ভোমরা বন্দরে পান আমদানিতে রাজস্ব ফাঁকি : স্টান্ড রিলিজ মাসুদ


553 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভোমরা বন্দরে পান আমদানিতে রাজস্ব ফাঁকি : স্টান্ড রিলিজ মাসুদ
এপ্রিল ১১, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
ভোমরা স্থল বন্দরের দুই কাস্টমস কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে সম্পূরক এজাহার দিয়েছে। ভোমরা বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন তাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করেনি। তবে ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। আর সিএন্ডএফ এজেন্টস কর্মকর্তারা জানান, মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে শুল্ক ফাঁকির ঘটনায় জড়িত দুই কর্মকর্তাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়েছে কাস্টমসের কতিপয় কর্মকর্তা। বিজিবি’র এজাহারে অভিযুক্ত সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুদ রানা (২) কে খুলনায় স্টান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিজিবি গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ১১ ট্রাকে ৬২৯ বস্তা ভারতীয় পান আটক করে। এ ঘটনায় দুই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, দুই সিএ-এফ প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরও আসামী করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (বি) ধারায় এ মামলা দায়ের করেন ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার সিরাজুল ইসলাম। মামলার আসামী করা হয় আব্দুস সবুরের মালিকানাধীন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ, আটককৃত পানের ছাড়কারক সিএ-এফ ব্যবসায়ী খালিদ হোসেন শান্ত’র মালিকানাধীন আলেয়া এন্টারপ্রাইজ, আমদানিকারক আল ফেরদৌস আলফার মালিকানাধীন আশিক এন্টারপ্রাইজ  ও ছাড়কারক সিএ-এফ মোস্তফা কামালের মালিকানাধীন সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজ। এঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কারণে ভোমরা বন্দরের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুদ রানা ও সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফ হোসেনকে মামলার আসামী করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ ও আশেক এন্টারপ্রইজ ভোমরা বন্দরের সিএ-এফ এজেন্ট আলেয়া এন্টারপ্রাইজ ও সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বৃহষ্পতিবার দুপুরে ৩২ দশমিক ৮১০ মেট্রিক টন  পানের এলসি করে ৬৬ দশমিক তিন মেট্রিক টন পান (৬২৯ বস্তা) আমদানি করে। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমান পান আমদানি করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে বৃহষ্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে ভোমরা বন্দর এলাকা থেকে বিজিবি সদস্যরা ১১ ট্রাক ভর্তি ৬২৯ বস্তা পান আটক করে বিজিবি’র ৩৮ ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আসে। এলসি বহির্ভূত ৩৩ দশমিক ০৯০ মেট্রিক টন পান আমদানি করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কাগজপত্রে প্রমাণিত হওয়ায় ওই পান জব্দ করে সদর থানায় জমা দেওয়া হয়। রাজস্ব ফাঁকিতে দুই রাজস্ব কর্মকর্তা সহযোগিতা করেছেন মর্মে বিজিবি’র গোয়েন্দা শাখায় প্রতীয়মান হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে জরুরী বৈঠক করে বন্দর ব্যবহারকারী ৮টি সংগঠন। রোববার সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার বিভিন্ন দপ্তরে স্মারক লিপি প্রদানের ঘোষণা থাকলেও তা দেয়নি সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের কর্মকর্তা। এসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, জেলা প্রশাসক সময় না দেওয়ায় স্মারকলিপি প্রদান করা হয়নি। বিজিবি দুই কাস্টমস কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে সম্পূরক এজাহার দিয়েছে বলে তাদের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান। তবে মামলার বাদী ভোমরা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার সিরাজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এ বিষয়ে তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। ব্যবসায়ীদের হয়রানির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কাস্টমস হওয়ার আগে আমরা কোন পন্য আটক করি না। কাস্টমস ছাড়পত্র দিলে পন্য অতিরিক্ত পন্য থাকলে আটক করি। তিনি বলেন, কাস্টমস মাপার পরেও কেন অতিরিক্ত পন্য ছাড়া হয়? এর মধ্যে কোন ব্যাপার নিশ্চই থাকে। এ ভাবে চলতে থাকলে দেশের রাজস্ব কমে যাবে।
তবে পন্য আটকের ঘটনায় কাস্টমসের পক্ষ থেকে দুই কর্মকর্তাকে বাঁচাতে দৌড় ঝাপ শুরু করেছে কতিপয় কর্মকতা। বিষয়টি নিয়ে কাস্টমসের পক্ষ থেকে কোন তদন্ত কমিটি গঠন পর্যন্ত হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, কাস্টমসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কতিপয় ব্যবসায়ী দীর্ঘ দিন থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে। বিষয়টি আলোচনায় আসায় বিজিবি ওয়াচ করে। অন্যদিকে, এজাহারে অভিযুক্ত সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুদ রানা (২) কে খুলনায় স্টান্ড রিলিজ করা হয়েছে। আর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফ হোসেন জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। পত্রিকা পড়ে তিনি জেনেছেন। তবে বিজিবি জানায়, কাগজপত্রে তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে মামলা করেছি। তবে রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, এ বিষয়ে কোন তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রয়োজন নেই। বিজিবি অন্যয়ভাবে আমাদের কাজে হস্তক্ষেপ করছে।