ভয়েস অব সাতক্ষীরায় সংবাদ প্রকাশের জের : ভালুকা চাঁদপুর কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল


552 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভয়েস অব সাতক্ষীরায় সংবাদ প্রকাশের জের : ভালুকা চাঁদপুর কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

এম কামরুজ্জামান ::
সাতক্ষীরার ভালুকা চাঁদপুর আদর্শ ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে ভয়েস অব সাতক্ষীরায় রিপোর্ট প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গত ১৩ ডিসেম্বর “ভালুকা চাঁদপুর ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ : দর উঠেছে ২০ ! ” শিরোনামে ভয়েস অব সাতক্ষীরায় প্রকাশিত খবরটি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, স্থানীয় এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবির দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি বিতর্কীত ওই অধ্যক্ষ নিয়োগ বোর্ড বাতিল করে দিয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভায় গত ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পুন:রায় অধ্যক্ষ নিয়োগ বোর্ড গঠন করে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ওই সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সভায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (জামায়াত নেতা) মুরাদুল হককে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তিনি আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর আর দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। একই সাথে ওই কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিজন মিত্র কে আগামী ১ জানুয়ারী থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছে।

কলেজ পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য এসব তথ্য ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে নিশ্চিত করেছেন।

সভা শেষ হওয়ার পর শনিবার দুপুরে এই প্রতিবেদক কলেজ অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা মুরাদুল হকের সাথে এ প্রসঙ্গে কথা বলার  জন্য তার সেল ফোনে রিং করেন। এ সময় তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক পর্যায় ফোন কেটে দেন।

জামায়াত নেতা মুরাদুল হক ভালুকা চাঁদপুর কলেজ অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর অবসরে যান। এর পর কলেজ পরিচালনা কমিটি ওই জামায়াত নেতাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বভার দেন। তিনি নিজের লেবাস গোপন করে অপর জামায়াত প্রার্থীকে সুকৌশলে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার জন্য সহযোগিতা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  মোসলেম নামের এক প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাকে নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা চালিয়েছেন  বলেও রয়েছে অভিযোগ।

বর্তমান সময়ে একজন জামায়াত নেতাকে কিভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাীয়ত্বভার দেওয়া হলো তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

dsc038

প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরার ভালুকা চাঁদপুর আদর্শ ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে চলে রিতিমত দর কষাকষি। গত ২৫ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষনা করা হয়নি নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল। কে কত টাকা দিতে পারে সেজন্য চলে রফাদফা, প্রতিযোগিতা। গরুর হাটে গরু বিক্রির মতো যেনো পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে অধ্যক্ষ পদে দর ওঠে ২০ লাখ টাকা ! তার পরেও থেমে ছিলনা রফাদফা। দেখি না, আরও কিছু দর ওঠে কি-না। সেই অপেক্ষায় ছিল রাঘববোয়ালরা।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (জামায়াত নেতা) মুরাদুল হক ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, নিয়োগ বোর্ডে কলেজের সভাপতি সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবিসহ নিয়োগ বোর্ডের ৫ সদস্যের সবাই উপস্থিত ছিলেন।

আর নিয়োগ বোর্ডের ডিজি প্রতিনিধি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ লিয়কত পারভেজ ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, কলেজ সভাপতি নিয়োগ বোর্ডে হাজির ছিলেন না। কলেজ সভাপতির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন এমপি সাহেবের নিকট আত্মীয় সৈয়দ হায়দার আলী তোতা ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি বয়েরা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো: মনজুরুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ বোর্ডে কলেজ সভাপতি (এমপি সাহেব ) উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে, প্রার্থীরা জানায় নিয়োগ বোর্ডে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুরাদুল হক, ডিজি প্রতিনিধি অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি খুলনা বয়েরা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মুনজুরুল ইসলাম ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। অর্থাৎ ৫ সদস্যের নিয়োগ বোর্ডের ৩ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কলেজ সভাপতিসহ ২ জন সদস্য নিয়োগ বোর্ডে হাজির ছিলেন না।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, ভালকা চাঁদপুর আদর্শ কলেজে অধ্যক্ষ পদে গত ১৯ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে সেদিন পরীক্ষা হয়নি। পরবর্তীতে গত ২৫ নভেম্বর সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যক্ষ পদে মোট ১৩ জন আবেদন করেন। এরমধ্যে ১০ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন ৬ জন প্রার্থী।

নিয়োগ পরীক্ষার আগে থেকেই নানা গুঞ্জুন শুরু হয়। আর পরীক্ষার পরে শুরু দরকষাকষি। কে কতো টাকা বেশি দিতে পারে সেই প্রতিযোগিতা যেনো  চলছে। এখনও শেষ হয়নি।

আর এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন মোশলেম নামের এক প্রার্থী। নৌকা বইচের মতো যে কোন সময় তাকে ছড়িয়ে অন্য প্রার্থী এগিয়ে যেতে পারেন। অধ্যক্ষ পদে দর উঠেছে ২০ লাখ টাকা !

বিষয়টি নিয়ে গত ১৩ ডিসেম্বর ভয়েস অব সাতক্ষীরায় একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শুরু হয় নানা মহলে তোলপাড়।

ভয়েস অব সাতক্ষীরায় প্রকাশিত খবর নিয়ে নানা মহলে যখন আলোচনা ঠিক সেই সময় কলেজের পরিচালনা কমিটির সভায় বাতিল হলো বিতর্কীত ওই নিয়োগ বোর্ড।