ভোমরায় জেলা পরিষদ থেকে ইজারা গ্রহীতাদের জমি দখল প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


517 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভোমরায় জেলা পরিষদ থেকে ইজারা গ্রহীতাদের জমি দখল প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে জেলা পরিষদের জায়গা ইজারা গ্রহীতাদের দখল প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইজারা গ্রহীতা ভোমরার ছাকাতুল¬াহ গাজীর ছেলে জালালউদ্দিন গাজী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে ভোমরা থেকে আলীপুর সড়কের ভোমরা মৌজার ১/১ খতিয়ানের ১৮৪৫ ও ১৭৮৮ দাগের জেলা পরিষদের জমি একসনা বন্দোবস্ত নিয়ে তিনিসহ প্রায় ১৫জন শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।

১৯৮১ সালের ১২ আগষ্ট ওই জমির মধ্যে ভোমরা -সাতক্ষীরা সড়কের ফুলতলা থেকে রাশিদা বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ভোমরা মৌজার দক্ষিণ পাশের এক একর ৬৫ শতক জমি শহরের কাটিয়ার জনৈক আবুল হোসেন তৎকালিন মহকুমা প্রশাসকের কাছ থেকে চাষ করার জন্য ছয় বছরের জন্য লীজ নেয়।

দু’ দিন না যেতেই ১৪ আগষ্ট ওই জমি অবৈধভাবে সাবেক তহশীলদার গোলাম মোস্তফা ও জিন্নাত আলীর কাছে রেজিষ্ট্রি কোবালা (৭৬৯৪/৮১ ও ৭৬৯৫/৮১) মূলে এ একর ৬০ শতক বিক্রি করেন আবুল হোসেন।

১৯৮৯ সালের ৪ ডিসেম্বর তাদের কাছ থেকে ওই জমি কেনেন ভোমরা গ্রামের রফিকুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম, রোকেয়া ও আফছার আলী, আছিয়া, মাসুরাসহ কয়েকজন।

শহীদুল ইসলাম ওই জমি গ্রামীন টাওয়ার, গনি সরদারসহ কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেন। জেলা পরিষদের ওইসব জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করার জন্য ৩০ ধারায় আবেদন করেও ভূমিদস্যুরা প্রভাব খাটিয়ে জেলা পরিষদ কর্মকর্তা ও তাদের আইনজীবীদের অনুপস্থিত দেখিয়ে নিজেদের নামে রেকর্ড করান।

এ সময় সেটেলমেন্ট অফিস ওই জমির (এক একর ৬০ শতক) জন্য বিএস ৯৯১ নং খতিয়ান খোলে। যদিও ল্যা- সার্ভের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই বিএস খতিয়ানের কোন কার্যকারিতা বৈধতা পাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উলে¬খ করা হয়, সারা দেশে জেলা পরিষদের জায়গা বেদখল হয়ে যাওয়ায় তা নিজেদের অনুকুলে ফিরিয়ে আনার জন্য ২০০৫ সালের ২৩ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে সাতক্ষীরা জেলা

প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি ভূমি কমিশনারদের চিঠি দেওয়া হয়। এ ছাড়া অনিয়মের মধ্যে জমির মালিকানা পাওয়ার ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ল্যান্ড সার্ভে

ট্রাইব্যুনালে মামলা(৩৫৮/১৫) করা হয়। একইসাথে ওই রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ পাশের জেলা পরিষদের অব্যবহৃত সকল জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য দেওয়ানী ১৪৯/১৫ নং মামলা করা হয়। তবে কৃষি বা জলাশয় দেখিয়ে স্থানীয় কমপক্ষে ১৫ জনের নামে

২০১৪ সাল থেকে এক বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেয় জেলা পরিষদ। ডিসিআর পেয়েই আমরা জমির দখল বুঝে নেন তারা। কিন্তু চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি থেকে রফিকুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম, সৈয়দ মাহমুদ পাপা, সানি খালেকসহ ভূমিদস্যুরা(ইজারা

গ্রহীতাদের) তাদের জমি জবরদখল করে মাছ লুট করে জলাশয়ে মাটি ফেলে বা টিনের শেড দিয়ে রাখা জমিতে পিলার নির্মাণের মাধ্যমে পাকা ভবন নির্মানের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

তবে রফিকুল ইসলামের ছেলে নাশকতার মামলার জেলখাটা আসামী মিজানুর রহমান মিণ্টুসহ কয়েকজন জেলা যুবলীগের এক শীর্ষ পর্যায়ের নেতার দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে যে কোন মূল্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার হুমকি দিয়ে চলেছেন।

বিষয়টি আমরা গত পহেলা ফেব্রুয়ারি সকালে জেলা পরিষদ প্রশাসককে অবহিত করলে তিনি সার্ভেয়র পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এবং ৪ ফ্রেব্রুয়ারি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ফিরে এলে জবরদখলের চেষ্টাকারিদের বিরুদ্ধে নোটিশ ইস্যু করার কথা

বলেন। এরপরও জবরদখলের প্রক্রিয়া সাময়িক বন্ধ করা হলেও দুপুরে এক যুবলীগ নেতার আশ্বাসে ওই মহলটি আবারো মাটি ভরাট ও নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

বাধা দেওয়ায় তাাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানানো হলে জেলাা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কোন নোটিশ না করায় জবরদখলকারিরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বাধা দেওয়া ও হুমকিতে আমরা ভীত না হওয়ায় জবরদখলকারিরা রাতের আঁধারে মাটি ভরাট ও নির্মাণ কাজ করার চেষ্টা অব্যহত রেখেছে।

প্রতিকার চেয়ে তারা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক বরাবর গত ৫ ফেব্রুয়ারি আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছন না।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ জমি রক্ষায় যাতে কোন বাধা বিপত্তি না আসে সেজন্য বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার

পল্ল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইজারা গ্রহীতা কামরুজ্জামান ও সার্জেন্ট সামছুদ্দোহা।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রকৃত অবস্থা জানতে দাবিদার দু’পক্ষকে সোমবার সকাল ১০ টায় অফিসে ডাকা হয়েছে।
##