ভোমরা স্থল বন্দরে বিজিবি কর্তৃক দুই শ্রমিক লাঞ্চিত : কর্মচারী ধর্মঘাটে বন্ধ হয়ে গেছে বন্দর


421 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভোমরা স্থল বন্দরে বিজিবি কর্তৃক দুই শ্রমিক লাঞ্চিত : কর্মচারী ধর্মঘাটে বন্ধ হয়ে গেছে বন্দর
অক্টোবর ২৭, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান /নাজমুল হক :
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে বিজিবি কর্তৃক দুই শ্রমিক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছে শ্রমিক-কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। এদিকে, শ্রমিক-কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের সাথে সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশন একাতœতা ঘোষনা করেছে। ফলে বন্দর এলাকায় পন্য খালাসের অপেক্ষায় পন্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ লাইন পড়ে গেছে।

ভোমরা স্থল বন্দর কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক নাজমুল আলম মিলন জানান, বন্দরে সেজুতি এন্টারপ্রাইজের পন্য স্কেলিং করানোর সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ৩৮ বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক মেজর মোজাম্মেল হক শ্রমিক-কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আব্দুর সবুর ও গোলাম রসুলের ওপর চড়াও হয়ে তাদেরকে লাঞ্চিত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের ডাকে তখনই আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতির ঘোষনা করা হয়।Vomra Picture

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির উপ-অধিনায় মেজর মোজাম্মেল হক ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমেকে জানান, পন্য স্কেলিংয়ের সময় বিজিবি’র নোট নেয়ার নির্দেশনা ছিল। সে মোতাবেক সেজুতি এন্টারপ্রাইজের পন্য স্কেলিংয়ের সময় বিজিবি নোট নিচ্ছিল। এ সময় আব্দুস সবুর ও গোলাম রসুল নোট নেয়ার কারন জিজ্ঞাসা করে বিজিবি’র সাথে দুর্ব্যাবহার করে। এতে বিজিবি’র সাথে তাদের বচসা হয়। তবে, লাঞ্চিত করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

স্কেলিংয়ের সময় বিজিবি’র উপস্থিতি ও পরিমাপের নোট নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ভোমরা স্থল বন্দর শুল্ক ষ্টেশনের সহকারী কমিশনার শরীফ আল আমিন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, পন্য পরিমাপের সময় বিজিবিকে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।

ভোমরা স্থল বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক নাসিম ফারুক খান মিঠু দুটি সংগঠনের একযোগে কর্মবিরতির বিষয়টি নিশ্চিতি করে জানান, স্কেলিংয়ের সময় বিজিবি’র উপস্থিতি অনাকাংখিত।

————————————————-

কর্মচারী ধর্মঘাটে বন্ধ হয়ে গেছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর
————————————————-

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধি নাজমুল হক ঘটনাস্থল ঘুরে এসে  জানান,
কর্মচারী ধর্মঘাটের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর। মঙ্গলবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সদস্যরা বন্দরের জিয়ো পয়েন্টে দুই কর্মচারীকে মারপিট করায় কর্মচারী ধর্মঘাটের ডাক দেন কর্মচারী এসোসিয়েশন। ফলে সকাল সাড়ে ১১টায় বন্ধ হয়ে যায় বন্দরের আমদানী রপ্তানি। ভেমরা বন্দর কর্মচারী এসোসিয়েশনের নেতারা জানায়, বিনাকারণে বিজিবি’র সদস্যদের মারপিঠের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘাট অব্যাহত থাকবে। বিজিবি’র স্থানীয় কোম্পানী কমান্ডার সরোয়ার হোসেন মারপিঠের ঘটনা সঠিক নয় দাবী করে জানান, ধর্মঘাট তারা ডেকেছে, তারাই বন্ধ করবে।
ভোমরা সিএন্ডএফ কর্মচারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম মিলন জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় স্থানীয় বিজিবি’র সদস্যরা তাদের উর্দ্বতন কর্মকর্তা আসবে বলে ভারত থেকে গাড়ি আসা বন্ধ করে দেয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় ৩৮ বিজিবির উপ অধিনায়ক মেজর মোজাম্মেল হক পরিদর্শনে এসে ফলের গাড়ি ওজন দিতে বলে। এ সময় ভারতের সীমান্তে দাঁড়ানো একটি ফলের ট্রাক বন্দরের কর্মচারী গোলাম রসুলকে আনার জন্য বলেন। কিন্তু ছাড়পত্র না থাকায় গোলাম রসুল আনতে অস্বীকৃতি জানালে বিজিবির সদস্য জালাল, সরোয়ার তাকে শারিরীকভাবে ঐ কর্মকর্তার সামনে লাঞ্চিত করে। এ এসময় এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে কর্মচারীকে আব্দুস সবুরকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। পরে সিএন্ডএফ এর কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেয় বিজিবি। এ ঘটনায় কর্মচারীরা বিজিবি সদস্যদের বিচারের দাবীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘাট আহবান করে। বিজিবি’র ভোমরা কোম্পানী কমান্ডার সরোয়ার হোসেন জানান, বিজিবি কারোর উপর কোন হামলা করেনি। এ ধরণের কোন ঘটনা এখানে ঘটেনি। কর্মচারীরা নিজেরা ধর্মঘাট ডেকেছে। প্রয়োজনে তারাই আবার ধর্মঘাট তুলে নেবে।
ভোমরা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, বিজিবির সাথে একটি ঘটনায় কর্মচারীরা ধর্মঘাট করেছে। ফলে বন্দরের আমদানী-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।