ভারতকে হারিয়ে বড় স্বপ্ন


403 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভারতকে হারিয়ে বড় স্বপ্ন
আগস্ট ১৪, ২০১৫ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভেয়স অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
ফুটবল মাঠে লাল-সবুজ উৎসব। অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কাল ভারতকে হারিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশের কিশোরদের জয়োৎসব l আনিস মাহমুদফুটবল মাঠে লাল-সবুজ উৎসব। অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কাল ভারতকে হারিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশের কিশোরদের জয়োৎসব l আনিস মাহমুদহাজার আঠারো দর্শক আর ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ রব। যেদিকে চোখ যায় শুধুই পতপত করে উড়ছে বাংলাদেশের পতাকা। এর চেয়ে জয়ের আর উপযুক্ত মঞ্চ কেমনই বা হতে পারে? বাংলাদেশের কিশোররা এমন মঞ্চ পেয়ে যেন তেতে উঠল। জীবনানন্দ দাশের সেই কবিতার মতোই ‘যেন এক দেশলাই জ্বলে গেছে’।
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে কাল বাংলাদেশের কিশোররা দারুণ খেলল। যদিও স্কোরলাইনে এর প্রতিফল ঘটেনি। জয়ের ব্যবধান যে ২-১। ভারত যে একটি গোল করতে পারল, বাংলাদেশের গোলরক্ষক ফয়সালের তাতে কিছুটা অবদান ছিল।
ওই একটি গোল ছাড়া বলার মতো কিছু করতে পারেনি ভারত। বাকি গল্পটুকু শুধুই বাংলাদেশের। শুরু থেকেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ম্যাচটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিল নিজেদের হাতে। ৩৩ মিনিটে মোহাম্মদ শাওন ভারতের জালে বল পাঠিয়ে মাতিয়ে দিল গোটা স্টেডিয়াম।
প্রথমার্ধে গোল আসতে পারত আরও অন্তত দু-তিনটি। কিন্তু অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণেই কিনা সহজ সুযোগও নষ্ট হচ্ছিল বারবার। প্রতিপক্ষ ভারত, তার ওপর এই টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। সেই দলটিই কিনা বাংলাদেশের সামনে সাদামাটা। শ্রীলঙ্কাকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ভারতকে প্রথমার্ধে অনেকটা দিশেহারাই মনে হয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য ঝলক দেখাল ভারত। ৪৮ মিনিটে রহিম আলীর গোলে ১-১। মিনিট দশেক ‘যুদ্ধংদেহী’ মনোভাব ফুটে বেরোচ্ছিল ভারতীয় কিশোরদের শরীরে। এরপর আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে। একের পর এক আক্রমণে ভারতকে চেপে ধরলেও গোল আসছিল না। গোল করার চেয়ে যেন গোল নষ্ট করার প্রতিযোগিতা!
দ্বিতীয় গোলের দেখা মিলেছে ৮৫ মিনিটে। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড নিপুকে বক্সে ফেলে দিল ভারতীয় ডিফেন্ডার। আতিকুজ্জামানের পেনাল্টি গোলে ২-১। এটিই হয়ে গেল জয়সূচক গোল।
শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারি, মাঠ, সবখানেই হইহুল্লোড়। ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ ধ্বনিতে যেন পুরো স্টেডিয়াম কাঁপছিল! খেলোয়াড়েরাও আবেগে ভেসে গিয়ে দর্শকদের ঠিক কাছাকাছি চলে গেল। মাঝখানে লোহার বেষ্টনী থাকলেও তাদের হাত মেলাতে ছিল না কোনো বাধা। ক্রিকেটার মাশরাফি-তাসকিনের সৌজন্যে পরিচিতি পেয়ে যাওয়া বুকে বুক মিলিয়ে জয় উদ্যাপন করতেও দেখা গেছে কয়েকজন খেলোয়াড়কে। ভালো খেলার পুরস্কার হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে বাংলাদেশ দল পাচ্ছে ৫ লাখ টাকা।
মাঠে চলছিল বাংলাদেশের জয়োৎসব, তা দেখতে নিশ্চয়ই ভালো লাগেনি ভারতের? কোচ বিতান সিংয়ে চোখে-মুখে হতাশার ছাপ, ‘আজকের দিনটা আমাদের ছিল না।’ বাংলাদেশের কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানি ও অধিনায়ক শাওন হোসাইন ঠিক বিপরীত। দুজনের মুখেই চওড়া হাসি। কোচ বললেন, ‘সেমিফাইনালে আরও ভালো খেলতে চাই।’
একটু আগেও অধিনায়ক শাওনকে যেভাবে জয়োৎসবে মেতে উঠতে দেখা গেছে, সেই শাওনই সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর ও পরিপক্ব গলায় বলল, ‘এখন লক্ষ্য সেমিফাইনাল। সে ম্যাচ জেতার পরই আমরা ফাইনাল নিয়ে ভাবব। তবে প্রতিপক্ষ কে, সেটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। নিজেদের সেরাটা আমরা দিতে পারছি কিনা, সেটাই বিষয়। এ ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারলে জয় অব্যাহত থাকবেই।’
অধিনায়কের কণ্ঠে বাংলাদেশের জয় অব্যাহত থাকার প্রত্যয়ের কথা শুনে দর্শকেরা পরবর্তী ম্যাচের হিসাব-নিকাশটা একটু সেরেই নিতে পারে। আজ নেপাল বনাম আফগানিস্তান ম্যাচের পরই নির্ধারণ হবে, সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াবে কোন দল? তবে তার আগে দর্শকদের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ কাল দর্শকের বিপুল উপস্থিতির পর সেমিফাইনাল দেখার জন্য টিকিট পাবে কি না, এ নিয়ে অনেকের কপালেই চিন্তার ভাঁজ। বাংলাদেশের এই দল যেভাবে খেলছে, তাতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখাও শুরু হয়ে গেছে।—সুত্র প্রথম আলো