ভূয়া রেকর্ড, শ্রেণী পরিবর্তন ও রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় তদন্ত শুরু


405 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভূয়া রেকর্ড, শ্রেণী পরিবর্তন ও রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় তদন্ত শুরু
জানুয়ারি ৩, ২০১৭ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল ॥
তালা উপজেলার ইসলামকাটি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক খান আব্দুর রাজ্জাক ও গ্রহীতা ইকবালের বিরুদ্ধে ভূয়া রেকর্ড, দাখিলা এবং শ্রেণী পরিবর্তনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাকির ঘটনা দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে তদন্ত শুরু হওয়ায় অফিস পাড়ায় স্বস্থি ফিরে এসেছে।

জানা গেছে, উপজেলার আচিমতলা গ্রামের মৃত শাহাজান মোল্লার পুত্র ইকবাল হোসাইন ও দলিল লেখক খান আব্দুর রাজ্জাক যোগসাজশে ভূয়া এসএ রেকর্ড সৃজনের মাধ্যমে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে সরকারের ৫ লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব ফাকি দেয়।

বিগত ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর মৌজার এস এ ৩৪৬ বর্তমান ৩০১৯ নং সহ ১৮ টি দাগে ৯৯ শতক জমি যার প্রকৃত মালিক পাটকেলঘাটার লালচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত দুলাল বিশ্বাসের পুত্র লিটন, মিল্টন ও টিটু বিশ্বাসের নিকট থেকে ৪৯৮৪ নং কোবলা দলিলে নির্ধারিত মুল্যের অর্ধেক পনে রেজিষ্ট্রি সম্পন্ন করে।

এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাংবাদিকরা ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে ২ বছর পর গত বছরের ২১ জুলাই কয়েকটি আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকায় তথ্যভিত্তিক ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হলে সুচতুর গ্রহীতা ও দলিল লেখকের মধ্যে গাত্রদাহ শুরু হয়।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের উপর বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি অব্যাহত রাখে। এরই জের ধরে ২২১ নং স্মারকে বর্তমান দায়িত্বরত সাব রেজিস্টার গোলাম এলাহী গ্রহীতা ইকবাল হোসাইনকে ৭ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ প্রদান করেন।

এরই প্রেক্ষিতে সুচতুর ঐ গ্রহীতা দলিল লেখকের পরামর্শে ঐ বছরের ৩১ জুলাই/১৬ ইং তারিখে ভূয়া রেকর্ড শ্রেণী পরিবর্তন সহ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাকির বিষয়টি দায় স্বীকার পূর্বক ১ মাসের সময় চেয়ে সাব রেজিস্টার বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

কিন্তু দীর্ঘ ৬ মাস অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি সরকারি খাতে কোনো বকেয়া টাকা জমা না দিয়ে ঐ গ্রহীতা টালবাহানা অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনাটি অবশেষে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হলে এক নির্দেশে গতকাল সকাল ১০ টায় দেবহাটা উপজেলার সখিপুর

সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল ইসলামকাটি সাব রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তার তদন্তকালে অভিযুক্ত দলিল লেখক খান আব্দুর রাজ্জাক কর্তৃক দাখিলকৃত ভূয়া রেকর্ড জমির শ্রেণী পরিবর্তন ও রাজস্ব ফাকির দায় স্বীকার করে লিখিত অঙ্গীকারনামা দাখিল করেন।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল জানান, প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে, তবে ব্যাপকভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
##