ভোমরা বন্দরে বিজিবির পণ্য আটক ও তল্লাশির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন


407 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভোমরা বন্দরে বিজিবির পণ্য আটক ও তল্লাশির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন
এপ্রিল ১০, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
তল্লাশি , ওজন ও পণ্য পরিক্ষার নামে হয়রানি করে ভোমরা স্থল বন্দরে আমদানি রফতানি কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তারা এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির কর্মকান্ড বাংলাদেশ শুল্ক আইনের পরিপন্থি বলেও দাবি করেছেন।
রোববার দুপুরে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন ‘ আমরা সরকারের আইন অনুযায়ী যথাযথ রাজস্ব পরিশোধ করে আমদানি রফতানি বানিজ্য করে আসছি।  আইন লংঘন করে অথবা মিথ্যা ঘোষনা দিয়ে কেউ পন্য আনলে  তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনেরও সুযোগ রয়েছে’। অথচ এই নিয়ম লংঘন করে বিজিবি সদস্যরা হামেশাই বন্দর এলাকায় ঢুকে বৈধ পন্য আটক করছেন । এতে তারা  হয়রানি  আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এর ফলে এই বন্দরে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে দুরবর্তী বন্দরে চলে যাচ্ছেন বলে জানান তারা। এতে রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে বলে জানান তারা। এ ছাড়া বিজিবির কারণে ব্যবসায়ীরা ভীতিকর অবস্থায় পড়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে  গত ৭ এপ্রিল আমদানিকৃত ১১ ট্রাক ভর্তি  ৬২৯ বস্তা ভারতীয় পান বিজিবি কর্তৃক আটকের অভিযোগ করে তারা বলেন  ‘ এই পানের বিপরীতে ব্যবসায়ীরা যথাযথ শুল্ক প্রদান করেছেন। বিজিবি তা সত্ত্বেও  এই পান থানায় জমা দিয়ে চার ব্যবসায়ী ও দুই কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির মামলা করেছে’। এতে  ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা কাস্টমসের নজরে এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতো। তিনদিন যাবত অযথা হয়রানি ও আর্থিক ক্ষয় ক্ষতির পর শেষ পর্যন্ত আদালত  শুল্ক যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে মন্তব্য করে ব্যবসায়ীদের  কাছে আটক পান ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।  ব্যবসায়ীরা  এখন ওই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বন্দর এলাকায় ঢুকে আমদানি পণ্য আটকেরও প্রতিবাদ জানান। এসব ব্যাপারে তারা হাইকোর্টের একটি আদেশও দেখান।

এসব দাবি আদায়ে তারা শনিবার কলম বিরতি পালন করেছেন । আজ   চার দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষনা করে তারা বলেন সোমবার এ ব্যাপারে স্মারকলিপি পেশ করে লাগাতার কলম বিরতি পালন করা হবে। ব্যবসায়ীরা বলেন রাজনৈতিক সহিংসতার সময়ে সারাদেশের  বন্দর বন্ধ থাকলেও ভোমরা বন্দরে কর্ম তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়। ব্যবসায়ীদের সততার কারণে এই বন্দরে লক্ষ্যমাত্রার বেশি রাজস্ব প্রতিবছর আদায় হয় বলে জানান তারা। বিভিন্ন সময়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেলেও ভোমরা বন্দর দিয়ে নিয়মিত ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় বাংলাদেশের বাজারে এর দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ব্যবসায়ী নেতারা।  এই বন্দর নিয়েই এখন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে দাবি করে তারা বলেন তারা এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন এবং বন্দর রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান ভোমরা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু ও সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম। এ সময় সাতক্ষীরা শিল্প ও বনিক সমিতির সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু, সাবেক সভাপতি নেছারউদ্দিন, তৌহিদুল ইসলাম , রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী,  মো. আসাদুর রহমান ,হাবিবুর রহমান, জাকির হোসেন, দীপংকর ঘোষ  প্রমুখ ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।