ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই সৈয়দ আলী বেপরোয়া


889 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই সৈয়দ আলী বেপরোয়া
ডিসেম্বর ২২, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সদ্য পদোন্নতি পেয়েই তেলেসমাতি কারবার চালাচ্ছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই সৈয়দ আলী। একই ক্যাম্পে কনষ্টেবল থেকে পদোন্নতি পাওয়ায় চিরচেনা সব জায়গায় টাকার জন্য হন্যে হয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন শেষ নেই। দিন-রাত চষে বেড়াচ্ছেন ব্রহ্মরাজপুর, ধুলিহর ও ফিংড়ী ইউনিয়ন। টাকার জন্য সব সময় মরিয়া। টাকা পেলেই সব কাজ সম্ভব তার দ্বারা। আবার টাকা না দিলেই উল্টো কাজ। মারধর, হুমকি-ধামকি, নির্যাতন এতে কাজ না হলে আটক করে পুলিশ ক্যাম্পে এনে শুরু হয় টাকা আদায়ের বিভিন্ন কলা-কৌশল। টাকা আদায় শেষে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব অভিযোগ ওই এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগীর।

তথ্যানুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপকর্মের খবর। বিশেষ করে জামায়াতের তালিকায় নাম আছে এই অভিযোগ খাড়া করে এলাকার নিরীহ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। একজন এএসআই হয়ে তার দৌরাত্বে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন সাধারন মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

রাতের বেলা তার দাপটটা বেশি পরিলক্ষিত হয়। একটু রাত হলেই এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত দাপিয়ে বেড়িয়ে পথে চলাচলকারী সাধারন মানুষকে আটকিয়েও টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কোন অভিযোগের তদন্তভার এএসআই সৈয়দ আলীর উপর দিলেই অভিযোগের বিবাদীদের মামলার আসামী বলে ধরে আনা হয়। এরপর মিমাংসার নামে শুর হয় অর্থ বাণিজ্য। একপর্যায়ে বাদী ও বিবাদী উভয়ের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন করে। অনেক সময় অভিযোগের আপোষ-মিমাংসা শেষে ঘুষ নয় সম্মানী ও মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে দুই পক্ষের লোকজনের কাছ থেকেও টাকা আদায় করা হয়। খাজা বাবার দরবারে খালি হাতে কেউ ফেরে না অর্থাৎ টাকা ছাড়া এ পর্যন্ত তার হাত থেকে কেউ রেহাই পায়নি।

সদ্য পদোন্নতি পেয়েই এএসআই সৈয়দ আলীর বিলাসী জীবন শুরু হয়ে গেছে। পুরনো মোটর সাইকেল ছেড়ে কিনেছে নতুন পালসার গাড়ি। চলা-ফেরায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। তার পদোন্নতি পেতে খরচ হয়েছে সতের লাখ টাকা এমনটিও প্রচার দিচ্ছে সে নিজেই। সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ,এস,আই) হয়ে পুরো ক্যাম্পের দায়িত্ব পালন করছে সে। উপর মহলকে খুশি করতে পারছে বলেই ইনচার্জ হিসাবে পুরোপুরি দায়িত্ব তার এমন কথাও বিভিন্ন জায়গায় প্রচার পেয়েছে।  এজন্যই নাকি তার চাওয়া-পাওয়ার মাত্রাটা একটু বেশি। তার এসব কর্মকান্ড এলাকাবাসীকে হতবাক করে তুলছে।

দহাখুলা গ্রামের আব্দুল মালেক সরদারের পুত্র চাউল ব্যবসায়ী আব্দুল গফ্ফার জানান, কিছু দিন আগে গভীর রাতে এএসআই সৈয়দ আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আমার বাড়ীতে গিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুলে এক লক্ষ টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না দিলে পাঁচটি জামায়াতের মামলা দিয়ে চালান দেবে বলে হুমকি দেয়। এ সময় গফ্ফারের স্ত্রী শুনা-বোঝার জন্য এগিয়ে গেলে তাকে গুলি করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এক সাংবাদিকের ফোন পেয়ে তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে আসে।

বালিথা গ্রামের মৃত ফকির চাঁদের পুত্র ইনতাজ, একই গ্রামের মৃত মান্দার গাজীর পুত্র জিয়াদ আলী, এরশাদ আলীর পুত্র ওসমান, কালেরডাঙ্গা গ্রামের আরদ আলী মিস্ত্রীর পুত্র হেলাল, একই গ্রামের মৃত রহমাতুল্যার কন্যা নূরজাহান খাতুন, কোমরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র আক্তারুল, একই গ্রামের আজিজের পুত্র জিয়ারুল সহ বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে মাদক বিক্রেতা, মাদক সেবনকারী, মামলার আসামী, জামায়াতের তালিকা ও জুয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

অনেক সময় কথা মত চুক্তিতে কাজ না হলে বা এলাকায় ঘটনা জানাজানি হলে দুই একজন মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবনকারীকে লোক দেখানো আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করে সাজা দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

গত শনিবার দুপুরে থানায় পতিপক্ষের দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে কোমরপুর গ্রামের পত্রিকা পরিবেশক সোলাইমান হোসেন বাবুর পুত্র সোহেলকে আটক করে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পে ধরে আনে। এ সময় এ ঘটনার জন্য বিডিএফ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই অভিযোগটি নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পে বসাবসি শেষে মিমাংসা হলেও তাদের উভয়ের কাছ থেকে মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। এভাবেই চলছে একের পর এক টাকা আদায়ের সাত কাহন।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী অবিলম্বে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্প থেকে এ,এস,আই সৈয়দ আলীকে প্রত্যাহার সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পের এ,এস,আই সৈয়দ আলীর সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সবই মিথ্যে ও বানোয়াট। কোন মামলা তদন্ত করার ক্ষমতা আমার নেই। আমার কর্ম এলাকা থেকে যাদেরকে সদর থানা পুলিশ নানা অভিযোগে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তার জন্য আমাকেই দায়ি করা হচ্ছে। কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।