ব্যর্থতারও গুরুত্ব আছে!


274 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ব্যর্থতারও গুরুত্ব আছে!
জানুয়ারি ২, ২০১৬ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের একটি উক্তি হলো ‘মানুষের সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার দরকার আছে কারণ সফলতার স্বাদ উপভোগ করতে তা দরকার।’ আসলেই তাই। কোনো কাজে ব্যর্থতা না থাকলে বা সমস্যা্র মুখোমুখি না হলে মানুষ শেখে না। তাই ব্যর্থতা থেকে মানুষের শিক্ষণীয় কি অর্থাৎ ব্যর্থতারও যে গুরুত্ব আছে তা নিয়েই নিচে আলোচনা করা হলো :

এগিয়ে যেতে সাহায্য করে : সবকিছু যদি স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে তাহলে আপনি অনেক দ্রুত সামনে এগোতে পারবেন। যদিও এভাবে এগিয়ে যাওয়া কোনো বৈচিত্র্য প্রকাশ করবে না। এ কারণে বিষয়টি স্বাভাবিক নিয়মেই মেনে চলার মতো হবে। অন্যদিকে চলার পথে যদি উত্থান-পতন থাকে তাহলে তা আপনার জীবনকে বৈচিত্রময় করবে। এতে সামনে এগিয়ে যাওয়াকে উপভোগ করা যাবে। ব্যক্তিগত জীবন কিংবা কর্মক্ষেত্র, সবখানেই ব্যর্থতায় হতাশা আসবে এবং সাফলে আনন্দ আসবে এটাই স্বাভাবিক। আর উভয় বিষয় ছাড়া সম্পূর্ণ উপভোগ করা যাবে না। ব্যর্থতা ছাড়া সাফল্য অবান্তর।

সতর্ক হতে শেখায় :  কোনো বিষয় ভেঙে গেলে আমাদের বড় ভুল হয়ে গেছে বলে মনে হতে পারে। আবেগগত বিষয় ছাড়াও থাকতে পারে আর্থিক কিংবা পেশাগত ক্ষতির বিষয়। আর এতে দুঃখবোধ হতেই পারে। তবে এ বিষয়টি আপনাকে বেশ কিছু বিষয় শিখতে সহায়তা করবে। যেমন একটি গ্লাস মাটিতে পড়ে ভেঙে গেলে আপনি ভালোভাবে সে স্থানটি পরিষ্কার করবেন। পরিবারের অন্য কোনো সদস্য যেন এখানে আঘাত না পায় সেজন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবেন। আর এ বিষয়টি ঘটতে পারে অন্য যে কোনো বিষয়েই। যে কোনো ভুল হলে তা সামলে ওঠার জন্য যা যা করা দরকার তা আপনার শেখা হবে।

উদ্যম সংযত করা : সবারই বহু সমস্যা থাকে। কেউ যখনই এ সমস্যায় ভিন্ন কোনো মাত্রা যোগ করে তখন তা এতে বাড়তি বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে। কর্মক্ষেত্রে কোনো বিষয়ে সামান্য ভুল হলেই তাতে একে অন্যকে দায়ী করে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেখা যায়। যখনই এমন কোনো পরিস্থিতি দেখা যায় তখনই তা মানুষের উদ্যমের প্রকাশ ঘটায়। এ ঘটনা উদ্যমকে সংযত হতেও সহায়তা করে। কারণ একবার ভুলের ফলে উদ্যমের যে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, দ্বিতীয়বার ভুলে তা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এতে পরবর্তীতে যেন এমন ভুল না হয় সেজন্য যথাযথ উদ্যমের সঙ্গে প্রস্তুতিও নেওয়া যায়।

উদ্দেশ্য ঠিক করা : যখনই কোনো ভুল হয় তখন মনে ঠিক কোন বিষয়টি আসে? অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমি কিভাবে এত বড় ভুল করলাম? এক্ষেত্রে তখন স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা আসতে পারে যে, আমি বাস্তবে এত বড় বোকা নই। কিন্তু উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। আর এ বিষয়টি পরবর্তীতে উদ্দেশ্য সামনে রেখে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।

ভুল সামলে উঠতে সহায়ক : একটি ভুলের পর তা সামলে ওঠাই স্বাভাবিক। আর এ থেকে শেখা যায় ভুল কাটিয়ে স্বাভাবিক হয়ে ওঠার উপায়। ব্যর্থতা মূলত এমন একটি বিষয় যা চলার পথে স্বাভাবিকভাবে আসতেই পারে। আর একে সামলে ওঠাও একটি শেখার বিষয়। ভুল করলে এ শিক্ষা আপনি পেয়ে যাবেন। আর পরবর্তীতে যেন এমন ভুল না হয়, সে উদ্যমও এ থেকে সঞ্চয় করা সম্ভব হবে। সূত্র : ফোর্বস