখিনি। কখনও মিছিল করতে দেখিনি। সাতক্ষীরার কোন সংকটে দেখিনি। দেখিনি সাতক্ষীরার মানুষের কল্যানে কাজ করতে।

যাই হোক উনার মোবাইল ফোনে রিং করলাম কয়েক বার। বেলা তখন বাজে প্রায় সাড়ে ১২ টা। রিং ধরলেন না। হতাশ হলাম। প্রায় ২০ মিনিট পরে ওই রাজনীতিবীদ আমাকে রিং করে জানতে চাইলেন আমার পরিচয়। আমার পরিচয় দিতেই উনি (সাংবাদিক জেনে ) কথা বলার আগ্রহটা যেনো হারালেন——। বিরক্তবোধ করলেন—-। বুঝতেও পারলাম কথা বলতে চাচ্ছেন না। বললেন সকালের ঘুম এখনও ভাঙেনি  ( বেলা তখন প্রায় ১টা) , ঘুমাচ্ছিলাম ——।

যাই হোক কৌশলী হয়ে দুই-একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম। দেখলাম একটু ফ্রি হলেন। আস্তে আস্তে আমার মূল প্রশ্নের দিখে এগুলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম সাতক্ষীরার কোন আসন থেকে আপনি নির্বাচন করতে চান ? কিছুক্ষণ থমকে গেলেন। বললেন আপনি আমাকে চেনেন না। আমার বাবা সাতক্ষীরা-২,  সাতক্ষীরা-৩ ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের নির্বাচিত এমপি ছিলেন। মন্ত্রীও ছিলেন। বিশাল একটি দলের জেলা সভাপতি আমি। আমার ভাবনা পুরো সাতক্ষীরা জেলাকে নিয়ে। আমি কোন নিদিষ্ট আসন নিয়ে কাজ করিনা বা ভাবিনা। জনগণের জন্য আমি সাতক্ষীরার একপ্রাপ্ত থেকে অপর প্রাপ্ত পর্যন্ত কাজ করে আসছি। দুই দুইবার দলের জেলা সভাপতি হয়েছি। আমার এই পদে আগে যারা ছিলেন তারা তো তাদের আসনের বাইরে কিছুই ভাবেননি। লোকের মতো আমি এমপি হওয়ার জন্য রাজনীতি করিনা, রাজনীতি করি মানুষের জন্য। বুঝার চেষ্টা করছিলাম সাতক্ষীরার কোন আসনে থেকে উনি নির্বাচন করতে চান তা বুঝতে। কিন্তু পারছিলাম না। ছোট ছোট আরো দুই-একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতেই উনি বললেন, আমার বেড়ে ওঠা সাতক্ষীরা জেলা শহরে। আর আমার বাবার সবচেয়ে বেশি কর্মকান্ড ছিলো দেবহাটা-কালিগঞ্জ আসনে। বিধায় ওই দুটি আসনে তো আমি প্রার্থী হতে চাই। এক পর্যায় বললের সাতক্ষীরা সদর আসন হলে আমার জন্য সহজ হয়। জায়গাটা মোটামুটি ফাঁকা রয়েছে। দৌড়-ঝাপ কম করলেই চলবে। তাকে প্রশ্ন করলাম বলুন তো সাতক্ষীরা সদর আসনে কয়টি ইউনিয়ন রয়েছে। একটু অপ্রস্তুত হলেন ওই রাজনীতিবীদ।

থমকে গিয়ে বললেন —–বোঝেন তো সাংবাদিক সাহেব ——অনেক দিন ঢাকাতে।  এলাকায় যায় তো কম—–। তবে ভোট আর একটু কাছাকাছি আসলে দেখবেন প্রায় এলাকায় থাকবো———-। এবার সাতক্ষীরায় এসে আপনাদের সাথে ( সাংবাদিকদের সাথে) দেখা করবো———।

আরো কিছু প্রশ্ন করলাম ওই রাজনীতিকের কাছে। সাতক্ষীরার বর্তমান সমস্যা, সড়ক যোগাযোগ, বাইপাস সড়ক, মেডিকেল কলেজের সমস্যা, আইলা দুর্গত মানুষের অবস্থা, জেলার স্বাস্থ্য সেবা —-ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য সাতক্ষীরা সম্পর্কে তার কোন ধারণাই আছে বলে আমার মনে হলো না।

প্রিয় পাঠক, এই রাজনীতিবীদ কে ? (একটু চিন্তা করেন পেয়ে যাবেন)।

কি বলবেন উনাকে ? কি উপাধিবা দিবেন তাকে ?

যাই বলেন না কেনা আমাদের প্রত্যাশা রাজনীতি হোক এলাকার গণমানুষের জন্য রাজনীতি। রাজনীতি হোক এলাকার উন্নয়নের রাজনীতি। রাজনীতি না হোক নিজের আখের গোছানোর রাজনীতি।
##

লেখক :
এম. কামরুজ্জামান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট এটিএন বাংলা / দৈনিক সমকাল। সম্পাদক, ভয়েস অব সাতক্ষীরা।