ভোমরা স্থলবন্দরে বিজিবি’র বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন


417 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভোমরা স্থলবন্দরে বিজিবি’র বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
এপ্রিল ১২, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ  রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে বিজিবি’র বিরুদ্ধে তল্লাশি, ওজন ও পণ্য পরীক্ষার নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রতিকারের দাবিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা চোরাচালান প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটির সভাপতির কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের কাছে এই স্মারকলিপি পেশ করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন বহুলাংশে বাকি থাকলেও ভোমরা বন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। পাশাপাশি একটি মহল বন্দরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সূক্ষ্ম তৎপরতা চালাচ্ছে। এতে বন্দর দিনদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাস্টমস ও বিজিবি’র প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করেন। এক্ষেত্রে কাস্টমস ও বিজিবির নিজস্ব নীতিমালা ও আইন কানুন আছে। ফলে এই দুই সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। এতে ব্যত্যয় ঘটলে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়।
এক্ষেত্রে কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯ এর ৯ ও ১০ ধারায় বলা আছে, ঘোষিত কোন পথ ব্যতীত অন্য কোন পথে আনীত পণ্য বা মালামাল চোরাচালানকৃত বলে চিহ্নিত হবে। বর্ণিত এই ধারার বাইরের সকল পণ্যই অননুমোদিত। অননুমোদিত পথে আনীত পণ্য আটক করার ক্ষমতা বিজিবির রয়েছে। কিন্তু বৈধপথে আনীত পণ্যের দায়দায়িত্ব কাস্টমসের। অথচ এক্ষেত্রে স্বাভাকিত নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে। ফলে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ কাস্টমস অ্যাক্টের বাইরে কোন সংস্থা কাজ করতে পারে না। বিজিবি ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্য কোনক্রমেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওজন দেখা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ক্ষমতা রাখে না। এমনটি করলে কাস্টমস অ্যাক্টের ১৯৬৯ এর ৯, ১০, ২৭, ১৯৭ ও ১৯৮ ধারার লঙ্ঘণ হবে। বিজিবি উল্লিখিত ধারা লঙ্ঘণ করায় ব্যবসায়ীরা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত নন, আতংকিত হয়ে পড়েছেন। ফলে ব্যবসায়ীরা ভোমরা বন্দর থেকে ব্যবসা গুটিয়ে সোনা মসজিদসহ অন্যান্য বন্দরের চলে যাচ্ছেন। এতে ভোমরা বন্দরের রাজস্ব আয়ে ধস নেমেছে।

IMG_20160412_140743
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, গত ৭ এপ্রিল বিজিবি সদস্যরা ভারত থেকে আমদানিকৃত ২টি পানের চালান আটক করে। বৈধপথে আনীত হলেও এ ব্যাপারে বিজিবি সাতক্ষীরা সদর থানায় চোরাচালান পণ্য হিসেবে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ এর খ ধারায় মামলা দায়ের করে। আদালত ওই সম্পর্কে বৈধপথে আনীত ও তার অনুকূলে যথাযথ শুল্ক পরিশোধ করা হয়েছে মর্মে মন্তব্য করে ৯ এপ্রিল তা আমদানিকারকের অনুকূলে ফেরত দেওয়ার আদেশ দেয়।
এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেওয়া কোন পণ্য নিয়ে সন্দেহ হলে কিংবা অভিযোগ থাকলে বিজিবি তা শুঙ্ক এরিয়ার মধ্যে রেখে কাস্টমস আইনে বিচারের সুযোগ দিতে পারে। এতে যেমন আইনের লঙ্ঘণ হয় না, তেমনি ব্যবসায়ীরা হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পায় এবং বন্দরের কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকে।
স্মারকলিপিতে উচ্চ আদালতের একটি রায় তুলে ধরে বলা হয়েছে, কোনো পণ্য আটক হলে তা কাস্টমস অ্যাক্টের ১৬৯ ধারা অনুযায়ী অনতিবিলম্বে শুল্ক কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ ভারতীয় পান আটক করে তা বিজিবি নিজেদের দপ্তরে প্রায় ২৪ ঘণ্টা রেখে থানায় জমা দেয়। এতে পানগুলো পচে যায়। এবং মোটা অংকের টাকার ক্ষতি হয়। ফলে কাস্টমস অ্যাক্টের ১৯৬৯ এর ১৬৩ (৩) ও ১৬৯ ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিজিবির এই ভূমিকা ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, ওই পান জব্দের ঘটনায় বহনকারী ট্রাকগুলোও আটক করা হয়। এতে ট্রাক মালিকরাও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, যদি কোন পণ্য ধরা পড়ে, তবে গাড়ি ও এর শ্রমিকদের হয়রানি না করে ছেড়ে দিতে হবে। কারণ তারা কেবলমাত্র অর্ডার অনুযায়ী পণ্য পরিবহন করে।
স্মারকলিপিতে শুধু শুঙ্ক এরিয়া নয়, এর বাইরেও কাস্টমস ছাড়কৃত পণ্য নিয়ে সন্দেহ বা অভিযোগ থাকলে তা শুল্ক এরিয়াতে এনে কাস্টমস আইনে ব্যবস্থাগ্রহণ ও বিচারের সুযোগের দাবি জানানো হয়। এতে ব্যবসায়ীরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে।
স্মারকলিপিতে পান আটকের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারে দাবি জানিয়ে বন্দরে বিজিবির অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সাথে দাবি আদায়ে ১৬ এপ্রিল চার ঘণ্টা ও ১৭ এপ্রিল পাঁচ ঘণ্টা কর্মবিরতি ও ১৮ এপ্রিল নুতন কর্মসূচি ঘোষণার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
এদিকে, স্মারকলিপি পেশের পর ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু ও ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম। ##