ভালো চাকরি পেলে ৯৯% অভিবাসনপ্রত্যাশী দেশে থাকতে চান : আইওএম


103 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভালো চাকরি পেলে ৯৯% অভিবাসনপ্রত্যাশী দেশে থাকতে চান : আইওএম
আগস্ট ১৯, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

দেশে ভালো চাকরির সুযোগ পেলে বিদেশ যেতে চান না ৯৯ শতাংশ সম্ভাব্য অভিবাসী। বিদেশ যাওয়ার প্রধান পাঁচ কারণ- জীবিকার অভাব (বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক খাত), অপর্যাপ্ত উপার্জন, অর্থনৈতিক সমস্যা, সামাজিক সেবার অভাব এবং সীমিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। দেশে প্রতি বছর ২২ লাখেরও বেশি তরুণ শ্রমবাজারে আসে। তাদের সবার কর্মসংস্থান হয় না। এ কারণে তারা বিদেশমুখী।
সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ‘বাংলাদেশ : সার্ভে অন ড্রাইভারস্‌ অব মাইগ্রেশন অ্যান্ড মাইগ্রেন্টস্‌ প্রোফাইল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য এসেছে। বুধবার অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে আইওএম। গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ৬৪ জেলায় ১১ হাজার ৪১৫ জন সম্ভাব্য অভিবাসীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। অভিবাসনের ক্ষেত্রে সরকারি নিবন্ধন করেছেন কিনা, তার ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য অভিবাসীদের নিয়মিত এবং অনিয়মিত, এ দুই খাতে ভাগ করা হয়।
৮৯ শতাংশ পুরুষ উত্তরদাতার গড় বয়স ২৭। ৬৪ শতাংশের বয়স ২০-এর কোঠায়। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেক বিবাহিত। অধিকাংশ উত্তরদাতা কর্মক্ষম। তাদের ৪১ শতাংশ শিক্ষার মাধ্যমিক স্তর সম্পন্ন করেছেন। ২৭ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিক এবং ২৬ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তিন সংখ্যার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। ৪০ শতাংশ সম্ভাব্য অভিবাসী জানান, তারা কর্মহীন। ৯০ শতাংশ জানান, তাদের ব্যক্তিগত উপার্জন নেই বা থাকলেও তা অপর্যাপ্ত।
অভিবাসনে ইচ্ছুকদের মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান। বাকিদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যে যেতে চান। সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য সৌদি আরব। ৮৫ শতাংশ সম্ভাব্য অভিবাসী তাদের অভিবাসনের জন্য আদম ব্যাপারি এবং এজেন্সিকে টাকা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত ও অনিয়মিত সম্ভাব্য অভিবাসীরা প্রায় একই পরিমাণ টাকা দিয়েছেন। সম্ভাব্য বৈধ অভিবাসী গড়ে দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকা দিয়েছেন। অনিয়মিত সম্ভাব্য অভিবাসীরা গড়ে দিয়েছেন দুই লাখ ২৯ হাজার টাকা।
৯৯ শতাংশ সম্ভাব্য অভিবাসী বলেছেন, দেশে ভালো কাজের সুযোগ পেলে তারা বিদেশে যেতে চান না। উত্তরদাতাদের ৩৮ শতাংশ বলেছেন, আইনের উন্নতি হলে তারা দেশে থাকবেন। ৩৬ শতাংশ উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ২৯ শতাংশ আরও সুলভ স্বাস্থ্যসেবার কথা বলেছেন দেশে থাকার জন্য।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন জানান, অভিবাসন খাতকে আরও ভালোমতো বুঝতে কাজের সন্ধানে বিদেশ গমনকারীদের ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে উন্নত তথ্যনির্ভর অভিবাসন নিশ্চিতেও কাজ করবে এ ডাটাবেজ।
আইওএম বাংলাদেশ মিশনপ্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী সম্ভাব্য অভিবাসীদের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনের আর্থ-সামাজিক চালিকাশক্তিগুলো নিয়ে কাজ করতে সহযোগিতা করবে।