ভোমরার চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজীর গ্রেফতারের দাবিতে প্রধানমনন্ত্রীর কাছে আবেদন


528 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভোমরার চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজীর গ্রেফতারের দাবিতে প্রধানমনন্ত্রীর কাছে আবেদন
এপ্রিল ৫, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

খন্দকার আনিসুর রহমান ::
ফেনসিডিল, ইয়াবা ও সোনাপাচারকারী, জামায়াত-শিবিরের মদদদাতা সাতক্ষীরার ভোমরা ইউপি চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজী এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
শান্ত সাতক্ষীরাকে আবারো অশান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন তিনি। ভোমরা ইউনিয়ন আ.লীগের প্যাডে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। উক্ত দরখাস্তটিতে সুপারিশসহ স্বাক্ষর করেছেন জেলা ও উপজেলা আ.লীগের শীর্ষ নেতারা।জানা গেছে, সাতক্ষীরার একমাত্র উন্নয়ন মুখী বন্দর ভোমরা স্থল বন্দর। যেখান থেকে সরকার প্রচুর পরিমান রাজস্ব আদায় করে থাকেন। আর এই ভোমরা স্থলবন্দরটি সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নে অবস্থিত। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজীর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার আশংকা করছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় তারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযেগে বলা হয়েছে, অবৈধ অর্থের ব্যবহার করে বিগত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জামায়াত নেতা ইসরাইল গাজী ভোমরা ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরিষদে বসার পর পরই তিনি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকেন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়া চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজীকে জামায়াত ও নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে গোপন বৈঠক করতে দেখেছেন অনেকে। জামায়াতের সংগঠনকে মজুবত করার লক্ষ্যে তিনি অর্থসহ বিভিন্ন প্রকার সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজী প্রধানমন্ত্রী ভিশন ২১ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। এখনি তাকে রুখতে না পারলে ইউনিয়নের অনেক আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন আ.লীগ নেতৃবৃন্দ। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর থেকে ইউনিয়নে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা, জ্বালাও পোড়াও সংঘটিত হয় তার ইশারায়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হতাশ হয়েছেন নেতাকর্মীরা।
আ.লীগ নেতাদের অভিযোগ, ইসরাইল গাজী চোরাই পথে ভারত থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের পাচার করে কোটিপতি বনে গেছেন। এছাড়া হুন্ডি ব্যবসা, মিয়ানমার, চট্টগ্রামের সাথে অবৈধ ব্যবসা, রাজস্ব ফাঁকিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথেও জড়িত তিনি। লিখিত দরখাস্তে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে ওই অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বন ও পরিবেশ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলীসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসরাইল গাজী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দরখাস্তের একটি কপি তার হাতেও এসে পৌঁছেছে। তিনি দাবি করেন, সেখানে সুপারিশ করা আ.লীগ নেতাদের স্বাক্ষর আসল নয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মো: শওকত হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী বারবর করা আবেদনে জেলা আ.লীগ ও সদর উপজেলা আ.লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষর ও সুপারিশ করেছেন। ভোমরা বন্দরের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এধরনের কর্মকা- চলতে দেয়া যেতে পারে না।
অন্যদিকে, ইসরাইল গাজীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর করা আবেদনে সুপারিশসহ স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: নজরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় আ.লীগ নেতারা সবাই বিষয়টি জেলা ও উপজেলা নেতৃবন্দকে বারবার অবহিত করেছেন। শেষ পর্যন্ত তারা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর ইসরাইল গাজীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।