ভুল সিদ্ধান্তে সাতক্ষীরার একাধিক ইউনিয়ন হাতছাড়া হতে পারে বিএনপি’র


412 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভুল সিদ্ধান্তে সাতক্ষীরার একাধিক ইউনিয়ন হাতছাড়া হতে পারে বিএনপি’র
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
বাছাই প্রক্রিয়ার গ্যাড়াকলে পড়ে অনেক জনপ্রিয় এবং যোগ্য সংগঠক বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছে না। ফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রবল সম্ভবনা সত্ত্বেও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি’র হাতছাড়া হওয়ার শংকা জেগেছে।
সাধারন ভোটারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র মিলেছে।
সরেজমিনে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নেতা কর্মী সমর্থকরা দারুন উজ্জীবিত। জাতীয় নির্বাচনে ভোট প্রদানের সুযোগ না মেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর দলীয় প্রতীকে ‘সীল’ মারার সুযোগ পেয়ে সবাই কমবেশী আপ্লুত। ফলে  নির্বাচনে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিললেও ভুল প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অনেক ইউনিয়ন বিএনপি’র হাতছাড়া হতে পারে।
ঐতিহ্যগতভাবে সাতক্ষীরার দুটি উপজেলায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নিকট অতীতে ভাল ফল করে আসছে। এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ঘোষনা সেই সম্ভবনাকে আরও প্রবল করেছে। কিন্তু পকেট কমিটি নির্ভর এসব উপজেলায় এবারের নির্বাচন উপলক্ষে তৃণমুল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে মাত্র পাঁচ জনের সমর্থনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া যোগ্য প্রার্থী মনোনীত করার পথকে রুদ্ধ করেছে। ফলে অনেক জনপ্রিয় ও দক্ষ সংগঠক এবারের নির্বাচনে দলীয় সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হতে পারছে না। ফলে বিএনপি’র জন্য এসব ইউনিয়নে অতীতের ধারাবাহিকতা রক্ষা রীতিমত দুঃসাধ্য হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় নেতাকর্মী সমর্থক ও সাধারন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে কালিগঞ্জ উপজেলার ১২ নং মৌতলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক অবস্থা যথেষ্ট মজবুত। সেখানে বিএনপি’র সমর্থন পেয়েছে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে আসা আলমগীর হোসেন। সদ্য গঠিত ইউনিয়ন সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ উপজেলা বিএনপি’র নসাধারন সম্পাদকের সমর্থন পেয়েছেন তিনি১৫৬গৎ। কিন্তু ব্যক্তিগত ইমেজসহ সাধারন ভোটারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি।
বিপরীতে বিগত টানা দুই বারের চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ নির্বাচনে মাত্র পঞ্চাশোর্ধ্ব ভোটে পরাজিত হওয়া উপজেলা বিএনপি উপদেষ্টা শাহাজান সিরাজ দলীয় সর্মথন বঞ্চিত রয়ে গেছেন। অসংখ্যা মামলার ভার ঘাড়ে িিনয়ে বৃদ্ধ বয়সেও পলায়নপর জীবন যাপনে বাধ্য হওয়া ঐ সংগঠক স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারন ভোটারদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। দলীয় নেতকার্মীসহ এলাকাবাসীর বিপদে আপদে রাত-দিন সর্বক্ষন এলাকাবাসীর ডাকে সাড়া দেয়া ঐ সংগঠক ইউনিয়ন বিএনপি’র পুর্বোক্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেনন। দীর্ঘ ৩৮ বছর বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত ঐ সংগঠক ভোটারসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তুলেছেন অনেক আগে থেকে। উপজেলা বিএনপি সভাপতিসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীও তার সমর্থন দিলেরও বাছাই কৌশলের গ্যাড়াকলে পড়ে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন।
অথচ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারন ভোটারদের মতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তুখোড় রাজনীতিক এবং আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সাইদ মেহেদীকে নির্বাচনী যুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে শাহাজান সিরাজের বিকল্প নেই ঐ ইউনিয়নে। ফলে বাছাই প্রক্রিয়ার গ্যাড়াকলের কারনে শাহাজান সিরাজের মত জনপ্রিয় একজন সংগঠক প্রার্থী না হওয়ার সুযোগে ঐ ইউনিয়নটি বিএনপি’র হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের টানা দু’বারের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলামের পক্ষে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা একাট্রা। তবুও অজ্ঞাত কারনে তিনি এবার দলের সমর্থন পাননি। তার জায়গায় এমএলএম ব্যবসার নামে প্রতারনাসহ নানা কারনে এলাকায় বিতর্কিত ফৈরদৌস নিক্সনকে মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা রীতিমত ফুঁসছে ক্ষোভে।
একইভাবে কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ও শ্যামনগরের কৈখালীসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নে দলের ত্যাগী সংগঠকদের মনোনয়ন না দেয়ার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। রমজাননগর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি শহীদুজ্জামান, শ্যামনগর বিএনপি সম্পাদক আব্দুস সবুরসহ অসংখ্যা নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তৃণমুল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে দলীয় সমর্থন দেয়ার ঘোষনায় সবাই আশ্বস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় দলেল সমর্থন দেয়া হলো তা স্থানীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পুর্বেই এসব এলাকার প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি নুতন করে বিবেচনায় না নিলে আগামী নির্বাচনে এর সুস্পষ্ট প্রভাব পড়ার পাশাপাশি বিএনপি সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়তে পারে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি।#