ব্লগার হত্যার পরই ব্যবস্থা নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী


399 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ব্লগার হত্যার পরই ব্যবস্থা নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী
জুলাই ৭, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্লগার হত্যার পরই সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরই হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তার সরকার বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না। রোববার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ইসলামী চরমপন্থিদের নিয়ে সরকার সমস্যায় আছে কি-না- এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ধর্মনিপেক্ষ রাষ্ট্র। দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারে। দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সহনশীলতা আছে। আমরা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতির প্রশংসা করতে গিয়ে ‘একজন নারী হওয়া সত্ত্বেও’ (ডিসপাইট বিইং এ উইমেন) শব্দগুলো ব্যবহার প্রসঙ্গও আসে সাক্ষাৎকারে। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে শেখ হাসিনা হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমি মনে করি (নরেন্দ্র মোদি) এ নীতির প্রশংসাই করেছেন। আমি এভাবেই বিষয়টিকে দেখি। তিনি হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে আমি যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছি তা অনেক পুরুষের পক্ষে সম্ভব নয়।’

বিবিসির সাংবাদিক মিশাল হুসেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, বাল্যবিয়ে, ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়েও কথা বলেছেন। গত রোববার আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে এ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১৫ বছরে বাংলাদেশের সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যখন সরকার গঠন করি তখনই এ ব্যাপারে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। বাংলাদেশে এসব ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।’
বাল্যবিয়ে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সামাজিক কিছু বাধা কাজ করে। মেয়েরা যথাযথ শিক্ষাগ্রহণ করে অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হলে বাল্যবিয়ে কমে আসবে। শুধু আইন করে কিংবা চাপ প্রয়োগে তা বন্ধ করা যাবে না। এমন সুযোগ ও পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেন অভিভাবকরা বুঝতে পারেন মেয়ের বিয়ে দেওয়াটাই একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না।

দারিদ্র্যের কারণে মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণ ব্যাহত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। এ ব্যাপারে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, স্কুলে মেয়েদের জন্য পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় অভিভাবকরা উৎসাহী হয়েছেন। তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে। বইয়ের জন্য অভিভাবকদের একটি পয়সাও ব্যয় করতে হয় না। আমরা বলেছি, আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি, আপনারা সন্তানদের স্কুলে পাঠান।’