ভোমরা বন্দরে করফাঁকি : দুই রাজস্ব কর্মকর্তার নামে মামল


397 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভোমরা বন্দরে করফাঁকি : দুই রাজস্ব কর্মকর্তার নামে মামল
এপ্রিল ৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
রাজস্ব ফাঁকি ও সহযোগিতার অভিযোগে এবার দুইজন কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় দুই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, দুই সিএ-এফ প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরও আসামী করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (বি) ধারায় এ মামলা দায়ের করেন ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার সিরাজুল ইসলাম।
মামলার আসামীরা হলেন, আব্দুস সবুরের মালিকানাধীন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ, আটককৃত পানের ছাড়কারক সিএ-এফ ব্যবসায়ী খালিদ হোসেন শান্ত’র মালিকানাধীন আলেয়া এন্টারপ্রাইজ, আমদানিকারক আল ফেরদৌস আলফার মালিকানাধীন আশিক এন্টারপ্রাইজ  ও ছাড়কারক সিএ-এফ মোস্তফা কামালের মালিকানাধীন সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজ। এঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কারণে ভোমরা বন্দরের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুদ রানা ও সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফ হোসেনকে মামলার আসামী করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ ও আশেক এন্টারপ্রইজ ভোমরা বন্দরের সিএ-এফ এজেন্ট আলেয়া এন্টারপ্রাইজ ও সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বৃহষ্পতিবার দুপুরে ৩২ দশমিক ৮১০ মেট্রিক টন  পানের এলসি করে ৬৬ দশমিক তিন মেট্রিক টন পান (৬২৯ বস্তা) আমদানি করে। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমান পান আমদানি করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে বৃহষ্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে ভোমরা বন্দর এলাকা থেকে বিজিবি সদস্যরা ১১ ট্রাক ভর্তি ৬২৯ বস্তা পান আটক করে বিজিবি’র ৩৮ ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসে। এলসি বহির্ভূত ৩৩ দশমিক ০৯০ মেট্রিক টন পান আমদানি করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কাগজপত্রে প্রমাণিত হওয়ায় ওই পান জব্দ করে সদর থানায় জমা দেওয়া হয়। রাজস্ব ফাঁকিতে দুই রাজস্ব কর্মকর্তা সহযোগিতা করেছেন মর্মে বিজিবি’র গোয়েন্দা শাখায় প্রতীয়মান হয়। এদিকে ভোমরা বন্দরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী বলেন, আলেয়া এন্টার প্রাইজের মালিক খালিদ হোসেন শান্ত’র নামে বিভিন্ন অনিয়ম ও চোরাচালানীর অভিযোগ আছে। এসময়কার চায়ের দোকানে কাজ করা শান্ত হঠাৎ করেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছে। শান্ত সিএ-এফ এজেন্ট ব্যবসার নামে কিছু দুর্নীতিবাজ রাজস্ব কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বিভিন্ন সময় সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে মালামাল নিয়ে আসে। এধরণের অভিযোগ তার নামে অহরহ রয়েছে বলে বিভিন্ন গোপন সূত্রে জানা যায়। তবে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর থানায় রাখা আটককৃত পান নিলামে বিক্রি হয়নি। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ জানান, এ ঘটনায় ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার সিরাজুল গণি বাদি হয়ে দু’টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, দু’টি সিএ-এফ প্রতিষ্ঠান ও দুইজন রাজস্ব কর্মকর্তার নামে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে শুক্রবার মামলা (১৯নং) করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে কাস্টমস ফাঁকি দিয়ে এক শ্রেণির কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দীর্ঘ দিন একটি চক্র পণ্য আনছে। বিজিবি চেক পোস্ট বসিয়ে অনেক পন্য নামিয়েও নেয়। এর আগে বিজিবি ভারতীয়সহ কাস্টমসের এক সিপাই ও এক এনজিও কর্মীকে আটক করে।