ভুল চিকিৎসা; বাংলাদেশি শিশুকে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ


362 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভুল চিকিৎসা; বাংলাদেশি শিশুকে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ
আগস্ট ২৭, ২০১৫ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৭ বছরের এক শিশুকে ভুল চিকিৎসার খেসারত হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে অবস্থিত মন্টিফিওর মেডিক্যাল সেন্টারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হলো সাড়ে ৮ মিলিয়ন ডলার তথা ৬৭ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, চিকিৎসাকালীন যে এক মিলিয়ন ডলারের বিল এসেছে, সে অর্থও পরিশোধ করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে শিশুটিকে সারাজীবনের ভরণ-পোষণসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে ২৬ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে এবং এ অর্থ প্রদান করতে হবে মাসিক কিস্তিতে।

সাড়ে ৮ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতার মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে এক মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হয় শিশুর নামে একটি বাড়ি ক্রয়ের জন্যে, যেখানে সে বাস করবে। অবশিষ্ট সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার জমা করা হয় ব্যাংকে, যেখান থেকে শিশুটির প্রয়োজনে ব্যয় করতে হবে।

শিশুর পক্ষে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই চালান বিখ্যাত অ্যাটর্নী পেরী ডি সিলভার। অ্যাটর্নী সিলভার ২৫ আগস্ট এ তথ্য জানিয়ে বলেন, চিকিৎসকরা হচ্ছেন রোগীর সর্বশেষ ভরসাস্থল। অথচ তারাই যদি অস্ত্রোপচারের সময় উদাসীন থাকেন তাহলে রোগী ভরসা করবে কার ওপর। আর এজন্যেই আমি ওই শিশুর নাজুক অবস্থায় হতভম্ব হয়ে পড়েছিলাম। সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ আদায়ে যা করা দরকার সে সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছিলাম।

মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে ডি সিলভার আরও জানান, শিশুটির হার্ট সার্জারী করা হয়। সেটি সফল হলেও সার্জারীর পর হার্টের নিকটে তরল পদার্থ জমে। এরপর তাকে নেয়া হয় ব্রঙ্কসের এই মন্টিফিওর হাসপাতালে। চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন যে, শিশুটিকে পেরিকারডিয়োসেনটেসিস প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা দিতে হবে। এ অবস্থায় আলট্রাসাউন্ডের ভিত্তিতে তার বুকে বড় একটি সুই ঢুকিয়ে দেয়া হয়। ওই সুইয়ের পথ বেয়ে তরল পদার্থ বের হয়ে আসার কথা। কিন্তু তার পরিবর্তে শিশুটির হার্ট ক্ষত হয় এবং প্রচুর পরিমাণের রক্ত ঝরে। বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হননি চিকিৎসকরা। এভাবে প্রচুর রক্তক্ষরণে শিশুটি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। প্রথমে যে চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করেছিলেন তাকে আবারও ডাকা হয় এবং তিনি পুনরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির প্রাণ রক্ষায় সক্ষম হন।

কিন্তু ভুল জায়গায় সুই ঢুকিয়ে দেওয়ায় প্রচুর রক্ষক্ষরণে শিশুটি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়। এ অবস্থায় তাকে এক বছরের মত কাটাতে হয় হাসপাতাল এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে। এরপর বাসায় ফিরলেও তাকে নানা ধরনের সমস্যায় দিনা অতিবাহিত করতে হচ্ছে। এমনকি যেতে হচ্ছে বিশেষ স্কুলে। সিলভার বলেন, এটি খুবই দু:খজনক ঘটনা, যা ঘটা কখনোই উচিত হয়নি। চিকিৎসকরা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতেন তাহলে শিশুটিকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।

শিশুর নাজুক পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য জেনে ডি সিলভার শিশুটিকে সাথে নিয়ে এ বছরের শুরুতে ছুটে যান শিকাগো। সেখানকার ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের সেরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করেন। এই মামলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সাক্ষ্য প্রদানে সম্মত হন।

ডি সিলভার বলেন, এই রায়ে আমি এবং আমার পার্টনার-উভয়েই সন্তুষ্ট। এর ফলে শিশুটির ভবিষ্যৎ সংহত হবে। মামলায় প্রাইভেসি আইনের কারণে শিশুর নাম গোপন রাখা হয়।—-সুত্র:-বাংলাদেশ প্রতিদিন ।