ভোট বিশ্লেষণ : জাতীয় পার্টিই বাঁচাতে পারে সাতক্ষীরা সদর আসন


436 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভোট বিশ্লেষণ : জাতীয় পার্টিই বাঁচাতে পারে সাতক্ষীরা সদর আসন
নভেম্বর ২৮, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

জাতীয় পার্টিই পাচ্ছে সাতক্ষীরা সদর আসন। বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। মহাজোটের এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আসনটি ধরে রাখা সম্ভব হবে এমনটি মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১৯৭৩ পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ কোন নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেনি। কোন কোন নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে অনেক কম ভোট পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কিন্তু জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে ঘটেছে তার ব্যতিক্রম। আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এলে জয়লাভ করার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ১৯৭৩ সালের ৭মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত এ আসনে ৪২ হাজার ৪১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সৈয়দ কামাল বখত সাকি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভাসানী ন্যাপ’র এড. শামসুল হক পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৫৭২ ভোট। কথিত আছে, ওই নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেনি। তবে কলারোয়ায় বিপুল ভোট পাওয়ায় মোট ভোটে সৈয়দ কামাল বখত সাকি বিজয়ী হয়েছিলেন।
১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর আসনে ৩১ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন মুসলিম লীগের খান এ সবুর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির এড. শামসুল হক। তার প্রাপ্ত ভোট ২৫ হাজার ২৫১। আওয়ামী লীগের মমতাজ আহমেদ ২১ হাজার ৯০২ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
১৯৮৬ সালের ৭মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর আসনে ৩০ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জামাতের কাজী শামসুর রহমান। আওয়ামীগের মমতাজ আহমেদ পেয়েছিলেন ১৯ হাজার ৮৬৭ ভোট। বিএনপির প্রার্থী ডা. আবতাবুজ্জামান পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ৯২৮ ভোট।
১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ সকল বিরোধী দল বর্জন করে। একদলীয়ভাবে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান।
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৫ হাজার ৪৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জামাতের কাজী শামসুর রহমান। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এড. এএফএম এন্তাজ আলী পেয়েছিলেন ৩০ হাজার ৭৬৭ ভোট। জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান পেয়েছিলেন ২৩ হাজার এক ভোট। বিএনপির ফরিদা রহমান পেয়েছিলেন ১৭ হাজার ৮৮৩ ভোট।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সকল দলের বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির এড. শামসুল হক নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৪ হাজার ৯৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন জামাতের কাজী শামসুর রহমান। জাতীয় পার্টির সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ পেয়েছিলেন ৫৩ হাজার ৭৮৭ ভোট পেয়ে পরাজীত হন। কথিত আছে, ভোট গণনা শেষে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে রাতে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজকে। কিন্তু সকালে ৩০৯ ভোটের ব্যবধানে তাকে পরাজীত দেখানো হয়। আওয়ামী লীগের মো. নজরুল ইসলাম ৪৫ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন। বিএনপির এড. এম মুনসুর আলী পেয়েছিলেন ১৪ হাজার ৬৪২ ভোট।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর আসন থেকে এক লক্ষ ২৪ হাজার ২০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত জামাতের আব্দুল খালেক ম-ল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. নজরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৮৬১ ভোট।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর আসনে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমএ জব্বার এক লক্ষ ৩৩ হাজার ৪২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে জামাতের খালেক ম-ল পান এক লক্ষ ১৪ হাজার ৫৫৮ ভোট। এ নির্বাচনে সদর আসনে মোট ভোটার ছিল দুই লক্ষ ৭৯ হাজার ২৪৮ জন।
বিরোধী দলের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর আসনে মোট ভোটার ছিল তিন লক্ষ ১৩ হাজার ৫৪৯ জন। এ নির্বাচনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী মীর মোস্তাক আহমেদ ৩২ হাজার ৮৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল করিম সাবু পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ৭৭৯ ভোট।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর আসনে মোট ভোটার তিন লক্ষ ৫৬ হাজার ২৬৮ জন। আওয়ামী লীগের একটি সূত্রের মতে এর মধ্যে ৮৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার ভোট রয়েছে আওয়ামী লীগের। প্রার্থী আওয়ামী লীগের হলে এ ভোট বৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাছাড়া প্রার্থীর অতীত কর্মকা-ের বিচার বিশ্লেষণে ভোট আরও কমতে পারে বলে সূত্রের দাবি। তবে জাতীয় পার্টি থেকে মহাজোটের প্রার্থী হলে ভোট সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি যেতে পারে। বিশেষ করে তখন জামাত হটানোর ভোট হবে। আবার প্রার্থীর কারণেই এ ভোট চাকর-বাকর হটানোর ভোটে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করে সূত্রটি।

 

সূত্র : পত্রদূত।প্রকাশের তারিখ—২৮-১১-১৮