ভয়ঙ্কর সৌম্য শান্ত তামিম


486 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভয়ঙ্কর সৌম্য শান্ত তামিম
জুলাই ১৬, ২০১৫ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
ওয়ানডে ম্যাচ হারার তো কত রকম ধরন থাকে। গতকাল বাংলাদেশের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার হারের ধরনটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। টাইগাররা যেন লেজে খেলিয়ে বলে বলে হারাল আফ্রিকান সিংহদের। গতকাল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৯ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। ফলে সম্পূর্ণ আধিপত্য নিয়ে ২-১-এ ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে মাশরাফির দল। অথচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে কিন্তু জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এমনকি দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজও জিতেছিল তারা। এসব দেখে সৌম্য-তামিমরে ওপর থেকে যারা আস্থা হারিয়েছিলেন, তাদের গতকাল দেখিয়ে দিলেন সত্যি সত্যি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিবাচকভাবে রূপান্তরিত হয়ে গেছে, যার প্রমাণ সৌম্য-তামিম ওপেনিং জুটির ১৫৪ রান। বাংলাদেশের পক্ষে এ নিয়ে ১০টি ওয়ানডেতে ওপেন করেছেন তারা। শতরানের জুটি গড়েছেন তিনটি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গতকাল ১৫৪ রানের জুটিটি ছিল ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের রেকর্ড। সৌম্য ৯০ রান করে ইমরান তাহিরের বলে আউট হন। ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম ইকবাল, যিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গত দুই ম্যাচে রান করতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে কোনো রান করতে পারেননি তামিম। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ রান করে আউট হন। সৌম্য অবশ্য প্রথম ম্যাচে ২৭ রান করেছিলেন। এরপর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে করেন অপরাজিত ৮৮ রান। গতকাল ৭৫ বলে অনবদ্য ৯০ রানের ইনিংস খেলেন সৌম্য। ওপেনিং জুটিই বাংলাদেশের ৯ উইকেট জয়ের ভিত গড়ে দেয়। বাংলাদেশ ২৬.১ ওভারেই টার্গেটে পেঁৗছে যায়।

এই নিয়ে ঘরের মাঠে টানা তিনটি সিরিজ জয় করেছে মাশরাফির দল। প্রথম সিরিজে তারা পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। পরের সিরিজে ভারতকে ২-১-এ হারায়। গতকাল তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ হারাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। কী অনায়াস জয়। ম্যাচের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের চৌধুরী জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। টস জিতেছিলেন হাশিম আমলা। তার আগে ব্যাট নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করতে বেশি সময় নেননি বাংলাদেশের বোলাররা। দ্বিতীয় ওয়ানডের মতো গতকালও প্রোটিয়া ওপেনার কুইন্টন-ডি-কককে বোল্ড করেন নতুন বিস্ময় মুস্তাফিজুর রহমান। সফরকারীদের স্কোরবোর্ডে রান তখন মাত্র ৮। এরপর দলীয় ১৯ রানে ডু প্লেসিস ফিরে যান সাকিবের বলে। সাকিবের দ্বিতীয় শিকার অধিনায়ক হাশিম আমলা। দক্ষিণ আফ্রিকার দলীয় রান ৫০ হতেই রুশোর উইকেট তুলে নেন মাহমুদুল্লাহ। ২৩ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার রান যখন ৪ উইকেটে ৭৮, তখনই বৃষ্টি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়। বৃষ্টি থামলে খেলা নেমে আসে ৪০ ওভারে। জেপি ডুমিনি হাফ সেঞ্চুরিতে ৪০ ওভারে ১৬৮ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। তামিম আর সৌম্যর অনবদ্য যুগলবন্দিতে অনায়াসে টার্গেট টপকে যায় বাংলাদেশ।