ভ্যানচালক শাহিনের উপর নৃশংস হামলাকারী নাঈমসহ তিন জন গ্রেফতার


549 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভ্যানচালক শাহিনের উপর নৃশংস হামলাকারী নাঈমসহ তিন  জন গ্রেফতার
জুলাই ১, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান ::

সাতক্ষীরায় সন্ত্রাসীদের ধারালো দায়ের কোপে ভ্যানচালক শিশু শাহিন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ প্রধান সন্দেহভাজন আসামি নাইমুল ইসলাম নাইমসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিদের এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানান। এ সময় উদ্ধার করা হয় ভ্যানসহ চারটি ব্যাটারী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের বাবরালী মোড়লের ছেলে নাইমুল ইসলাম নাইম (২৪), সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার আলাইপুর গ্রামের ভোলাই পাড়ের ছেলে আরশাদ পাড় ওরফে নুনু মিস্ত্রি (৬৫) ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোবিন্দকাটি গ্রামের হামজের আলীর ছেলে বাকের আলী (৪৫)।

প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার নাইমুলসহ অজ্ঞাত আরও তিন জন গোপন সভা করে তারা নাইমুলের মুঠোফোনে থেকে ভ্যান চালক শাহিনকে ফোন দিয়ে বলে আগামী কাল শুক্রবার কলারোয়ায় একটা ভাড়া আছে তুই সকালে কেশবপুর বাজারে চলে আসিস। এ সময় তারা তাকে সাড়ে তিন শত টাকা ভাড়াও দেবে বলে জানায়। সকালে তারা একসাথে শাহীনের ভ্যান যোগে কেশবপুর হাসপাতালের সামনে দিয়ে সরসকাটি চৌগাছা হয়ে ধানদিয়া হামজামতলা মোড়ে এসে ফাঁকা জায়গায় তার ভ্যানটি থামাতে বলে। এরপর তারা তাকে ভ্যানটি দিয়ে শাহীনকে বাড়ি যেতে বলে। এ সম্পর্কে কাউকে কিছু বললে তোকে মেরে ফেলবো হুমকি দেয়। পরে শাহীন ভ্যান দিতে রাজী না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ভ্যানের সিটের উপর লোহার সাথে শাহীনের মাথায় জোরে কায়েকবার আঘাত করে তাকে পাট ক্ষেতে ফেলে দেয়। পরে তারা চার জন ভ্যানটি নিয়ে ঝাউডাঙ্গার উদ্ধেশ্যে রওনা দেয়। ঝাউডাঙ্গা বাজারে এসে তারা প্রথমে বাকের আলীর কাছে চারটি ব্যাটারি ছয় হাজার ২৩৬ টাকায় বিক্রি করে। এরপর তারা কলারোয়া উপজেলার মির্জাপুর মোড়ে গিয়ে আরশাদ পাড় ওরফে নুনু মিস্ত্রির কাছে ভ্যানটি সাত হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করে। পরে তারা সবাই টাকা ভাগাভাগি করে কেশবপুর চলে আসে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর গত দুই দিনে যশোর পুলিশের সহযোগিতায় সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎ মিশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল প্রথমে কেশবপুর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন নাইমুল ইসলাম নাইমের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। এরপর তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ভ্যানসহ তার সহযোগী কলারোয়ার আলাইপুর থেকে নুনু মিস্ত্রিী ও গোবিন্দকাটি থেকে বাকের আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রেসব্রিফিং এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার) ইলতুৎমিশ, বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম প্রমুখ।

##